কাঁদলেন রিজভী

বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক
০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৫:১০আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৬:১২

নয়াপল্টন বিএনপি কার্যালয়ে রিজভী জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় ঘোষণার পর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে কাঁদলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। তিনি বলেন, ‘এই রায় প্রতিহিংসার রায়। ভয়ঙ্করভাবে নীলনকশা করেছে সরকার। খালেদা জিয়া থাকলে গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা থাকবে। এ কারণেই তার প্রতি প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে এই রায় দেওয়া।’ এসব কথা বলতে বলতে বলতে কেঁদে ফেলেন বিএনপির এ নেতা।

বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ৩টার দিকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘এক বিষাক্ত পরিবেশে আছি আমরা। পৃথিবীর কোথাও এরকম বিচারের নজির নেই। শুধু জনগণ, দল ও মানুষের জন্য যিনি কাজ করেছেন তার প্রতি এই রায় প্রতিহিংসার রায়। প্রতিপক্ষকে নিশ্চিহ্ন করার রায়। একজন ব্যক্তিকে খুশি করার জন্য, চাকরি রক্ষার্থে এই রায়। এই রায়ের প্রতি ধিক্কার, নিন্দা জানাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘অসাধারণ ধীশক্তি, জনগণের প্রতি ভালোবাসা  এবং অঙ্গীকারে অনন্য প্রত্যয় দীপ্ত একজন মানুষ খালেদা জিয়া। বেগম খালেদা জিয়া থাকলে সার্বভৌমত্ব থাকবে, গণতন্ত্র থাকবে। মাটি, মানুষ, মৃত্তিকার সঙ্গে জড়িত এক অনন্য নেত্রী খালেদা জিয়া। এজন্য তার বিরুদ্ধে এ ষড়যন্ত্র করেছে ভোটারবিহীন এ সরকার।’

রিজভী কান্নাজড়ি কণ্ঠে বলেন, ‘পৃথিবীর কোনও এমন নজির নাই যে, স্বামী হারা, সন্তান হারা এবং সন্তানের মমতা বঞ্চিত কোনও নেত্রীকে এমন সাজা দেওয়া হয়েছে।’

রিজভী বিএনপির নেতাকর্মীদের প্রতি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘ন্যায়বিচার এখানে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। আমি আবারও এ রায়ের প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আপনারা রাস্তায় নেমে আসুন। গণতন্ত্রের আওতার মধ্যে, সীমার মধ্যে থেকে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করুন। নিজেরা বুলেট বরণ করবেন। কিন্তু কাউকে আঘাত করবেন না। আপনাদের মুষ্টিবদ্ধ হাতই প্রতিবাদের জন্য যথেষ্ট। শান্তিপূর্ণ ভাবে প্রতিবাদ করুন। সরকার নাশকতা করবে। আপনার করবেন না। শান্তিপূর্ণভাবে এ অন্যায়ের প্রতিবাদ করুন।’

প্রসঙ্গত, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ৫ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। শারীরিক ও সামাজিক দিক বিবেচনা করে তাকে এই দণ্ড দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে এ মামলার অপর আসামি তার বড় ছেলে তারেক রহমানসহ বাকি পাঁচ জনকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে তাদের ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। 

মামলায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ছাড়া বাকি আসামিরা হলেন, মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, সাবেক মুখ্যসচিব কামালউদ্দিন সিদ্দিকী এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান। মামলার ছয় আসামির মধ্যে খালেদা জিয়া জামিনে রয়েছেন। মাগুরার সাবেক সাংসদ কাজী সালিমুল হক কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ কারাগারে আর তারেক রহমান, সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান পলাতক।

 

/এসটিএস/এসএস/এসটি/
সম্পর্কিত
যুবদলের ১৫১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদন
থানার ভেতরে আটকে বিএনপি নেতাকে মারলো কারা?
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
সর্বশেষ খবর
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
বিএসইসির চেয়ারম্যান রাশেদ মাকসুদ ও ৪ কমিশনারের পদত্যাগ
বিএসইসির চেয়ারম্যান রাশেদ মাকসুদ ও ৪ কমিশনারের পদত্যাগ
দাম বৃদ্ধির একদিন পরই লাইফলাইন গ্রাহকদের জন্য রিভিউ আবেদন
দাম বৃদ্ধির একদিন পরই লাইফলাইন গ্রাহকদের জন্য রিভিউ আবেদন
ফোনালাপ ফাঁসের পর বদলি করা হলো জেল সুপারকে
ফোনালাপ ফাঁসের পর বদলি করা হলো জেল সুপারকে
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম