বিএনপিকে ‘আন্ডারগ্রাউন্ড পার্টি’ আখ্যায়িত করে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মাঠে রয়েছে বলেই বিএনপি-জামায়াত সন্ত্রাসীরা রাজধানীসহ কোথাও সুবিধা করতে পারছে না। তাই তারা চোরাগুপ্তা হামলা করে। বিএনপি এখন সর্বহারা পার্টির দিকে যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২ নভেম্বর) বিকালে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, আগের দিনে সর্বহারা পার্টি, কিছু আন্ডারগ্রাউন্ড পার্টি এই চোরাগুপ্তা হামলাগুলো চালাতো। বিএনপিও এখন সে দিকে যাচ্ছে। বিএনপি এখন মৃত্যুর দিকে এগিয়ে গেছে। হারিয়ে যাওয়ার পথে রয়েছে। তাদের হারিয়ে যেতেই হবে।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, সাপকে বিশ্বাস করা যায় কিন্তু বিএনপি-জামায়াতকে বিশ্বাস করা যায় না। কারণ ফখরুল বলেছিলেন- তারা শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করবে। দেশের মানুষ সাক্ষী রয়েছে- গত ২৮ অক্টোবর তারা কী পৈশাচিকভাবে পুলিশ, দায়িত্বরত সাংবাদিক এবং আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের গায়েও হামলা চালিয়েছে। শুধু তাই নয়, বিএনপির সমাবেশ থেকে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের গাড়িতে আগুন দিয়েছে।
নানক বলেন, আসলে ‘ইল্লত (ময়লা) যায় না দইলে (ধুইলে), খাইসলত (অভ্যাস) যায় না মইলে (মরলে)’। সেদিন আওয়ামী লীগের শান্তির সমাবেশে পাঁচ লাখ নেতাকর্মী উপস্থিত ছিল। তারা যদি একটা চিৎকার দিয়ে বিএনপির সমাবেশের দিকে রওনা হতো তাহলে সেদিন ঢাকা শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হতো। কিন্তু নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণ ছিলেন, সেজন্য ধন্যবাদ জানাই।
তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জের আগুন সন্ত্রাসীদের গুলশানের একটি প্রাইভ স্টার হোটেল থেকে গ্রেফতার করেছে। শুধু তাই নয়, উন্নত মানের হাসপাতালগুলোতে বিএনপির অনেক পলাতক নেতাকর্মী আত্মগোপনে রয়েছে। হাসপাতালগুলোতে কারা রয়েছে? কি জন্য রয়েছে তার খবর নিতে হবে। বিএনপি'র যে সকল সন্ত্রাসী যেখানেই পালিয়ে আছে পুলিশকে খবর দিয়ে তাদেরকে ধরিয়ে দিতে হবে।
গণতন্ত্রের ভাষা ওরা বুঝে না উল্লেখ করে নানক বলেন, গণতন্ত্র ভেদ করে বিএনপি দেশে অগণতান্ত্রিক একটি সরকার কায়েম করতে চায়। কিন্তু বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগ ও আমাদের সেনাপতি শেখ হাসিনাকে কোনও আন্তর্জাতিক মোড়লের বাঁকা চোখ দেখিয়ে লাভ নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এগুলো পরোয়া করেন না।
আগামী নির্বাচন পর্যন্ত নেতাকর্মীদের মাঠে থাকার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এই সদস্য বলেন, আগামী ৪ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ জনসভায় ১০ লাখ লোক জমায়েত করতেই হবে। সকলকে ঐক্যবদ্ধ করে সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে জনসভায় হাজির হতে হবে।
মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, ঢাকা উত্তরের সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচিসহ মহানগর নেতারা।








