মিয়ানমারের রোহিঙ্গা ইস্যুটিকে কার্যকারিভাবে আন্তর্জাতিক করতে সরকার চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেছে বিএনপি। দলটির স্থায়ী কমিটির ভাষ্য, ‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া শুধু বিলম্বিত নয়-অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ভাসানচরে স্থায়ী বসবাসের ব্যবস্থা মিয়ানমারের অবস্থান দৃঢ় করবে এবং বাংলাদেশের অবস্থান আরও দুর্বল হয়ে পড়ছে।’
শনিবার (৫ ডিসেম্বর) বিকালে স্থায়ী কমিটির সভায় এই অবস্থান গ্রহণ করে বিএনপি। রবিবার (৬ ডিসেম্বর) বিকালে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই কথা জানান।
মিয়ানমার থেকে আগত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ভাসানচরে স্থানান্তরের সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দলটি। বিশেষ করে জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর আপত্তির মুখে এই স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত এবং তা বাস্তবায়নের এই প্রক্রিয়াকে আত্মহননের প্রক্রিয়া হিসাবে অভিহিত করা হয়। এর ফলে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সম্মান ও নিরাপত্তার সঙ্গে প্রত্যাবর্তনের দাবি দুর্বল হবে বলে সভা মনে করে।
প্রসঙ্গত, গত ৪ ডিসেম্বর কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরের ওপর চাপ কমাতে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের তত্ত্বাবধানে এক হাজার ৬৪২ জন রোহিঙ্গাকে সাতটি জাহাজে করে ভাসানচরে নিয়ে যাওয়া হয়।
এদিকে শনিবার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির নিয়মিত সভায় বিজয় দিবস এবং ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস, ১০ ডিসেম্বর বিশ্ব মানবাধিকার দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া, চট্টগ্রামে দক্ষিণ চট্টগ্রাম সাংগঠনিক জেলার সাতকানিয়া উপজেলায় ছয়টি ইউনিয়ন সমন্বয়ে একটি পৃথক সাংগঠনিক ইউনিট প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব গৃহীত হয়। এছাড়া শনিবার (৫ ডিসেম্বর) কুষ্টিয়ায় বিএনপির কার্যালয় ভাঙচুরের জন্য আওয়ামী লীগেকে দায়ি করে সমালোচনা করে স্থায়ী কমিটি।
স্থায়ী কমিটির সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।







