বিএনপির কাউন্সিলের আমন্ত্রণপত্র পায়নি জোট-শরিকরা: জামায়াতকে নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব

সালমান তারেক শাকিল
১৩ মার্চ ২০১৬, ২২:৪৬আপডেট : ১৪ মার্চ ২০১৬, ০৭:৫৩

বিএনপি ১৯ মার্চে অনুষ্ঠিতব্য বিএনপির আসন্ন জাতীয় কাউন্সিলের আমন্ত্রণপত্র এখনও পায়নি দলটির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিকরা। পাশাপাশি জোটের অন্যতম প্রধান শরিক জামায়াতে ইসলামীকে দাওয়াত দেওয়া হবে কিনা, এ নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে দলটিতে। কয়েকজন নেতা বলছেন, জামায়াতকে দাওয়াত না দেওয়ার কিছু নেই। তারা শরিক দল, তারা কাউন্সিলে আমন্ত্রিত হিসেবে আসবে। আবার কেউ বলছেন, জামায়াতকে দাওয়াত দেওয়া হলে দলীয়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বিএনপিই। কারণ হিসেবে এই নেতাদের যুক্তি, দলীয় কোনও কর্মসূচিতেই বিগত ২ যুগে জামায়াতকে কোনও অনুষ্ঠানে দাওয়াত দেয়নি বিএনপি।
জানতে চাইলে কাউন্সিলের দফতর ও যোগাযোগ উপকমিটির আহ্বায়ক ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ রবিবার সন্ধ্যায় বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সব রাজনৈতিক দলগুলোকেই দাওয়াত দেওয়া হয়েছে। সোমবার এ নিয়ে ব্রিফ করা হবে।
ইতোপূর্বে জানা গিয়েছিল, আগামি ১৬ মার্চ থেকে কাউন্সিলের কার্ড বিতরণ করবে বিএনপি। এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী কাউন্সিলর, ডেলিগেট এবং দেশি-বিদেশি অতিথিদের সঙ্গে যোগাযোগ ও দাওয়াতপত্র পাঠানোর কাজ শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট উপকমিটি। তবে উপ কমিটির পক্ষে থেকে ২০ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোকে আমন্ত্রণ দেওয়ার কথা জানানো হলেও রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত জোটের ৫ শরিক নেতা জানান, তারা এখন পর্যন্ত কোনও আমন্ত্রণপত্র পাননি।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য মাওলানা হাবিবুর রহমান জানান, তার জানামতে এখনও বিএনপির কাউন্সিলের আমন্ত্রণপত্র তার দলের কাছে আসেনি। এসময় তিনি বলেন, বিএনপির সঙ্গে জামায়াত ‘আছে আছে’সম্পর্ক। এরপর প্রতিবেদকের কাছে জানতে চান, ‘বিএনপির কাউন্সিল কত তারিখে।’

খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের বলেন, এখনও দাওয়াতপত্র পাইনি। আমন্ত্রণপত্র হাতে না আসার বিষয়টি জানান লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরানও। তিনি বলেন, এখনও পাইনি। খোঁজ নিই নাই। বিএনপির কাউন্সিলতো কাঠালের আমসত্ত্ব না, যে দাওয়াত না পেলেও যেতে হবে। দাওয়াত পেলে যাবো। না পেলে যাবো না।

বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির মহাসচিব এম এম আমিনুর রহমান বলেন, আমি জানি না। অফিসে এসেছে কিনা জানি না। ঢাকার বাইরে ৪ দিন ধরে অবস্থান করছি।

ষষ্ঠ কাউন্সিলের দাওয়াতপত্র না পাওয়ার বিষয়টি জানান, বাংলাদেশ ন্যাপ-এর মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া। তিনি বলেন, এখনও আসেনি। কাল নাগাদ হয়তো আসবে। 


জামায়াতকেনিয়েদ্বিধাদ্বন্দ্ব

দলীয় ষষ্ঠ কাউন্সিলে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জামায়াতে ইসলামীকে দাওয়াত দেওয়া হবে কিনা, এ নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছে বিএনপি। দলটির কোনও কোনও নেতা মনে করেন, নির্বাচন কমিশনে দলের নিবন্ধন স্থগিত থাকা দলটিকে দাওয়াত দেওয়া হলে প্রশ্নবিদ্ধ হবে কাউন্সিল। একাত্তরে বিতর্কিত ভূমিকার পাশাপাশি নিবন্ধন না থাকায় উভয় দিক দিয়ে জামায়াতের বৈধতা অনেকটাই প্রশ্নবিদ্ধ। যদিও এ বিষয়ে স্বনামে মন্তব্য করতে নারাজ তারা। এই নেতারা দাবি করেন, দলীয় কোনও কর্মসূচিতেই বিগত ২ যুগে জামায়াতকে কোনও অনুষ্ঠানে দাওয়াত দেয়নি বিএনপি। ফলে কাউন্সিলে দাওয়াত দেওয়ার কিছু নেই।

এ নিয়ে স্পষ্ট কোনও জবাব দেননি দপ্তর ও যোগাযোগ উপ কমিটির আহ্বায়ক রুহুল কবির রিজভীও। তিনি বলেন, এ বিষয়ে কাল সোমবার জানাবো। মন্তব্য করেননি স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ও। তিনি বলেন, বিষয়টি প্রচার উপ কমিটির । এ বিষয়ে আমি জানি না।

বিএনপির দলীয় দুটি সূত্র জানায়, জামায়াতকে দাওয়াত দেওয়া নিয়ে বিএনপিতে দু’ধরনের অবস্থান রয়েছে। তবে কাউন্সিলের মর্যাদা রক্ষায় উভয়পক্ষই বিষয়টিকে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপরে ছেড়ে দিয়েছে। সূত্র এও জানায়, কাউন্সিলে দাওয়াত পেলে তারা বক্তব্য রাখতে চাইবে। এটি গণমাধ্যমে ব্যাপক আকারে নেতিবাচকভাবে প্রচারিত হবে। বিষয়টি নিয়ে নতুন কোনও আলোচনার জন্ম হতে পারে। এসব কারণে কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে বিতর্ক এড়াতে চান বিএনপির কোনও কোনও নেতা।

তবে কেউ কেউ জামায়াতকে দাওয়াত দেওয়ার বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তারা বলছেন, জোট শরিক হিসেবে  কাউন্সিলের দাওয়াত জামায়াতের প্রাপ্য। জোটের বাকি শরিকরা অংশ নিলে জামায়াত কেন পাবে না।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার মনে করেন, সব দলকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে, জামায়াতকেও দেওয়া হয়েছে। তাদের না আসার কোনও কারণ নেই। আর কেনইবা তাদের দাওয়াত দেওয়া হবে না।

যদিও জামায়াতের নেতা মাওলানা হাবিবুর রহমান জানান, রবিবার পর্যন্ত কোনও দাওয়াতপত্র পায়নি তার দল।

এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হয় বিএনপি-জোটের বৈঠকে প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেওয়া জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ডা. রিদওয়ানুল্লাহ শাহেদীকেও। তাকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার একজন প্রভাবশালী প্রকৌশলী সদস্য জানান, গণমাধ্যমে কথা বলতে শীর্ষনেতাদের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। প্রচার বিভাগের বাইরে যে কেউ কথা বললেই দল থেকে চাপে রাখা হয়। মোবাইল ফোন বন্ধ রাখতে বলা হয়। এরপর প্রচার বিভাগের সহকারি সেক্রেটারি এ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দকে কল করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এসটিএস/এপিএইচ/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
বিএসইসির চেয়ারম্যান রাশেদ মাকসুদ ও ৪ কমিশনারের পদত্যাগ
বিএসইসির চেয়ারম্যান রাশেদ মাকসুদ ও ৪ কমিশনারের পদত্যাগ
দাম বৃদ্ধির একদিন পরই লাইফলাইন গ্রাহকদের জন্য রিভিউ আবেদন
দাম বৃদ্ধির একদিন পরই লাইফলাইন গ্রাহকদের জন্য রিভিউ আবেদন
ফোনালাপ ফাঁসের পর বদলি করা হলো জেল সুপারকে
ফোনালাপ ফাঁসের পর বদলি করা হলো জেল সুপারকে
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম