সংলাপে কৌশলী আওয়ামী লীগ, পর্যবেক্ষণে বিএনপি

সালমান তারেক শাকিল ও মাহফুজ সাদি
০৫ জুলাই ২০২৩, ২২:০০আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২৩, ১৫:৩১

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সর্বসম্মত নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সংলাপ নিয়ে রাজনীতির অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। দৃশ্যত এসব আলোচনায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দলীয় অবস্থানে অনড় থাকলেও দেশি-বিদেশি চাপে শেষ মুহূর্তে সংলাপের টেবিলে উভয় দলের দেখা হবে বলে দুই দলের নেতারা মনে করছেন। এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে ‘নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের শর্ত’— পুরোপুরি নাচক করে দিলেও ভেতরে-ভেতরে পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের মধ্যে পর্যালোচনা শুরু হয়েছে গুরুত্বের সঙ্গে। পাশাপাশি বিএনপিসহ অন্যান্য বিরোধী দলও পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছে।

কৌশলী আওয়ামী লীগ

সংলাপ নিয়ে বিএনপির অবস্থানে অস্পষ্টতা থাকায় এবারের দৃশ্যপটে ভিন্ন কৌশলে এগোচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দলটির নীতিনির্ধারক কয়েকজন নেতা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, নির্বাচন সামনে রেখে পশ্চিমা দেশগুলোর সৃষ্ট চাপ আসলে নিতে হচ্ছে সরকারি দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে। র‌্যাবের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে সেভাবে চিন্তা করতে না হলেও এখন নতুন ভিসানীতি নিয়ে ভাবতে হচ্ছে।

ক্ষমতাসীন দলের নেতারা মনে করেন, পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতিনিধিরা সংলাপের ওপর জোর দিচ্ছে। নির্বাচন যত কাছে আসবে, সংলাপের বিষয়টি আরও জোরালোভাবে সামনে আসবে। সে কারণে সংলাপ ইস্যুতে ইতিবাচক অবস্থান নিয়ে এগোচ্ছে সরকার ও আওয়ামী লীগ বলে জানান দলটির নেতারা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের দুই জন প্রেসিডিয়াম সদস্য ও একজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, আওয়ামী লীগের ভেতরে সংলাপ নিয়ে আলোচনা আছে এবং সেটি পজিটিভ (ইতিবাচকভাবেই) রয়েছে। দলের সিনিয়র একাধিক নেতা বিষয়টি বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ্য সভায় বলেছেনও। তবে সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সংলাপ নিয়ে ভিন্ন কথা বলছেন। কারণ, দলের ভেতরে সংলাপের বিষয়টি থাকলেও বাইরে সেটি এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না। বিএনপির পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া আসলেই আওয়ামী লীগও ইতিবাচক অবস্থানের জানান দেবে। তার আগে সংলাপের দায়িত্ব নিতে চাইছে না ক্ষমতাসীনরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি তো সংলাপের কোনও আলোচনা দেখছি না। এগুলো রাজনীতির মাঠে নিজেদের টিকিয়ে রাখতে আলোচনা হয়। এগুলো মূল্যহীন কথাবার্তা, কোনও গুরুত্ব নেই।’

যদিও বুধবার (৫ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের সঙ্গে ঢাকায় সফররত যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য-বিষয়ক মন্ত্রী নাইজেল হাডলস্টন সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সংলাপের প্রসঙ্গটিও সামনে আনেন। বৈঠকের পরে সালমান এফ রহমান বলেন, ‘নির্বাচন হবে সংবিধান মোতাবেক। বিএনপি এই দাবি মেনে নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিলে তাদের সঙ্গে সংলাপ হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যু উচ্চ আদালত বাতিল করেছে। তাই এটা নিয়ে বিএনপির সঙ্গে কোনও সংলাপ হবে না।’

এর আগে গত ৬ জুন এক সমাবেশে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু বিএনপির সঙ্গে মুখোমুখি বসে আলোচনার প্রসঙ্গটি সামনে আনেন। এ নিয়ে আলোচনা শুরু হলে একদিন পর ৭ জুন দলের আলোচনা সভায় আমু বলেন, ‘আলোচনার জন্য কাউকে বলা হয় নাই, কাউকে দাওয়াত দেওয়া হয় নাই। কাউকে আহ্বান করা হয় নাই।’

এ বিষয়ে বুধবার (৫ জুলাই) জানতে চাইলে আমির হোসেন আমু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সংলাপের বিষয়ে এখন আমি কোনও কথা বলবো না।’

গত ২২ মার্চ মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের আমন্ত্রণে তার বাসায় মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন আওয়ামী লীগের উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল

 

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সংলাপের স্পেস নেই। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। এটা আমাদের অঙ্গীকার। গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে হবে। আওয়ামী লীগের অবস্থান হলো, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা। দলের ভেতরে-বাইরে সংলাপের ব্যাপারে কোনও আলোচনা নেই। কেউ কেউ ব্যক্তিগতভাবে সংলাপ নিয়ে কথা বলতে পারেন, সেটি নিয়ে আমাদের দলীয় কোনও বক্তব্য নেই।’

গত ৭ জুন আরেকটি অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘বিএনপির সঙ্গে আমাদের আলোচনার বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নিইনি। আমাদের দেশে আমরা আলোচনা করবো। এটা নিজেদের সমস্যা, নিজেরাই সমাধান করবো। বিগত নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী সংলাপের আহ্বান করেছিলেন।’

আওয়ামী লীগের সূত্রমতে, প্রধানমন্ত্রীর  একজন উপদেষ্টা, একাধিক মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে সম্প্রতি পৃথক বৈঠকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত নির্বাচন নিয়ে আলোচনায় সংলাপের বিষয়টি তুলেছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দূত ও প্রতিনিধির সঙ্গেও বৈঠকে সংলাপ ইস্যু এসেছে। এ ক্ষেত্রে জোর দেওয়া হয়েছে— সংবিধান অনুযায়ী এবং বিদ্যমান ব্যবস্থার মধ্যে থেকেই আওয়ামী লীগ সংলাপ চায়। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে কূটনীতিকদের ‘নির্বাচনকালীন সরকার বা তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে সংলাপের কথা’ বলায় বিষয়টি ঝুলে আছে।

কূটনীতি নিয়ে কাজ করেন আওয়ামী লীগের এমন একটি সূত্র দাবি করেছে, এ মাসে ঢাকা সফরে আসা যুক্তরাষ্ট্র, ইইউ’র প্রতিনিধিরা সংলাপের বিষয়টি জোরালোভাবে তুলতে পারেন। সেক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া যুক্তি অনুযায়ী, দলের অবস্থান স্পষ্ট করা হবে। তাদের সঙ্গে বিএনপির বৈঠকে সংলাপের ইতিবাচক সাড়া আসলে আলোচনার পথে হাঁটবে আওয়ামী লীগও। তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতায় সেই আলোচনা বা সংলাপ হতে পারে। 

সরকারি দলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, যুক্তরাজ্যের ওয়েস্টমিনস্টারের গণতন্ত্র অনুসরণ করে ‘সংসদীয় দলগুলোকে নিয়ে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা যেতে পারে’ বলে সম্প্রতি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এটি নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে সরকার ও আওয়ামী লীগের অবস্থান। বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ হতে পারে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার বিষয়ে। এর বাইরে আলোচনায় যেতে রাজি নয় আওয়ামী লীগ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সংলাপ নিয়ে নানাভাবে আলোচনা হচ্ছে, এটা ঠিক। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে সংলাপে বসার সময় এখনও আসেনি। পরিস্থিতি ডিমান্ড করলে অবশ্যই সংলাপ হবে। এ ক্ষেত্রে বিএনপির কাছ থেকেও তো পজিটিভ সাড়া আসতে হবে।

কেবল নির্দলীয় সরকার ইস্যুতেই সংলাপের পক্ষে বিএনপি, আছে নানা শর্ত

নির্বাচন ইস্যুতে সরকারের সঙ্গে সংলাপ নিয়ে বিএনপি এ যাবত নেতিবাচক অবস্থান ব্যক্ত করলেও দলটির শীর্ষ নেতাদের মধ্যে ভেতরে ভেতরে আলোচনা আছে। আলোচনা যেহেতু দলীয় সর্বোচ্চ ফোরামে পর্যালোচনা হয়নি— সে কারণে নেতারা দলের সম্ভাব্য নতুন নীতি কী হবে, তা এখনই বলতে পারছেন না।

বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপকালে বিএনপির কয়েকজন স্থায়ী কমিটির সদস্য উল্লেখ করেন, বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার, মামলা-হয়রানি এখনও অব্যাহত আছে, বহু কর্মী জীবন দিয়েছেন, সিনিয়র নেতারাসহ সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা চলমান। সাজাও হচ্ছে অনেক মামলায়। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শর্তসাপেক্ষে মুক্তি— এসব কিছু মিলিয়ে সংলাপের পরিবেশ অনুপস্থিত। এসব কারণ বিদ্যমান রেখে সংলাপ হবে কিনা— এ বিষয়ে ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকেই উদ্যোগ নিতে হবে।

বিএনপির একজন প্রভাবশালী দায়িত্বশীল বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, দেশি-বিদেশি চাপে শেষ পর্যন্ত সংলাপ হবে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয়পক্ষকেই সংলাপের প্রতি জোর দেবে তারা। সেক্ষেত্রে কোনও পক্ষ যদি বসতে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে এর ক্ষতির রেশ আরও বহুদিন থেকে যাবে। একইসঙ্গে সরকার যদি সংলাপ ইস্যুতে মনোযোগ না দেয়— তাহলে যে ক্ষতি হবে, তা ভবিষ্যৎ আওয়ামী লীগও পূরণ করতে পারবে না।

দায়িত্বশীল এই সূত্র জানায়, সংলাপের কোনও শর্ত হবে না। শুধু নির্বাচনকালীন সরকার ইস্যুতে আলোচনা হবে— সরকারের পক্ষ থেকে এরকম আহ্বানই পরিবেশ সৃষ্টির জন্য যথেষ্ট।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে বিএনপির মহাসচিব

এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সংলাপ করার জন্য পরিবেশ তৈরি করতে হবে। তাদের সঙ্গে আমরা অতীতে সংলাপ করেছি। সেই অভিজ্ঞতা খুব খারাপ। শেখ হাসিনা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি সেই কথা রাখেননি।’

সংলাপের সম্ভাবনার বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ আরও বলেন, ‘সংলাপে যেতে পারি, যদি কেয়ারটেকার সরকারের প্রসেস কী হবে, সেটা নিয়ে যদি আলোচনা হয়। সংবিধানের কোনও দোহাই আমরা মানবো না। সংলাপের প্রি কন্ডিশন প্রস্তুত করতে হবে। শেখ হাসিনার অধীনে কোনও নির্বাচনে যাবো না। এটি খুব সত্যি যে, স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্ম ছিল রাজপথ থেকে। হারিয়ে যাওয়া গণতন্ত্রও রাজপথের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ফিরে আসবে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা সংলাপ নিয়ে চিন্তা করছি না। কারণ, আমরা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেও প্রধানমন্ত্রীর ডাকে সংলাপে গিয়েছিলাম। তখনও কোনও প্রতিশ্রুতি রাখা হয়নি। অতীতের অভিজ্ঞতার আলোকে বলতে হচ্ছে, আমরা এখনও চিন্তা করছি না। তবে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার ইস্যু ছাড়া এর বাইরে অন্য কিছু নিয়ে আলোচনার কোনও সুযোগ দেখছি না।’

সমমনাদের নজর বিএনপির ওপর, আগে চায় সরকারের পদত্যাগের ঘোষণা

সরকার পতনের আন্দোলনে যুক্ত বিএনপির সমমনা রাজনৈতিক দলগুলো সংলাপ নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে। কোনও কোনও নেতা মনে করেন, যেকোনও কৌশলেই বিএনপিকে আলোচনার টেবিলে নিতে চায় আওয়ামী লীগ। আর এ কারণে বিএনপিকে সতর্ক করতে এরইমধ্যে ‘ইঙ্গিত’ চালাচালি শুরু হয়েছে।

কোনও কোনও নেতা এখনও সংলাপ নিয়ে স্পষ্ট কিছু দেখছেন না। তাদের কেউ কেউ মনে করেন, সরকারের সঙ্গে সংলাপের কোনও প্রশ্নই ওঠেনি। কারণ, আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে কোনও সংলাপের সুযোগ নেই।

বুধবার (৫ জুলাই) গণতন্ত্র মঞ্চের বৈঠক হয়েছে। সেই বৈঠক থেকেও মঞ্চ উল্লেখ করেছে, সরকারের পদত্যাগ ও অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিলেই কেবল  সরকার ও সরকারি দলের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ রয়েছে। এর আগে সরকার ও সরকারি দলের কোনও ফাঁদেই বিরোধী দলগুলোর পা দেওয়ার কোনও অবকাশ নেই।’

এ প্রসঙ্গে মঞ্চের সমন্বয়ক সাইফুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের অবস্থান এখনও এই অবস্থার মধ্যেই আছে। অন্য কিছু বিবেচনায় নিচ্ছি না। সরকার নিশ্চয়ই নানা অপশন নিয়ে তৎপরতা দেখাবে। তাদের কোনও ফাঁদেই পা দেওয়ার অবকাশ নেই।’

বৈঠকে গণতন্ত্র মঞ্চের নেতারা মঞ্চের আরেক নেতা দাবি করেন, সংলাপ ইস্যুতে বিএনপিকে সতর্ক করতেই গণতন্ত্র মঞ্চ সংলাপ নিয়ে পরিষ্কার মতামত প্রকাশ করেছে।

মঞ্চের অপর এক গুরুত্বপূর্ণ নেতা বলেন, ‘আমেরিকা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাতিসংঘের প্রতিনিধি দলের বাংলাদেশ সফর রয়েছে এ মাসে। সংলাপের বিষয়টি তাদের সফরের সময় প্রাসঙ্গিক হবে। তারা নানা প্রপোজাল নিয়ে মুভ করবে। সেদিক থেকেও বিএনপিকে সতর্ক করা হচ্ছে।’

চলতি জুলাইয়ে জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দল ঢাকা আসছে। বিএনপি এসব সফরকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছে বলে মঞ্চের একাধিক নেতার দাবি।

যদিও কূটনৈতিক সূত্রগুলো বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছে, বাইরের প্রতিনিধি দলের সফরগুলো অনেকটাই আগে থেকে নির্ধারিত। জাতিসংঘের প্রতিনিধি দল মানবাধিকার বিষয়টি নিয়ে খোঁজ-খবর নেবে। কনসার্নদের সঙ্গে বৈঠক করবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের কাছে রোহিঙ্গা ইস্যুটি প্রধান হিসেবে বিবেচনায় রয়েছে। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দলের সফরে আগামী নির্বাচনে পর্যবেক্ষক দল পাঠানো ও এর অগ্রিম পরিস্থিতি ও বাস্তবতা নিরীক্ষা করার বিষয়টি উল্লেখযোগ্য। 

এ বিষয়ে গণতন্ত্র মঞ্চের অন্যতম শীর্ষনেতা মাহমুদুর রহমান মান্নার ভাষ্য— সংলাপ নিয়ে পরিস্থিতি এখন ক্লিয়ার না। সংলাপের আগে এই সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে। তারপর ডায়ালগের প্রশ্ন। এই সরকার নিয়ে নির্বাচন ও নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে আলোচনার সুযোগ নেই।’

আরও পড়ুন:

সংলাপ নিয়ে আওয়ামী লীগ-বিএনপির ভেতরে-বাইরে যা চলছে

/এপিএইচ/
সম্পর্কিত
যুবদলের ১৫১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদন
থানার ভেতরে আটকে বিএনপি নেতাকে মারলো কারা?
আদালতে আত্মসমর্পণের পর কারাগারে আওয়ামী লীগের ১৪ নেতা
সর্বশেষ খবর
এক দিনেই ৭০০ তিমি ও ডলফিন হত্যা
এক দিনেই ৭০০ তিমি ও ডলফিন হত্যা
দিল্লীতে আগুনে ৮ বাংলাদেশি আহত, গুরুতর অবস্থা তিন জনের
দিল্লীতে আগুনে ৮ বাংলাদেশি আহত, গুরুতর অবস্থা তিন জনের
ফুল দিয়ে ড. খলিলুর রহমানকে বরণ
ফুল দিয়ে ড. খলিলুর রহমানকে বরণ
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বন্ধ কলকারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভা
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বন্ধ কলকারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভা
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান