X
সকল বিভাগ
সেকশনস
সকল বিভাগ

নিরপেক্ষ সরকার এসে নির্বাচন কমিশন ঠিক করবে: সাক্ষাৎকারে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২২, ২৩:৫১

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া নির্বাচন কমিশন গঠনে কোনও আইন তৈরির প্রক্রিয়ায় থাকবে না তাদের দল। তিনি মনে করেন, রবিবার (২৩ জানুয়ারি) জাতীয় সংসদে উত্থাপনের অপেক্ষায় থাকা নির্বাচন কমিশন গঠন আইনের বিষয়টি পুরোপুরি অপ্রাসঙ্গিক। তার দাবি, এই মুহূর্তে একমাত্র প্রাসঙ্গিক বিষয় হলো নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থা।

শনিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর বনানীতে নিজ কার্যালয়ে বসে বিশেষ সাক্ষাৎকারে বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে কথা বলেন সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা, চলমান কর্মসূচি, নির্বাচন কমিশন গঠনে আইনের প্রক্রিয়া, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং বিএনপির সাম্প্রতিক বহিষ্কার মনোভাব প্রসঙ্গে কথা বলেন তিনি।

বিএনপি বিদেশ বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ব্যাখ্যা করেছেন বাংলাদেশ নিয়ে ভূরাজনৈতিক কিছু প্রসঙ্গও। তার পর্যবেক্ষণে, দেশের মানুষের সঙ্গে এখন বিদেশি রাষ্ট্র ও সংস্থাগুলো বাংলাদেশকে গভীর মনোযোগে নিয়েছে। সাক্ষাৎকারের উল্লেখযোগ্য অংশ পড়ুন।

বাংলা ট্রিবিউন: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তো হাসপাতালের সিসিইউতে ছিলেন। এখন কেবিনে এসেছেন। তার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে যদি কিছু বলেন।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী: তার মূল সমস্যার তো সমাধান হচ্ছে না। মূল সমস্যা হচ্ছে– তার চিকিৎসার যে প্রক্রিয়া, ওটা তো বাংলাদেশে হবে না। বিশ্বে জার্মানি, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি বিশেষায়িত হাসপাতাল আছে। তো ওই সমস্যার সমাধান না করলে উনি তো সাময়িকভাবে রিলিফ পাচ্ছেন, কিন্তু এটা তো চিকিৎসা না। এটা সমস্যার সমাধানও না। এই সমস্যা যদি বারবার হতে থাকে তাহলে তো বিপদ বাড়তে থাকবে। এর একমাত্র সমাধান হচ্ছে ওই চিকিৎসা তাকে করতে হবে। তাহলে আমরা বলতে পারবো যে তার শারীরিক অবস্থার এখন একটা সমাধান হয়েছে। এই সমস্যাটার সমাধান যেহেতু হচ্ছে না, এজন্য তিনি বাইরে যেতে পারছেন না। এখন যে অবস্থায় আছেন এটা তার সাময়িক অবস্থা। একটা সময় যদি আসতে পারে যে, এখানে সাময়িকভাবে যে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, এটা সম্ভব নাও হতে পারে আর। সুতরাং মূল সমস্যার তো সমাধান হয়নি। তার বাইরে যাওয়া, বাইরে গিয়ে তার চিকিৎসা করে সত্যিকার অর্থে সুস্থভাবে ফিরে আসা; সেটা তো হচ্ছে না।

বাংলা ট্রিবিউন: তার মুক্তি এবং বিদেশে চিকিৎসার দাবিতে আপনাদের কর্মসূচি চলমান ছিল দীর্ঘদিন ধরে। তো দ্বিতীয় দফায় জেলা পর্যায়ে শুরু হওয়ার পরেই তো কোভিডের কারণে একটা বিধিনিষেধ এলো। এর পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাপারটাকে কীভাবে সামনের দিকে নিয়ে যাবেন? কর্মসূচিও তো এখন খানিকটা স্থগিত হয়ে আছে।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী: কর্মসূচি স্থগিত আমি বলতে চাই না। কর্মসূচি পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে। কারণ কোভিড এমন একটা ইস্যু এখানে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা যুক্ত। আমরা তো রাজনীতি করি সাধারণ মানুষের জন্যই। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টা রয়েছে। সেই জায়গায় অবশ্যই আমাদের জনগণের পক্ষে থাকতে হবে, মত দিতে হবে। সে কারণেই আমরা পুনর্নির্ধারণ করছি। যদিওবা সরকারের উদ্দেশ্য ছিল ভিন্ন। সরকার কিন্তু সে কারণে বিধিনিষেধ আরোপ করেনি। বিধিনিষেধ আরোপ করেছে বিএনপির যে বাঁধভাঙা আন্দোলন শুরু হয়েছে সেটাকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য।

বাংলা ট্রিবিউন: কেন এমন মনে হচ্ছে?
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী: কারণ বিশ্বের যে স্বাস্থ্য পরামর্শকরা আছে, তারা পরিষ্কারভাবে বলছে– উন্মুক্ত জায়গা হচ্ছে ভেতরের চেয়ে অনেক নিরাপদ। বাইরে সবকিছু নিরাপদ। বিদেশে কিন্তু উন্মুক্ত স্থানে সবকিছুর অনুমোদন রয়েছে। বরং ভেতরে নিষেধাজ্ঞা থাকে। বাংলাদেশে ঠিক তার উল্টোটা। এটা শুধু বিএনপির যে সমাবেশগুলো সেসব বাধাগ্রস্ত করার জন্য করেছে। কিন্তু সাময়িকভাবে করতে পারবে, এটা তো অব্যাহতভাবে করার সুযোগ নাই। যে জোয়ার আসছে, বাঁধ দিয়ে এটা বন্ধ করা যাবে না। বাঁধভাঙা জোয়ার আসছে। তারাও (সরকার) জানে এটা। এ কারণে একসময় গুম করে হত্যা, একসময় ভয়ভীতি, একসময় জেল জুলুম, একসময় মিথ্যা মামলা, এখন এটা নতুন পন্থা। সাময়িকভাবে কোভিড বা ওমিক্রনকে সামনে এনে এটাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার যে চেষ্টা চালানো হচ্ছে, এটা সাময়িক; এটা থাকবে না। এই যে বাঁধভাঙা জোয়ার শুরু হয়েছে, এটা অব্যাহত থাকবে এবং সরকারের পতন করে দেশনেত্রী, গণতন্ত্রের মাকে (খালেদা জিয়া) মুক্ত করে আমাদের বাংলাদেশের মানুষের যে মূল প্রত্যাশা, ভোটের মাধ্যমে তারা নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে একটা নির্বাচিত সরকার গঠন করতে চায়, যারা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে। সেই সমাধান না হলে বাংলাদেশে যে অবস্থায় আমরা আছি, ‘এখানে একটা ওখানে একটা সমাধান’ দিয়ে কিন্তু কোনও কিছু হবে না। সমাধান কিন্তু ওই জায়গায় (সুষ্ঠু ভোট) নিহিত আছে এবং জনগণের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমেই দেশটাকে মুক্ত করতে হবে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী (ছবি: সালমান তারেক শাকিল)

বাংলা ট্রিবিউন: চলমান কর্মসূচির মধ্যেই নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন এবং পরবর্তী নির্বাচনের একটি প্রক্রিয়া আমরা দেখতে পাচ্ছি। এক্ষেত্রে বিএনপির অবস্থান কী?
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী: এসব আইনের মধ্যে বিএনপি নেই। বিএনপির অবস্থান একেবারে পরিষ্কার। এদের অধীনে কোনও নির্বাচন করা যাবে না। এই রেজিমের অধীনে কোনও নির্বাচন করা যাবে না। সুতরাং নির্বাচন কমিশন ইত্যাদি-ইত্যাদি যা করছে সব অপ্রাসঙ্গিক, এগুলো প্রাসঙ্গিক না। একমাত্র প্রাসঙ্গিক হলো– নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন। সেটা যেদিন হবে তারাই নির্বাচন কমিশন ঠিক করবে।

বাংলা ট্রিবিউন: ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে তো বলা হচ্ছে স্বাভাবিকভাবেই সব এগোবে। এক্ষেত্রে বিএনপি বাদ পড়ছে?
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী: না, বাদ দিলে হবে না। সেটার বিরুদ্ধে এই আন্দোলন এবং এই আন্দোলনে আমাদের ও দেশকে জয়ী হতে হবে। তা না হলে বাংলাদেশে কোনও নির্বাচন হবে না। এই অর্থহীন নির্বাচন বাংলাদেশের মানুষ কেন করবে? দ্বিতীয়বার, তৃতীয়বার, চতুর্থবার কেন করবে এই অর্থহীন নির্বাচন?

বাংলা ট্রিবিউন: আপনি তো বিএনপির তরফ থেকে নির্বাচন কমিশনসহ বিভিন্ন ইস্যুর প্রথম দিকেই বলেছেন, ‘সরকারের সঙ্গে কোনও আলোচনা হবে না’।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী: আমরা বলেছি এবং আমরা তো সেখানেই অবস্থান করছি। কোনও আলোচনা হবে না, এক আলোচনা হতে হবে নিরপেক্ষ নির্বাচনের ওপর। এর বাইরে কোনও আলোচনা হবে না। নির্বাচনেও যাবো না। এ ধরনের নির্বাচন দেশের মানুষ হতে দেবে না।

বাংলা ট্রিবিউন: দেশে তো আরও রাজনৈতিক দল আছে, তাদের অবস্থান কী মনে হয় আপনার কাছে?
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী: আমাদের অবস্থান আমরা পরিষ্কার করেছি। ‘কারা দেশের জনগণের পক্ষে অবস্থান করছে’ বা ‘কারা জনগণের বিপক্ষে অবস্থান করছে’– দিস ইজ অ্যা বিগ টেস্ট (এটা একটা বড় পরীক্ষা)। যারা নিজেদের রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচয় দেয় এবং দেশের জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নেয়, সেই দায়ভার তারা নেবে। আমরা নিতে পারবো না। যারা দেশপ্রেমিক, দেশের পক্ষে রাজনীতি করে; তারা তো এ নির্বাচনে যাবে না। নির্বাচনে যাওয়ার কোনও কারণ নেই।

বাংলা ট্রিবিউন: একটা আলোচনা গতবারও ছিল, এবারও রাজনৈতিক মহলে শুনছি এই আলোচনা– ‘বিএনপি যদি নির্বাচনে না যায় তবে বিএনপি থেকেই কাউকে কাউকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার একটা চিন্তা আছে’। এটা নিয়ে আপনারা ভাবছেন?
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী: ওগুলো অপ্রাসঙ্গিক কথা। বাংলাদেশের মানুষ খুব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বিষয়গুলো। চুরি-উচ্ছিষ্ট ভোগকারী কিছু লোক থাকে সবসময়। একশ্রেণির মানুষ চুরির মালে ভাগ চায়। এমন লোক তো থাকবেই দেশে। এমন মুনাফিক থাকবে দেশে। দেশদ্রোহীও থাকবে। যুগে যুগে মীরজাফর থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত আছে। ওদের নিয়ে তো আলোচনার করার দরকার নেই। আমরা আলোচনা করছি বাংলাদেশের মানুষের পক্ষে যারা থাকবে, গণতন্ত্রের পক্ষে যারা থাকবে, জনগণের ভোটাধিকারের পক্ষে যারা থাকবে, নির্বাচিত সরকারের পক্ষে যারা থাকবে; আইনের শাসন, বাক-স্বাধীনতা ও জীবনের নিরাপত্তার পক্ষে যারা থাকবে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে যারা থাকবে– আমরা তাদের কথা বলেছি। চুরি-উচ্ছিষ্ট ভোগী কিছু লোক সবসময় থাকবে। এরা কোনও রাজনীতিবিদ হিসেবে বা রাজনৈতিক দল হিসেবে না। জনগণ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এরা কারা। এদের জনগণ লক্ষ করছে এবং এরা কেউ পার পাবে না। জনগণের পক্ষে যারা আছে, জনগণ তাদের পক্ষে যাবে। বিএনপিসহ যারা জনগণের পক্ষে আছে তাদের সঙ্গে জনগণ যাবে। তারাই আন্দোলনের মাধ্যমে এটার পতন ঘটাবে।

বাংলা ট্রিবিউন: অতীতে তো বিএনপি ছাড়া নির্বাচন হয়েছে, ভবিষ্যতেও এমন হবে?
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী: গতবার তো বিএনপি এই অবস্থান নেয় নাই। ওই প্রক্রিয়া তো বিএনপি শেষ করেছে। ওই প্রক্রিয়ায় তো এখন যাওয়ার সুযোগ নেই।

বাংলা ট্রিবিউন: এবারের প্রক্রিয়া কী হবে তাহলে?
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী: নিরপেক্ষ সরকার ব্যতীত কোনও নির্বাচন হবে না। নির্বাচন হতে দেওয়া যাবে না। দেশের মানুষ দেবে না, কারণ তিন-তিন বার এই ছেলেমেয়েগুলো যাদের বয়স ৩০ বছর, যারা ভোটার হয়েছে, তারা কিন্তু ভোট দিতে পারছে না। ৩০-৩৫ বছর বয়স যাদের তারা কিন্তু গত তিন নির্বাচনে ভোট দিতে পারে নাই। তারা সেটা এবার বসে-বসে লক্ষ করবে, অন্যরা ভোট চুরি করে নিয়ে যাবে তা হতে দেওয়া যাবে না। সমস্ত জাতি এখানে ঐক্যবদ্ধ থাকবে।

বাংলা ট্রিবিউন: কিন্তু নির্বাচনকেন্দ্রিক সমর্থনের সম্ভাবনা তো অতীতের মতো সামনেও রয়েছে...
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী: না, এবার তা হবে না। এই যে জাতিসংঘ থেকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আসছে। বিশ্বে মানবাধিকারকর্মীরা একটা কঠিন অবস্থানে গেছে। জাতিসংঘ সেদিকে তাদের সমর্থন দিচ্ছে। তাদের সঙ্গে একমত হচ্ছে। অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশ যারা মানবাধিকার বিশ্বাস করে তারাও তাদের পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে তাদের মত প্রকাশ করছে। এবার তো একটু ভিন্ন পরিস্থিতি। সুতরাং তারাও কিন্তু পুরো বাংলাদেশের ভেতরের মানুষ যেমন করে পর্যবেক্ষণ করছে সেভাবে অবস্থান নিচ্ছে। মানুষ অবস্থান নিচ্ছে বলে হাজার হাজার মানুষ বেরিয়ে আসছে। একইভাবে বিশ্বে আন্তর্জাতিকভাবে যারা আছে তারাও কিন্তু অবস্থান নিয়ে ফেলেছে। তারা পরিষ্কারভাবে বাংলাদেশের কাছে তাদের প্রত্যাশা ব্যক্ত করছে। এবারের পরিস্থিতি অন্য পর্যায়ে চলে গেছে এবং এটা কোনোভাবেই কারও কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। এরকম একটা অগ্রহণযোগ্য বিষয় নিয়ে তারা সামনে এগিয়ে যেতে পারবে– এটা বিশ্বাসযোগ্য না।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী (ছবি: সালমান তারেক শাকিল)

বাংলা ট্রিবিউন: ক্ষমতাসীন দলের অভিযোগ, এক্ষেত্রে বিএনপি বাইরের দেশে লবিং ছিল বা লবিং করছে। এ অবস্থায় আসার পেছনে বিএনপির কোনও লবিং আছে?
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী: বিষয়টা হচ্ছে, যে ঘটনাগুলো ঘটছে সেগুলো কি সত্যি না অসত্য? এগুলো যদি সত্যি হয়ে থাকে এবং এগুলো যে সত্যি তা দেশে এবং দেশের বাইরে সবার কাছে প্রমাণিত ব্যাপার। এগুলো নিয়ে কোনও তর্ক-বিতর্ক নাই। সরকার ‘না’ বলতে পারে তার ক্ষমতা রাখার জন্য। তবে এটা দেশে এবং দেশের বাইরে যারা গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের পক্ষে তাদের সবার কাছে বিষয়গুলো কিন্তু প্রমাণিত। যাদের নিষেধাজ্ঞা আসছে তাদের সবার ক্ষেত্রে প্রমাণিত বলেই নিষেধাজ্ঞাগুলো আসছে। যে প্রত্যাশা বাংলাদেশের আগামী নির্বাচনের ওপর তা কিন্তু এসব বিষয়ের মাধ্যমে প্রকাশ পাচ্ছে। বিএনপি রাজনৈতিক দল, তাই স্বাভাবিকভাবেই আমাদের দায়িত্ব রয়েছে। মানুষের জন্য রাজনীতি করলে, নৈতিক রাজনীতি করলে, এ বিষয়গুলো দেশ-বিদেশে তুলে ধরা তো আমাদের দায়িত্ব। আপনি যখন দেশের মধ্যে বিচার পাবেন না, দেশের মধ্যে ভোটাধিকার থাকবে না, আইনের শাসন থাকবে না, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা থাকবে না, বাক-স্বাধীনতা থাকবে না, সভা-সমাবেশের অধিকার থাকবে না, আপনি যখন কোনও বিচার পাবেন না; স্বাভাবিকভাবে এসব বিষয় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যাবে।

মানবাধিকার, গণতন্ত্র, জীবনের নিরাপত্তা– এগুলো কিন্তু কোনও দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়। এগুলো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিষয়। আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এসব আন্তর্জাতিক সনদে আমরা সই করেছি। যখন দেশের মধ্যে কোনও স্বৈরাচারী সরকার সব কেড়ে নেয়, যেখানে সুযোগ পায় সেখানে যায়, তারা যে সিদ্ধান্ত নেয় তা বাংলাদেশেকে মেনে নিতে হয়; সেক্ষেত্রে এমনটাই স্বাভাবিক। এতে অস্বাভাবিক কিছু হয়নি। এটা বাংলাদেশের ক্ষেত্রে শুধু হয়নি। এটা মিয়ানমারের ক্ষেত্রে হয়েছে, উত্তর কোরিয়ার ক্ষেত্রে হয়েছে। মিয়ানমারে যা হচ্ছে বাংলাদেশে কি তার ব্যতিক্রম? মিয়ানমারেও জনগণের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। ওখানে গুম-হত্যা চলছে। ওখানে নির্বাচনের পরে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। আর আমাদের দেশে নির্বাচনের আগেই ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। তফাত এটুকুই। এর বাইরে মিয়ানমারে যা হচ্ছে বাংলাদেশে তার ব্যতিক্রম কিছু হচ্ছে না। এখানেই তো প্রমাণিত হয় যে, আন্তর্জাতিকভাবে এগুলো নিয়ে মানুষের মনে শঙ্কা কাজ করছে। এগুলো তো প্রমাণিত ব্যাপার। দেশের মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ আছে, আন্তর্জাতিক অধিকারগুলো নিয়ে যারা কাজ করছে তাদের মধ্যেও একই ক্ষোভ আছে। যারা গণতান্ত্রিক দেশের নাগরিক তাদের মধ্যে ক্ষোভ আছে। বিষয়টা একটা অন্য পর্যায়ে চলে গেছে। এখানে ভয়ভীতির রাজনীতির যে পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল, সেটা তো বেশিদিন ধরে রাখতে পারবে না, সেটা বুঝতে হবে। সরকার টিকে আছে ভয়ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি করে। এই পরিবেশ টিকিয়ে রাখা যাবে না। দেশের ভেতরে যে মানুষের ঢল নামছে, দেশে বাইরে থেকে যে নিষেধাজ্ঞা আসছে, প্রতিবাদ আসছে, ভেতরে-বাইরে সব জায়গা থেকে প্রতিবাদ আসছে; সেখানে এই ভয়ভীতির পরিবেশে তো টিকে থাকতে পারবে না বেশিদিন। সেটা সাময়িকভাবে হতে পারে। বাংলাদেশ সে পরিবর্তনটা ঘটেছে, ঘটতে চলেছে।

বাংলা ট্রিবিউন: তাহলে বিএনপির পরবর্তী পরিকল্পনা হচ্ছে নির্বাচনকালীন সরকারের ওপর গুরুত্বারোপ?
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী: এখানে গোঁজামিলের কোনও সুযোগ নেই এবং জলঘোলা করারও কোনও সুযোগ নেই।

বাংলা ট্রিবিউন: সেক্ষেত্রে আন্দোলনের জন্য বিএনপি কতটা প্রস্তুত?
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী: বিএনপি প্রস্তুত। ইতোমধ্যে তো আন্দোলন চলছে। আন্দোলন চলছে বলেই তো স্বাস্থ্য বিধিনিষেধ আসছে, আমাদের ভয়েই তো...

বাংলা ট্রিবিউন: আপনাদের দলের বিভিন্ন জায়গায়, সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনগুলোতে বহিষ্কার চলছে। এসব ব্যাপার কি আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্যে কোনও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন?
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী: না। একটা দলে নিয়ম-কানুন সারাজীবন থাকবে। এটা দলের নিয়মে আছে। বিএনপি গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দলের শৃঙ্খলার বাইরে কোনও কাজ হলে এমন করবে। বিএনপি ক্ষমতায় থাকলেও এটা করা হতো। এজন্যই গঠনতন্ত্রে এগুলো বলা আছে। এটা বরং দলকে শক্তিশালী করছে। যারা বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করছে তাদের কাছে বার্তা চলে যাচ্ছে।

সালমান তারেক শাকিল ও আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী

বাংলা ট্রিবিউন: সব অঙ্গসংগঠনে নতুন করে কমিটি দেওয়া হচ্ছে। জেলা কমিটির আহ্বায়ক কমিটিগুলো হচ্ছে, যদিও কিছু এখনও বাকি আছে। এরমধ্যে কাউন্সিলের একটা ব্যাপার আছে, যেটা করোনার কারণে পিছিয়েছে। আপনাদের স্থায়ীতে কয়েকটি পদ খালি আছে। এ দুটো ব্যাপার নিয়ে কী বলবেন?
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী: কাউন্সিল তো কোনও ব্যাপার না। আমাদের তো কাউন্সিল হওয়ার আগে সারা দেশে যে কমিটিগুলো আছে তা শেষ হতে হবে। তা না হলে কাউন্সিলে কে প্রতিনিধিত্ব করবে? আর সরকারের বাধা-বিপত্তি তো গত কয়েক বছর ধরেই আছে। জেলা কমিটিগুলোর কাজ যখন হয়ে যাবে তখন কাউন্সিল হবে। আর স্থায়ী কমিটির সদস্যের বিষয়ে এটা তো আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ঠিক করবেন। ইতোমধ্যে তো ১০-১২ জন আছি, আমরা যার যার কাজ করছি। ভালোভাবে চলছে। প্রতি সপ্তাহে স্থায়ী কমিটির সভা হচ্ছে। প্রতি সভায় এজেন্ডা দেওয়া হচ্ছে, ওয়ার্কিং পেপার দেওয়া হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ায় কোনও দল আমি জানি না, যারা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে প্রতি সপ্তাহে বৈঠক করছে। অন্য কোথাও এমনটা আছে কিনা জানি না। পরিষ্কারভাবে বলতে চাই– এটা একটা দল, যেখানে প্রতিটি সিদ্ধান্ত গণতান্ত্রিকভাবে নেওয়া হচ্ছে।

/জেএইচ/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
‘শোকে’ মারা গেলেন টেক্সাস হামলায় নিহত শিক্ষকের স্বামী
‘শোকে’ মারা গেলেন টেক্সাস হামলায় নিহত শিক্ষকের স্বামী
৬৫ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি চায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগ
৬৫ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি চায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগ
‘রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আর আগের জায়গায় ফিরতে পারে না’
‘রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আর আগের জায়গায় ফিরতে পারে না’
আমাদের ভারী অস্ত্রশস্ত্র দরকার: ইউক্রেন
আমাদের ভারী অস্ত্রশস্ত্র দরকার: ইউক্রেন
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত