নাম উল্লেখ না করেই দেশের কোনও একটি রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর সমালোচনা করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, ‘এমনও (দল) আছে, যাদের আমরা হয়তো চিনতে ভুল করতেছি… মনে হচ্ছে (তারা) আমাদের পক্ষে। ওই লোকগুলো আমাদের মধ্যে অনৈক্য সৃষ্টি করার মতো স্লোগান দেয়, অনৈক্য সৃষ্টি করার মতো কথা বলে। যাতে করে স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যারা বা যে শক্তি লড়াই করেছে, তাদের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি হয়।’
তাদের উদ্দেশে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আপনার অতীতও জনগণ জানে, আমার অতীতও জানে।’
বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) এক আলোচনা সভায় দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বক্তব্যের একপর্যায়ে এসব কথা উল্লেখ করেন। রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদের ৩৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ‘৯০-এর জেহাদ স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে এই আলোচনা সভা হয়।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আরেকটা উদ্দেশ্য আছে তাদের। তারা জানে যে, এদেশের জনগণের মন-মানসে বিএনপির অস্তিত্ব এতোই প্রসারিত, এতোই গথিত হয়ে আছে যে, একটা সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তাদের সম্ভাবনা খুব কম। অতএব বিএনপিকে হেয় করা যায় কীভাবে, বিএনপির জনপ্রিয়তাকে নষ্ট করা যায় কীভাবে, বিএনপির দুর্নাম করা যায় কীভাবে… এরকম ষড়যন্ত্রে কেউ কেউ লিপ্ত হওয়ার চেষ্টা করছে।’
এসময় কোনও দল বা জোটের নাম উল্লেখ না করেই বিএনপির সিনিয়র এই নেতা বলেন, ‘আমরা সবাইকে অনুরোধ করবো, আমরা পরস্পর শত্রু নই। আসুন আমরা পরস্পর প্রতিদ্বন্দ্বি হই। আপনি আপনার কথা বলেন, আমি আমার কথা বলি।’
‘আপনার অতীতও জনগণ জানে, আমার অতীতও জানে…। আগামী দিনে যখন সুষ্ঠু নির্বাচন হবে জনগণ নির্ধারিত করবে কাকে তারা তাদের কল্যাণের জন্য দায়িত্ব দেবে আগামী দিনের সরকার পরিচালনার। কিন্তু সেটা না করে মিথ্যা কথা বলা, অন্যায়ভাবে সমালোচনা করা; আল্লাহ সেগুলো পছন্দ করেন না।’
এসময় দুর্গাপূজা চলাকালে দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেন নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, ‘দুর্গা উৎসব চলছে। আমাদের দায়িত্ব হলো— যাতে করে সেখানে কোনও বিশৃঙ্খলা না হয়। সেটা দেখার দায়িত্ব আমাদেরও আছে। কারণ কিছু মানুষ আছে, যারা চক্রান্ত করে সেখানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে আমাদের দেশের বদনাম করার চেষ্টা করবে। এই সরকার কিংবা যারা এই সরকারকে নিয়ে এসেছে, তাদের হেয় করার চেষ্টা করবে। এটা যাতে করতে না পারে সেই নজর আমাদেরকে রাখতে হবে। চেষ্টা করতে হবে যে, তারা এদেশের নাগরিক তারা তাদের ধর্ম পালন করবে যথাযথভাবে এবং নিরাপদে নিশ্চিন্তে যেন তারা ধর্ম পালন করতে পারে… এটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব আমাদের।’
দেশের বিভিন্ন জেলায় চলমান বন্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এখন দেশের অনেক জায়গায় বন্যা হচ্ছে। বন্যাকবলিতদের পাশে দাঁড়িয়ে, তাদের বিপদে তাদের সঙ্গে থেকে তাদের ভালোবাসা আমাদের অর্জন করার চেষ্টা করতে হবে। এভাবে আমাদের আগামী দিনের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।’
দেশের বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ‘সমস্যা হচ্ছে’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বহু পুলিশ সদস্য এখনও কাজে যোগ দেননি। অনেক জায়গা কাজ-কর্ম ঠিক মতো শুরু হয়নি। সেই সব জায়গায় শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষায় আমরা ভূমিকা রাখতে পারি।’
নজরুল ইসলাম আলোচনায় উল্লেখ করেন, শহীদ জেহাদ থেকে আরম্ভ করে এর আগে এবং পরে যারাই আমাদের ভাই-বোনরা শহীদ হয়েছেন, যারাই আমাদের ভাই-বোনরা গুম হয়েছেন তাদের রক্ত কিংবা তাদের স্মৃতির প্রতি আমাদের যাই আছে এই দায় আমাদের পরিশোধ করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা যারা বেঁচে আছি আমাদের দায়িত্ব হলো শহীদদের স্মৃতি মনে রাখা এবং যা তারা চেয়েছিলেন যে জন্য জীবন দিয়েছেন, সেটা অর্জন করা। আর সেই অর্জন করার পথে যেকোনও বাধা আসবে সেই বাধাকে আমাদের অতিক্রম করতে হবে। অতিক্রম করতে হবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে।’
নব্বইয়ের ডাকসুর ভিপি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে ও নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন আলমের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় নব্বইয়ের সাবেক ছাত্র নেতাদের মধ্যে আসাদুজ্জামান রিপন, সালাহউদ্দিন আহমেদ, হাবিবুর রহমান হাবিব, ফজলুল হক মিলন, খায়রুল কবির খোকন, কামরুজ্জামান রতন, খন্দকার লুৎফর রহমান, আসাদুর রহমান খান আসাদ, মীর সরাফত আলী সপু, আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইন, ছাত্র দলের সভাপতি রকিবুল ইসলাম রাকিব ও শহীদ জেহাদের বড় বোন চামেলী মাহমুদ বক্তব্য দেন।
১৯৯০ সালের ১০ অক্টোবর ছাত্রদল নেতা জেহাদ পুলিশের গুলিতে নিহত হলে আন্দোলন আরও তীব্র হয়। জেহাদের লাশ ছুঁয়ে তৎকালীন ছাত্রনেতারা শপথ নেন স্বৈরাচার এরশাদকে হঠানোর। এই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ডিসেম্বরে ক্ষমতা ছাড়েন এরশাদ। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর রাজউক এভিনিউয়ের জেহাদ স্কয়ারে স্মৃতিস্তম্ভে বিএনপির পক্ষ থেকে আমান উল্লাহ আমান, হাবিবুর রহমান হাবিব, খায়রুল কবির খোকন, নাজিমউদ্দিন আলমসহ নেতা-কর্মীরা পুস্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান।









