বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেছেন, আগামী ২৮ তারিখে প্রমাণিত হবে বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষ আওয়ামী লীগের ওপর থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলেছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ হলে বিএনপির এক দফা দাবি আদায়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী তরুণ দল আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ড. আবদুল মঈন খান বলেন, ‘আগামী ২৮ তারিখে আমাদের যে মহাসমাবেশ রয়েছে সেটি আমরা শান্তিপূর্ণ প্রক্রিয়ায় সফল করবো। আমরা সরকারের ওপর অনাস্থা এনেছি। সেই অনাস্থা ২৮ তারিখে আমরা পুনরায় নিশ্চিত করবো। এটা প্রমাণিত হবে, বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষ আওয়ামী লীগের ওপর থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। তাদের (আওয়ামী লীগ) বুঝতে হবে, আমরা যে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করেছি তার মাধ্যমে ইতোমধ্যে তাদের নৈতিক পরাজয় হয়ে গেছে।
বাংলাদেশের মানুষ খুব অদ্ভুত মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘সরকারকে বলবো, আপনাদের শুভবুদ্ধির উদয় হোক। মনে রাখতে হবে, সরকারের হাতে সব ধরনের অস্ত্র রয়েছে। কিন্তু আমাদের বিরোধী দলের কাছে একটি অস্ত্রই রয়েছে, সেটি হলো জনগণ। সেই জনগণের অস্ত্র দিয়েই আমরা এই স্বৈরাচারী সরকারের অন্যায়কে প্রতিহত করবো। বাংলাদেশের মানুষ খুব অদ্ভুত। তাদের যদি একহাতে খাবার আর অন্য হাতে ভোটের অধিকার দেওয়া হয়, আর যদি বলা হয় একটি বেছে নিতে, তখন কিন্তু তারা ভোটের অধিকারকে বেছে নেবে। তারা বলবে, পাঁচ বছর পর আমাদের যে ভোটের অধিকার সেটি আমরা বাদ দিতে পারবো না। কারণ, বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনতাকামী। মোগল সাম্রাজ্য ছিল পরাক্রমশালী, কিন্তু তার বশ্যতাও বাংলাদেশ স্বীকার করেনি। কাজেই আজকের বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বশ্যতা স্বীকার করতে পারে না।’
সরকারের ঘুম হারাম হয়ে গেছে মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ যে কর্মসূচি দিয়েছি তাতে কিন্তু সরকারের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। বিএনপি কিন্তু বলে নাই কোনও অশান্তি করবে কিংবা এমন কিছু করবে যাতে শান্তিশৃঙ্খলা নষ্ট হয়। তারপরও সরকার অস্থির হয়ে গেছে। তারা বলছে, বিএনপিকে নাকি ১০ ডিসেম্বরের মতো গরুর হাটের নিয়ে মিটিং করানো হবে। এটা কোনও কথা হতে পারে? সে কারণেই বলছি, সরকার কিন্তু ভয় পেয়ে গেছে। আজ সরকারের এই যে হুমকি-ধমকি, সবকিছু কিন্তু ভয় থেকেই করছে।’
ড. আবদুল মঈন খান বলেন, ‘আমরা চাই মানুষের ভোটের অধিকার দেশের মানুষকে ফিরিয়ে দেওয়া হোক। সরকার যত শিগগিরই গণতন্ত্রের মূলনীতি উপলব্ধি করতে পারবে তত দ্রুত সরকারের মঙ্গল হবে।’
তিনি বলেন, আমরা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমেই দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবো। এটা আমাদের নীতিগত সিদ্ধান্ত। আমরা যে জন্য সংগ্রাম করছি তার নাম গণতন্ত্র। গণতন্ত্রে কোনও অশান্তি, কোনও সংঘাতের স্থান নেই।’
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী তরুণ দল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ডা. মো. আবু বকর সিদ্দিকের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মো. আমিনুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় আরও ছিলেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির প্রান্তিক বিষয়ক সম্পাদক অপর্ণা রায়, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান প্রমুখ।








