দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে ১৪ দলের শরিক দলগুলোর সঙ্গে আসন বণ্টন নিয়ে মোটামুটি সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে আওয়ামী লীগ। তবে দীর্ঘ দিনের মিত্র জাতীয় পার্টির সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠকের পরও আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করতে পারেনি দলটি। ফলে রবিবার (১৭ ডিসেম্বর) মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন সামনে রেখে শনিবার (১৬ ডিসেম্বর) রাতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে দুই দফা বৈঠকে বসেছেন আওয়ামী লীগের নেতারা।
আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে প্রথম বৈঠকটি হয় বিকাল সাড়ে ৫টায়, যা চলে দেড় ঘণ্টার মতো। দ্বিতীয় বৈঠকটি শুরু হয় রাত পৌনে ৯টায়, আর শেষ হেয় রাতে সাড়ে ১০টায়। তবে বৈঠকের বিষয়ে কোনও নেতাই কথা বলতে রাজি হননি।
জানা গেছে, দফতর সম্পাদকের কক্ষে অনুষ্ঠিত দুটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকই নেতৃত্বে দেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। প্রথম বৈঠকে ওবায়দুল কাদের ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম অংশ নেন। দ্বিতীয় বৈঠকে ওবায়দুল কাদের, সালমান এফ রহমান, বিএম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজমের সঙ্গে যুক্ত হন দলের দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ, কার্যনির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ এ আরাফাত ও উপ-দফতর সম্পাদক সায়েম খান।
দলীয় সূত্র জানায়, উভয় বৈঠকেই আলোচনার মূল বিষয় ছিল শরিক ও মিত্র দলগুলোর সঙ্গে আসন সমঝোতা। এর আগে ১৪ দলের শরিক দলগুলোকে ৭টি আসনে ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে আওয়ামী লীগ। তা নিয়ে অসন্তোষ দেখা দেওয়ার মধ্যেই জতীয় পার্টির (জাপা) সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে এ পর্যন্ত পাঁচ দফা বৈঠক হয়েছে। জাতীয় পার্টি ৪০টি আসনে ছাড় চাইলেও ২৬টির বেশি দিতে রাজি নয় আওয়ামী লীগ। এ নিয়ে চলছে নানামুখী আলোচনা।
এর আগে মঙ্গলবার (১২ ডিসেম্বর) রাতে বনানীর একটি বাড়িতে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির নেতাদের মধ্যে সবশেষ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ও সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম অংশ নেন। তাদের সঙ্গে জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু প্রায় আড়াই ঘণ্টা বৈঠক করেন।
গত ৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে বৈঠক করেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের, কো-চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু। পরদিন ৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় আবারও গণভবনে যান জি এম কাদের, আনিসুল ইসলাম মাহমুদসহ ছয় জন কো-চেয়ারম্যান ও মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু। ওই দিন আওয়ামী লীগের এক নেতার গুলশানের বাসায় দলটির হাফ ডজন নেতার সঙ্গে বৈঠক করেন জাতীয় পার্টির দুই নেতা। আওয়ামী লীগের সভাপতি ও দলটির নেতাদের সঙ্গে জাতীয় পার্টির নেতাদের এসব বৈঠক নিয়েও সরাসরি কিছু জানায়নি দল দুটি।









