জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপে মূলত প্রশ্নচিহ্নহীন নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য স্থায়ী সাংবিধানিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ওপরে জোর দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। তাদের পক্ষ থেকে ঐক্যফ্রন্টকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হবে বলে নিশ্চয়তা দেওয়া হয়। আর যা কিছু হবে তার সবই সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার ভেতর থেকেই হবে বলে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে।
বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক সূত্র বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য জানিয়েছে।
সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবার সঙ্গে কুশল বিনিময় করে সূচনা বক্তব্য দেন। এরপর ফ্রন্টের পক্ষে দাবি-দাওয়া তুলে ধরে বক্তব্য দেন ড. কামাল হোসেন। একে একে ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে ১৬ জন নেতা বক্তব্য দেন। বৈঠক সূত্র জানায়, সবাই সাত দফার ভিত্তিতেই কথা বলেন। তারা সবাই প্রধানত সংসদ ভেঙে দেওয়া, নির্বাচন পেছানো, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান। বিশেষ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাদের দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে জোর দেন। আওয়ামী লীগের পক্ষে ঐক্যফ্রন্টের দাবি-দাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশাপাশি কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এবং জাসদ একাংশের সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।
বৈঠক সূত্র জানায়, ঐক্যফ্রন্টের প্রতিটি পয়েন্ট ধরে ধরে জবাব দেন আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের নেতারা। বৈঠকে অংশ নেওয়া আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজুলল করিম সেলিম বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের বিভিন্ন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী একটি স্থায়ী সাংবিধানিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপরে জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ড. কামাল ও অন্যদের বক্তব্যের জবাবে জানান, সংবিধানকে সমুন্নত রাখতে হবে। ১৯৭২ সালের সংবিধান রচনায় ড. কামাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। সেই সংবিধান আওয়ামী লীগ পুনঃস্থাপিত করার চেষ্টা করছে। এখন একটি স্থায়ী নির্বাচনি ব্যবস্থা, দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠন করা, সংসদকে চালু রেখে তা কার্যকর করার জন্য স্থায়ী সাংবিধানিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে যাতে কোনোভাবেই কোনও অগণতান্ত্রিক-অনির্বাচিত কেউ সরকারে আসতে না পারে।’
সেলিম বলেন, “শেখ হাসিনা আলোচনায় ড. কামালকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘ধরুন, আমি পদত্যাগ করলাম, তাতে লাভটা কী হবে? কাকে নিয়ে এসে ক্ষমতায় বসাবেন? তিনি যে যথাযথভাবে অর্পিত দায়িত্ব পালন করবেন, তার নিশ্চয়তা কোথায়?’ শেখ হাসিনা ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচন পেছানোর দাবি প্রসঙ্গে বলেন, ‘সংবিধানসম্মত সময়ে নির্বাচন হওয়া উচিত। নির্বাচনে অংশ নিন, সরকার নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে ১০০ ভাগ সহায়তা করবে। আর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা এবং তারিখ নির্ধারণ নির্বাচন কমিশনের বিষয়। সেটা তারা দেখবে’।”
আলোচনায় উপস্থিত আওয়ামী লীগের আরেক প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি করেন। এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী সেটাকে আইনি বিষয় উল্লেখ করে বলেন, এটা আদালতের এখতিয়ার। সরকারের কিছু করার নেই। মামলা এ সরকার দেয়নি, দিয়েছে এক-এগারোর সরকার, যারা বিএনপিপন্থীই ছিল।’
ড. রাজ্জাক এই প্রতিবেদককে জানান, সার্বিকভাবে প্রধানমন্ত্রী সংবিধানকে সমুন্নত রাখার ওপর জোর দিয়েছেন। সরকারে যেই থাক, বা যেই আসুক, একটি স্থায়ী ব্যবস্থায় নির্বাচন সম্পন্ন করার বিষয়ে সবার সমর্থন কামনা করেন তিনি।
সূত্রমতে, প্রধানমন্ত্রীসহ সরকার পক্ষের নেতারা ঐক্যফ্রন্টকে সভা-সমাবেশসহ রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।








