ঘণ্টা বাজতে শুরু করেছে, আর উপায় নেই: মির্জা ফখরুল

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০১:৪৪আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০১:৪৪

সরকারের চতুরদিকে ঘণ্টা বাজতে শুরু করেছে, আর উপায় নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘ওই যে বলে না—ধর্মের কল বাতাসে নড়ে। সেই ধর্মের কল বাতাসে নড়েছে। এখন চতুরদিকে ঘণ্টা বাজতে শুরু করেছে। যতই উলট-পালট করেন, লবিস্ট নিয়োগ করেন আর যতই পাল্টা ডিগবাজি খেতে থাকেন, সুন্দর সুন্দর কথা বলেন—কাজ হবে না।’

শনিবার (২৬ ফ্রেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ট্রাকের ওপর অস্থায়ী মঞ্চ তৈরি করে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। দুপুর দেড়টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। 

‘তেল, গ্যাস, পানিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে’ এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। 

আজকে সমগ্র বাংলাদেশে একটা সমস্যা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সমস্যাটা হচ্ছে আওয়ামী লীগ। মানুষ এখন আওয়ামী লীগকে তাদের সবচেয়ে বড় শত্রু মনে করতে শুরু করেছে।’

দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমরা পথে নেমেছি, রাস্তায় নেমেছি-জনগণের কাছে আবেদন জানাতে চাই, আসুন। আজকে আপনারা শরিক হন। আমি তরুণ-যুবকদের আহ্বান জানাতে চাই, জেগে উঠুন দেশ মাতৃকার ডাকে এবং এই দেশ ও মানুষকে রক্ষা করবার জন্য।’ 

ফখরুল বলেন, পত্রিকায় দেখলাম, আমেরিকা যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, এটাকে দূর করার জন্য তারা (বাংলাদেশ সরকার) লবিস্ট নিয়োগ দিয়েছে। মাসে ২০ হাজার ডলার তাদের দিতে হবে। এতদিন অনেক লম্বা কথা বললেন? এখন কেন এই লবিস্ট নিয়োগ করেছেন? কারণ একটাই। যে আপনারা জনগণের টাকা দিয়ে লবিস্ট নিয়োগ করে মানুষের ওপর যে অত্যাচার, নির্যাতন, গুম -খুনকে হালাল করতে চাচ্ছেন। তাকে ঢাকতে ও আড়াল করতে চাচ্ছেন।’  

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আরেকটা কাজ (সরকার) করছে, পত্রিকায় দেখলাম। এখন গণপেনশন দেবে। মানুষকে পেনশন দেবে। পরিষ্কার করে কিছু বলছে না। কিন্তু আমরা যতটুকু বুঝতে পারছি, এটা আরেকটা লুটের কায়দা-কানুন তারা করতে যাচ্ছে। মানুষের কাছ থেকে প্রতি মাসে মাসে এক হাজার করে টাকা নেবে। ৬০ বছর পরে দেবে। এর মধ্যে মারা গেলে আর ফেরত দেবে না। পরিষ্কার করে কিছু বলছে না। যদিও এটা এখনও পাস হয়নি। কিন্তু এই প্রস্তাব তারা নিয়ে এসেছেন।’ 

তিনি বলেন, ‘চাল, ডাল, তেল,  লবণ আমাদের প্রত্যেকের প্রয়োজন হয়। আমরা দেখছি, এখন প্রতিদিন এই দ্রব্য বিক্রি করছে ট্রাকে করে। প্রতিদিন এই লাইন লম্বা থেকে লম্বা হচ্ছে। এখন সেই লাইনে মধ্যবিত্তরা যাচ্ছেন। আজকে গ্যাসের দাম প্রতি বছর দুই থেকে তিনবার করে বাড়ানো হচ্ছে। আজকে বিদ্যুতের দাম ধাপে ধাপে প্রতি বছর দুইবার, তিনবার থেকে চারবার করে বাড়ানো হচ্ছে।’

‘আজকে পানি দাম বারবার করে বাড়ানো হচ্ছে। এর কারণটা কি? একটাই কারণ যে, এই সরকার  নিজে এবং সমস্ত প্রশাসন যন্ত্রকে দুর্নীতির একটা স্বর্গ রাজ্য বানিয়ে দিয়েছেন। পানি দাম বাড়ছে। পানির দাম বাড়ায় প্রধান কারণ কি? ওয়াসার যে ব্যবস্থানা পরিচালক তাকে তিনবার চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তার বেতন কম পক্ষে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা! এই যে অপচয়। এই যে একজন ব্যক্তি বিশেষকে দুর্নীতির সুযোগ করে দেওয়া, সেই কাজটা করছে এই সরকার। সর্বক্ষেত্রে দুর্নীতি একটা সর্বগ্রাসী ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। এমন কোনও জায়গা নেই যেখানে সরকার লুটপাট করছে না।’

 

 

 

/এসএস/আই্/
সম্পর্কিত
যুবদলের ১৫১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদন
থানায় আটকে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে নির্যাতন: পুলিশের তদন্ত কমিটি
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
সর্বশেষ খবর
সীমান্তে কঠোর বিজিবি, ১০ পুশ-ইন চেষ্টা প্রতিহত
সীমান্তে কঠোর বিজিবি, ১০ পুশ-ইন চেষ্টা প্রতিহত
যুবদলের ১৫১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদন
যুবদলের ১৫১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদন
বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি: সবচেয়ে বেশি চাপে মধ্যবিত্ত
বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি: সবচেয়ে বেশি চাপে মধ্যবিত্ত
দেশে ফিরেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান
দেশে ফিরেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম