X
বৃহস্পতিবার, ০২ মে ২০২৪
১৮ বৈশাখ ১৪৩১

‘বঙ্গবন্ধু এসে আমাদের উদ্ধার করলেন’

সালমান তারেক শাকিল
১৫ আগস্ট ২০১৭, ১৬:০৩আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০১৭, ১৮:০৫

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে  সাক্ষাতের ঘটনার কথা এখনও স্পষ্ট মনে আছে বলে জানালেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য, জাতীয়তাবাদী ঘরানার বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ। তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে  প্রথম দেখা ১৯৫৪ সালে। তখন আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। ওই বছরের জানুয়ারিতে ফজলুল হক হলের ভিপি নির্বাচিত হয়েছি। ওই নির্বাচনের সময় তাজউদ্দীন ভাই ফজলুল হক হলের ছাত্র ছিলেন। থাকতেন ১২ নম্বর রুমে। ওই রুমে আমি বঙ্গবন্ধুকে দেখেছি। তার সঙ্গে কথা হয়েছে।’ সোমবার (১৪ আগস্ট) বাংলা ট্রিবিউনের কাছে স্মৃতিচারণকালে  তিনি এসব কথা  বলেন। সাক্ষাৎকারটি এখানে হুবহু তুলে ধরা হলো।

বাংলা ট্রিবিউন: বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে পরিচয় কিভাবে?

অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ:  আমি তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। ১৯৫৪ সালের জানুয়ারিতে ফজলুল হক হলের ভিপি নির্বাচিত হয়েছি। ওই নির্বাচনের সময় তাজউদ্দীন ভাই ফজলুল হক হলের ছাত্র ছিলেন, ১২ নম্বর রুমে থাকতেন।

বাংলা ট্রিবিউন: ওই সময় আপনি কি ছাত্র ইউনিয়ন করতেন?

অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ (ছবি: সংগৃহীত)

অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ: না, ওটা সাংগঠনিক রূপ ছিল না। সংস্কৃতি সংঘ টাইপের কিছু ছিল। দলীয়ভাবে শক্তিশালী হয়নি। তখন তাজউদ্দীন ভাইয়ের রুমে এসে বঙ্গবন্ধুকে দেখেছি আমি। কথা হয়েছে।

বাংলা ট্রিবিউন: এরপর কখনও বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়নি আপনার?

অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ:  এরপর হয়েছে অনেক পরে এসে, ১৯৭২ সালের ২০ জুলাই। তারিখটা মনে আছে, এ কারণে যে ওটা আমার বড় মেয়ের জন্মদিন ছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য তখন অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ছিলেন অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক। এই দুজনেই আমার শিক্ষক। তো সকাল ৯ টার দিকে অফিস গিয়ে শুনি, রাজ্জাক সাহেব বলছেন, ছাত্ররা উপাচার্যকে ঘেরাও করেছেন। ফাইনাল ইয়ারের ছাত্ররা, মুক্তিযুদ্ধ করে এসেছে। তখন পরীক্ষা পেছানোর দাবি ছিল ওদের। ওই সময় অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক ও আমি উপাচার্যের কক্ষে ঢুকলাম। ঢুকেই তো আটকা পড়ে গেলাম।

বাংলা ট্রিবিউন: এরপর?

অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ: সকাল ৯/ সাড়ে নটা থেকে শুরু সন্ধ্যা প্রায় সাড়ে ৭/৮ পর্যন্ত আটকা আমরা সবাই। আর রাজ্জাক সাহের শরীর খারাপ ছিল। জুলাই মাস, প্রচণ্ড গরম ছিল। ছাত্ররা পানির লাইন ও টেলিফোনের লাইন কেটে দিয়েছিল। তখন বাংলা বিভাগের অধ্যাপক রফিকুল ইসলামকে কায়দা করে বাইরে পাঠিয়ে দিয়ে প্রথম তাজউদ্দীন সাহেব দিয়েই চেষ্টা করা হলো। তাকে অনুরোদ করা হলো,  তারা যদি কেউ আসেন, তাহলে আমরা মুক্ত হব। তো, তাজউদ্দীন আহমদ বললেন, আমি পারব না, বঙ্গবন্ধুকে জানাচ্ছি। এরপর বঙ্গবন্ধু রাত সাড়ে আটটার দিকে স্ট্রেইট চলে এলেন উপাচার্যের অফিসে। তিনি এসেই ছাত্রদের উদ্দেশে বললেন, ‘সব সরে যা’। এরপর মোজাফফর আহমদ, আবদুর রাজ্জাকসহ আমাদের উদ্ধার করলেন। এই দু’টিই হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আমার বিশেষ স্মৃতি।

/এমএনএইচ/

 

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
ইজিবাইক ছিনতাইয়ের সময় স্থানীয়দের পিটুনিতে একজনের মৃত্যু
ইজিবাইক ছিনতাইয়ের সময় স্থানীয়দের পিটুনিতে একজনের মৃত্যু
স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে শ্রমিকরাও অংশীদার হবে: এমপি কামাল
স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে শ্রমিকরাও অংশীদার হবে: এমপি কামাল
মোস্তাফিজের শেষ ম্যাচে চেন্নাইয়ের হার
মোস্তাফিজের শেষ ম্যাচে চেন্নাইয়ের হার
তীব্র তাপপ্রবাহ যেখানে আশীর্বাদ
তীব্র তাপপ্রবাহ যেখানে আশীর্বাদ
সর্বাধিক পঠিত
শিশু ঝুমুরকে ধর্ষণ ও হত্যার বর্ণনা দিতে গিয়ে চোখ মুছলেন র‌্যাব কর্মকর্তা
শিশু ঝুমুরকে ধর্ষণ ও হত্যার বর্ণনা দিতে গিয়ে চোখ মুছলেন র‌্যাব কর্মকর্তা
‘মানুষের কত ফ্রেন্ড, কাউকে পাশে পাইলে আমার এমন মৃত্যু হইতো না’
‘মানুষের কত ফ্রেন্ড, কাউকে পাশে পাইলে আমার এমন মৃত্যু হইতো না’
মিল্টন সমাদ্দার আটক
মিল্টন সমাদ্দার আটক
আজও সর্বোচ্চ তাপমাত্রা যশোরে, পথচারীদের জন্য শরবত-পানির ব্যবস্থা
আজও সর্বোচ্চ তাপমাত্রা যশোরে, পথচারীদের জন্য শরবত-পানির ব্যবস্থা
একজন অপরাধীর গল্প বলতে চেয়েছিলেন তিশা
একজন অপরাধীর গল্প বলতে চেয়েছিলেন তিশা