১৮ বছর হলেই বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ: ইশতেহারে জাসদ

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:৩৯আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:১৮

জাসদের নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) সরকার গঠন করলে সরকারি চাকরি প্রার্থীদের বয়সসীমা ৩৫ বছর করার ক্ষেত্রে প্রচেষ্টা চালাবে এবং ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে সব নাগরিককে বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ দেবে বলে জানিয়েছেন দলের সভাপতি হাসানুল হক ইনু। বুধবার (১৯ ডিসেম্বর) রাজধানীর শহীদ কর্নেল তাহের মিলনায়তনে দলের নির্বাচনি ইশতেহার তুলে ধরে এই কথা জানান ইনু।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন দলীয় সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার, স্থায়ী কমিটির সদস্য মীর হোসাইন আখতার, প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন, মোশাররফ হোসেন, অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান শওকত, নাদের চৌধুরী,  নুরুল আখতার, সহ-সভাপতি শহীদুল ইসলাম,সফি উদ্দিন মোল্লা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক  নইমুল আহসান জুয়েল, সহ-সম্পাদক সৈয়দ শফিকুল ইসলাম মিন্টু, ঢাকা মহানগর পশ্চিম জাসদের সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুন্নবী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জাসদের সভাপতি ইদ্রিস ব্যাপারী প্রমুখ।

সরকার এবং সংসদে দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহিষ্ণুতা (জিরো টলারেন্স) নিয়ে কঠোর অবস্থান গ্রহণের ঘোষণা দিয়ে ইনু বলেন, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য থেকে শুরু করে রাজনৈতিক দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা-নেত্রী, সচিব, সরকারি অধিদফতর-পরিদফতর-বিভাগ-সেক্টর করপোরেশনের প্রধান থেকে শুরু করে শীর্ষ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, সমাজের অন্যান্য ক্ষেত্রের ক্ষমতাবানদের আয়-ব্যয় এবং সম্পদের বিবরণী প্রতি বছর প্রকাশ করা, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির ক্ষেত্র ও উৎসগুলো চিহ্নিত করে সেসব ক্ষেত্রে বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা করার প্রচেষ্টা চালানো হবে।

নির্বাচনি ইশতেহারে মোট ৩৮টি বিষয়কে চিহ্নিত করে দলের আলাদা পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে জাসদ। 

জাতীয় নিরাপত্তা

জাতীয় সংসদে আলোচনা এবং বিভিন্ন পর্যায়ের জনগণের অংশগ্রহণ ও আলোচনার মাধ্যমে সমন্বিত জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতি প্রণয়ন করা। ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে সকল নাগরিককে বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা।

সরকার পরিচালনায় ভারসাম্য,রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণে জন আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানো:

জাসদ সরকার গঠনে ভূমিকা রাখলে সরকারের ভেতরে শ্রমিক-কর্মচারী-কৃষক-নারীর পক্ষে ভারসাম্য সৃষ্টি, সরকারের নীতি নির্ধারণে জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানো, বিশেষ করে শ্রমিক-কর্মচারী-কৃষক-কৃষি শ্রমিক-শ্রমজীবী এবং কর্মজীবী-পেশাজীবী-মেহনতি মানুষ-কৃষি ও শিল্পে দেশীয় উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারী-নারী-ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু, আদিবাসীসহ সমাজের শোষিত বঞ্চিত পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করা, সরকারকে জনগণের প্রতি সংবেদনশীল ও গণমুখী রাখার জন্য সার্বক্ষণিক প্রচেষ্টা চালাবে।

রাষ্ট্রীয় মূলনীতি অনুসরণ:

সরকার পরিচালনার সকল ক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তথা ১৯৭২ সালের সংবিধানে বিধৃত মূল রাষ্ট্রীয় চার নীতি গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও জাতীয়তাবাদ অনুসরণ করা, তথাকথিত মুক্ত বাজারের হাতে দেশ ও জনগণের ভাগ্য ছেড়ে না দিয়ে জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে ‘পরিকল্পিত জাতীয় অর্থনীতি’ এবং ‘সামাজিক অর্থনীতি’ অনুসরণ করবে এবং মৌলিক মানবাধিকার বিরোধী সকল কালাকানুন বাতিল করার জন্য ভূমিকা রাখবে।

মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা

মুক্তিযুদ্ধের মীমাংসিত বিষয়কে অমীমাংসিত না করা ও ঐতিহাসিক সত্যকে বিকৃত ও অস্বীকার না করা,মুক্তিযুদ্ধে যার যা অবদান তার স্বীকৃতি ও সম্মান প্রদর্শন করা, মুক্তিযোদ্ধাদের জাতীয় বীরের মর্যাদাসহ রাষ্ট্রীয়, সামাজিক, আর্থিক মর্যাদা সুনিশ্চিত করা, মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি করা, মুক্তিযুদ্ধের শহীদ-শহীদ পরিবার-মুক্তিযুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের তালিকা প্রণয়ন করা এবং তাদের যথাযথ রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদান করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে।

জঙ্গিবাদ দমন:

জাসদ সরকার গঠনে ভূমিকা রাখলে জঙ্গিবাদ ও জঙ্গিবাদী নেটওয়ার্কগুলো ধ্বংস করে জাতীয় নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জঙ্গিবাদবিরোধী রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অভিযান অব্যাহত রাখা এবং জঙ্গিবাদবিরোধী আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করার জোর প্রচেষ্টা চালাবে।

যুদ্ধাপরাধের বিচার:

জাসদ সরকার গঠনে ভূমিকা রাখলে ১৯৭১ সালে জাতির ওপর পরিচালিত যুদ্ধাপরাধের বিচার অব্যাহত রাখার জন্য সোচ্চার থাকবে। যুদ্ধাপরাধের দায়ে যুদ্ধাপরাধী সংগঠন হিসাবে জামাত-রাজাকার-আলবদর-আলশামস্ বাহিনীসহ অপসংগঠনের বিচারের দাবিতে সোচ্চার থাকবে। পাশাপাশি জামাত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধের বিষয়ে সোচ্চার থাকবে।

ডিজিটাল বাংলাদেশ তথা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সম্প্রসারণ

জনগণকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি দ্বারা ক্ষমতাবান করতে, জনগণের তথ্য জানার অধিকার আরও সহজ করতে,সরকারি সেবাগুলোকে সহজলভ্য ও জনগণের নাগালের মধ্যে নিতে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ তথা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সম্প্রসারণের জন্য সোচ্চার থাকবে। ই-গভর্নেন্স ও ই-পরিসেবা সম্প্রসারিত করতে অব্যাহত ভূমিকা রাখবে।

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা, সুশাসন ও আইনের শাসন

জাসদ সরকার গঠনে ভূমিকা রাখলে সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকারকে সকল বিষয়ে সংসদের কাছে জবাবদিহির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, সংসদের প্রথম অধিবেশনেই সংসদীয় কমিটি সমূহ গঠন এবং সংসদীয় কমিটি সমূহের প্রকাশ্য গণশুনানির ব্যবস্থা চালু করা, ৭০ ধারা সংশোধন করে সংসদ সদস্যদের স্বাধীন ভূমিকা নিশ্চিত করা, তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের সকল বিষয়ে জনগণের জানার অধিকার নিশ্চিত করা, সংবিধান ও আইন অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের পরিবেশ সৃষ্টি এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করা, যত ক্ষমতাবানই হোক না কেন কাউকেই আইনের উর্ধে ওঠার সুযোগ বন্ধ করা এবং সকল মানুষের অধিকার রক্ষা বা অধিকার খর্ব হলে প্রতিকার পাবার ব্যবস্থা করে আইনের শাসন সুনিশ্চিত করার প্রচেষ্টা চালাবে।

আইন-শৃঙ্খলা

আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশসহ সকল আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সংবিধান ও আইন অনুযায়ী পরিচালনা করা, স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া, এ সকল সংস্থার দক্ষতা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধি করা, ফৌজদারি অভিযোগের তদন্ত ও প্রসিকিউশন পৃথক করা, পুলিশ বিভাগ সংস্কার-পুনর্গঠন-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও কার্যকর করার জন্য পুলিশ কমিশন গঠন করার প্রচেষ্টা চালাবে।

সংসদ ও নির্বাচন পদ্ধতি সংস্কার

বর্তমান এক কক্ষ বিশিষ্ট সংসদের বদলে শ্রমজীবী-কর্মজীবী-পেশাজীবী-নারী-ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বা-আদিবাসী-স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধি নিয়ে সংসদে উচ্চকক্ষ গঠন করে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদীয় ব্যবস্থা চালু এবং বর্তমান সংসদ গঠনের জন্য অঞ্চলভিত্তিক প্রতিনিধিত্বের বদলে সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতি চালু করতে ভূমিকা রাখবে।

স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণ

জাসদ সরকার গঠনে ভূমিকা রাখলে নিয়মিত উপজেলা, জেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠান করা, স্থানীয় সরকারের ওপর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়সহ মন্ত্রী, এমপি, আমলাদের সকল ধরনের নিয়ন্ত্রণ ও খবরদারি বন্ধ করে স্থানীয় সরকার কমিশনের ওপর স্থানীয় সরকারগুলোকে গতিশীল দায়বদ্ধ ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে আর্থিক ক্ষমতাসহ সকল দায়িত্ব অর্পণের প্রচেষ্টা চালাবে।

শিক্ষা

জাসদ সরকার গঠনে ভূমিকা রাখলে শিক্ষা ব্যবস্থার নিম্নমান-নৈরাজ্য-বিশৃঙ্খলা-বিপর্যয়-সংকটকে জাতীয় জরুরি অবস্থা হিসাবে সর্বোচ্চ গুরুত্ব ও অগ্রাধিকার প্রদান করে শিক্ষা ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে জাতীয় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা, জাতীয় সংসদে আলোচনা এবং শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত শিক্ষক-গবেষক-বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে অবিলম্বে জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন করার প্রচেষ্টা চালাবে, যাতে করে সরকার বদলের সাথে সাথে শিক্ষা নীতি বদলের পুরাতন নোংরা রাজনীতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে। পাঠ্যপুস্তক থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ঐতিহ্যবাহী বাঙালি জাতীয় সংস্কৃতি বিরোধী উপাদানসমূহ দূর করা, সাম্প্রদায়িকতা ভাবাপন্ন উপাদানসমূহ রহিত করা, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ভর্তি পরীক্ষা কেন্দ্রীয়ভাবে গ্রহণ করা, প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা এবং শুন্য সহিষ্ণুতা দিয়ে মোকাবিলা করার বিষয়ে সোচ্চার থাকবে।

তরুণদের ভবিষ্যত নির্মাণ

জাসদ সরকার গঠনে ভূমিকা রাখলে দেশের প্রতিটি তরুণের জন্য নিশ্চিত ভবিষ্যত গড়তে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করার মত মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা, শিক্ষা শেষে দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র বিস্তৃত করা, স্ব উদ্যোগে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র বিস্তৃত করা যাতে করে প্রতিটি তরুণ যেন বেকার না থাকে এবং জাতীয় উন্নয়ন, সমাজ ও পরিবারের জন্য অবদান রাখার সুযোগ নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখবে।

কর্মসংস্থান

গ্রাম-শহর, শিক্ষিত-নিরক্ষর, দক্ষ-অদক্ষ নির্বিশেষে সকল কর্মক্ষম নাগরিকের তালিকা প্রণয়ন ও তাদের রেজিস্ট্রেশন কার্ড প্রদান করা, প্রতি পরিবারে কমপক্ষে একজনের জন্য বছরে অন্তত ১০০ দিনের নিশ্চয়তাসহ কাজের ব্যবস্থা করা, বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য প্রশিক্ষণ ও অর্থায়ন করা এবং বিদেশে শ্রম বাজার সৃষ্টির জন্য বিশেষ কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করা, কর্মসংস্থান কমিশন গঠন করা,চাকরি প্রার্থীদের রেজিস্ট্রেশন ও ডাটাবেজ তৈরি করা, সরকারি শূন্য পদসমূহে দ্রুত নিয়োগ সম্পন্ন করা এবং সরকারি চাকরি প্রার্থীদের বয়সসীমা ৩৫ বছর করার ক্ষেত্রে প্রচেষ্টা চালাবে।

বিদেশ থেকে মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনকারী প্রবাসীদের কর্মস্থলে অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করা, অদক্ষ শ্রমিকদের বিদেশে যাওয়ার পূর্বে সরকারি উদ্যোগে ভাষাগত প্রশিক্ষণ প্রদানে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে, প্রবাসীদের দেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা প্রদান করা,প্রবাসীদের দেশে আসা যাওয়ার পথে বন্দরে এবং এলাকায় বিশেষ মর্যাদা ও নিরাপত্তা প্রদান করার জন্য প্রচেষ্টা চালাবে।

মাদকের ছোবল থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা করা

মাদক ও নেশাদ্রব্যের সহজপ্রাপ্যতা রোধ, মাদক নেটওয়ার্ক ধ্বংসের কাজ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি কর্তব্য হিসাবে বিবেচনা করে শুন্য সহিষ্ণুতা দিয়ে মাদকবিরোধী অভিযান কঠোরভাবে এগিয়ে নিতে সোচ্চার থাকবে।

নারী সমাজের উন্নয়ন

নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক সকল আইন বাতিল করা,১৯৯৭ সালের নারী উন্নয়ন নীতিমালা বাস্তবায়ন করা, জাতীয় সংসদে ৩৩% ভাগ আসন নারীদের জন্য সংরক্ষণ ও সরাসরি নির্বাচন অনুষ্ঠান, স্থানীয় সরকার সংস্থায় ৩৩% ভাগ প্রতিনিধিত্ব নারীদের জন্য সংরক্ষণ, রাজনৈতিক দল, ট্রেড ইউনিয়নসহ সকল প্রতিনিধিত্বশীল সংস্থায় ৩৩% ভাগ প্রতিনিধিত্ব নারীদের জন্য সংরক্ষণ, সরকারি-বেসরকারি সকল কর্মজীবী নারীদের জন্য সবেতন ৬ মাস মাতৃত্বকালীন ছুটি, সমকাজে নারী-পুরুষ সমান মজুরি চালু করতে ভূমিকা রাখবে।

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ,খাদ্য নিরাপত্তা, দরিদ্র ও স্বল্প আয়ের মানুষ বাঁচাতে রাষ্ট্রীয় সমর্থন

জাসদ সরকার গঠনে ভূমিকা রাখলে সরকারের ভিতরে প্রথম দিন থেকেই সর্বোচ্চ জাতীয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাজারের ওপর জনগণের ভাগ্য ছেড়ে না দিয়ে মানুষ বাঁচাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য ও জীবনযাপন ব্যয়ের লাগামহীন উর্ধগতি নিয়ন্ত্রণ করতে সুপরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসমূহের চাহিদা ও মজুতের পরিমাণ সার্বক্ষণিক নজরদারি ও নিরূপণ করে শুধুমাত্র ব্যবসায়ীদের ওপর নির্ভরশীল না থেকে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে চাহিদা মতো বিদেশ থেকে আমদানি ও অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে সংগ্রহ করে খাদ্য নিরাপত্তা গড়ে তোলার জন্য প্রথম বাজেটেই বরাদ্দ করা, টিসিবিকে সক্রিয় করা, গ্রাম ও শহরে শ্রমিক-কর্মচারী-কৃষি শ্রমিক-নিম্ন আয়ের মানুষ-বস্তিবাসীদের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালু, ভিজিএফ কার্ডধারীর সংখ্যা বৃদ্ধি, বয়স্ক ও দুস্থ নারীদের জন্য ভাতার সংখ্যা ও পরিমাণ বৃদ্ধি, টেস্ট রিলিফ ও কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি সম্প্রসারিত করা, কৃষি উৎপাদন নিরবিচ্ছিন্ন রাখা ও বৃদ্ধির জন্য চাহিদা মত সার-বীজ-ডিজেল সহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ সরবারহ নিশ্চিত করতে প্রথম বাজেটেই প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা, বিএডিসিকে সক্রিয় করার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাবে। খাদ্য ও ঔষুধে ভেজালের বিরুদ্ধে শুন্য সহিষ্ণুতা নিয়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করার ক্ষত্রে অব্যাহত ভূমিকা রাখবে।

সামষ্টিক অর্থনীতি

জাতীয় উৎপাদিকা শক্তির বিকাশ জাতীয় অর্থনীতির প্রধান লক্ষ্য হিসাবে নির্ধারণ করা। ব্যক্তি-সমাজ-বাজার-রাষ্ট্রের সমন্বয় ও পরিকল্পনার আওতায় কাঠামোগত অন্যায্যতা দূর করার দীর্ঘমেয়াদী কর্মসূচির ভিত্তিতে জাতীয় মালিকানায় পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা পুনরায় চালু করা। বিদেশী ঋণ ও ঋণসহায়তা গ্রহণ ও ব্যবহার, বরাদ্দ ও ব্যয় এবং সুদ ও পরিশোধ বিষয়ে জাতীয় কমিশন গঠন করা। জনগণকে অবহিত না করে এবং জাতীয় সংসদে আলোচনা না করে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বিষয়ে কোন আন্তর্জাতিক চুক্তি না করা।

কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি

গ্রামীণ অর্থনীতি, কৃষি ও অকৃষি খাতের বিকাশ এবং কর্মসংস্থান তৈরির বিশেষ রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা। ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকদের বাজার অভিজ্ঞতা ও উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে তাদের ‘বাজারজাতকরণ সমবায়’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে কার্যকর নীতি প্রণয়ন ও সর্বোচ্চ পুঁজি-প্রযুক্তি সহায়তা দেওয়া।

জাতীয় শিল্প

ম্যানুফ্যাকচারিং সহ ক্ষুদ্র-মাঝারি ও বিকাশমান শিল্প, কৃষিভিত্তিক শিল্পসহ দেশজ মালিকানাকে ব্যাপক সংরক্ষণমূলক পদক্ষেপের আওতায় নিয়ে আসা, আমদানি শুল্ক বাড়ানো এবং ভবিষ্যতে আমদানি শুল্ক আরো বাড়ানোর জন্য সরকারের স্বাধীনতা বজায় রাখতে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া, দেশজ মালিকানার শিল্প সংরক্ষণে ঋণ ও অবকাঠামো সুবিধা এবং কাঁচামাল আমদানিতে সুবিধা দেয়া, বিশ্বের বাজারে শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ নেয়া, কর্মসংস্থান, আভ্যন্তরীণ পণ্য ও সেবার ব্যবহার ও ব্যালেন্স অব পেমেন্ট দেশের অনুকূলে রাখার শর্তে বিদেশী বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা, বিদেশী বিনিয়োগকে আভ্যন্তরীণ নজরদারির আওতায় নিয়ে আসা, দেশজ টেক্সটাইল শিল্পের বিকাশে এবং গার্মেন্টস খাতের অগ্র-পশ্চাদ শিল্প গড়ে তোলায় সহায়তা দেওয়া, গ্রামীণ তাঁত শিল্পকে রফতানিমুখী পোশাক শিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা, চিনি ও পাট শিল্প পুনরুদ্ধার করা, পাট কমিশন গঠন করা ও বাজেটে বিশেষ থোক বরাদ্দ দেওয়া, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য ন্যূনতম ৫০০০ কোটি টাকার শিল্পায়ন তহবিল গঠন করা এবং যতদিন বিকল্প অর্থায়ন নিশ্চিত না হয় ততদিন তা ১০% হারে বৃদ্ধি করা, শিল্পঋণের সুদের হার বাংলাদেশ ব্যাংককে দেয় সুদের হারের ২%-এর বেশি না করা এবং কোনোক্রমেই মোট ৮%-এর বেশি না করা, দেশের প্রতিটি জেলায় একটি করে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল চালু করার প্রচেষ্টা চালাবে।

সেবাখাত

শিক্ষা-চিকিৎসা-পানির মতো মৌলিক সেবা খাত থেকে রাষ্ট্রের হাত গুটিয়ে নেয়ার নীতি পরিহার করা, বাংলাদেশের সেবাখাতকে অর্থনীতির প্রধানতম, বিকাশমান ও সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করে একে সংরক্ষণমূলক পদক্ষেপের আওতায় নিয়ে আসা, সেবাখাতে অতীত উদারীকরণের মূল্যায়ন না করে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা ও বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ-এর পরামর্শে নির্বিচার উদারীকরণ বন্ধ করা। স্বল্পদক্ষ ও আধাদক্ষ শ্রমিকের বিশ্বব্যাপী কাজের অধিকার নিশ্চিত করতে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় কার্যকর উদ্যোগ নেয়া, বিতরণ, পানি, নির্মাণ, তথ্যপ্রযুক্তি, হোটেল রেস্টুরেন্ট, পর্যটন, স্বাস্থ্য, বন্দর, গ্যাসসহ পৌরসেবা ও মৌলিক পরিসেবাসমূহ বিদেশি কোম্পানির জন্য কোনোক্রমেই উদার না করার ক্ষেত্রে ভূমিকা গ্রহণ করবে।

শ্রমিক ও নারী শ্রমিক

শহর-গ্রাম, কৃষি-শিল্প-সেবা, প্রাতিষ্ঠানিক-অপ্রাতিষ্ঠানিক, নারী-পুরুষ, সরকারি-বেসরকারি-ইপিজেড নির্বিশেষে সকল ক্ষেত্রের শ্রমিকের শ্রমিক হিসাবে রেজিস্ট্রেশন করা এবং ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার নিশ্চিত করা, ন্যূনতম জাতীয় মজুরি চালু করা, অপ্রাতিষ্ঠানিক ও কৃষিক্ষেত্রে শ্রম আইন চালু করা, নারী শ্রমিকের সম কাজে সম মজুরি, মাতৃত্বকালীন ছুটি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে অবদান রাখবে।

হতদরিদ্র, নগর দরিদ্র ও বস্তিবাসী, গ্রামীণ ভূমিহীন ও বাস্তুহারা

বস্তিবাসীর রেজিস্ট্রেশন করা, পুনর্বাসন ব্যতিরেকে হকার-বস্তি উচ্ছেদ না করা, বস্তিবাসীর জন্য মৌলিক পরিসেবা নিশ্চিত করা, আবাসন প্রকল্প চালু করা, গ্রামীণ ভূমিহীন ও বাস্তুহারাদের খাস জমিতে পুনর্বাসন করা, হতদরিদ্রদের জন্য সকল ব্যাংকের মোট আমানতের ৫% দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচিতে বাধ্যতামূলকভাবে বিনিয়োগ করা, দুর্যোগ তহবিল গঠন করার ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

প্রতিবন্ধীদের অধিকার

পরিবার-সমাজ-রাষ্ট্রের কোন ক্ষেত্রেই প্রতিবন্ধীরা যেন কোনও ধরনের অবহেলা-বৈষম্যের শিকার না হয় তার জন্য প্রতিবন্ধীদের অধিকার সংরক্ষণে আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রতিবন্ধীদের সমর্থন প্রদান।

জনস্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা

সকল নাগরিকের জন্য স্বল্পমূল্যে স্বাস্থ কার্ড প্রদান করে সকল পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সুযোগ নিশ্চিত করা, উপজেলা হেলথ্ কমপ্লেক্স ও ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত ও সহজলভ্য করা, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারকে কমিয়ে নেতিবাচক হারে আনার জন্য পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত করাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা, জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে জাতীয় স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়ন করা যেন সরকার বদলের সাথে সাথে স্বাস্থ্য নীতি বদলের পুরাতন নোংরা রাজনীতির পুনরাবৃত্ত না ঘটে সে ব্যাপারে ভূমিকা রাখবে।

ভূমি ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনা

ভূমি সংস্কার এবং ভূমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে গ্রাম ও শহরের জন্য ভূমি ব্যবহার নীতি প্রণয়ন করা, ভূমি কমিশন গঠন করা, খাস জমি, সিলিং উদ্বৃত্ত জমি, বেদখলকৃত জমি রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা, কোন জমি বিদেশি কোম্পানির কাছে স্থায়ী হস্তান্তর নিষিদ্ধ করা, বাজার-হাট-মাঠ-ঘাট-হাওড়-বাওড়-খাল-বিল-নালা ইজারা দেওয়া সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা, ভূমি প্রশাসন সংস্কার করা, ভূমি সংক্রান্ত আইনগত সমস্যা নিরসনে বিশেষ আদালত গঠন করাতে ভূমিকা রাখবে।

বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি ও জ্বালানি নিরাপত্তা

জাসদ সরকার গঠনে ভূমিকা রাখলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবোচিত সম্ভাব্য সকল উপায়কে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি, পারমানবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ও আঞ্চলিক সহযোগিতার ভিত্তিতে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন প্রচেষ্টা চালাবে। জাতীয় সম্পদ গ্যাস-কয়লার ব্যবহার ও বিদ্যুৎ উৎপাদন নিয়ে একটি সমন্বিত জ্বালানি নিরাপত্তা নীতি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করার প্রচেষ্টা চালাবে।

গ্যাস-কয়লাসহ জাতীয় সম্পদ

গ্যাস ও কয়লা সহ খনিজ সম্পদ এবং সামুদ্রিক ও উপকূলীয় সম্পদের ওপর জাতীয় মালিকানা নিশ্চিত করা। গ্যাস-কয়লা সহ অনুসন্ধান-উত্তোলন-বিপণনের ক্ষেত্রে বিদেশী কোম্পানির সাথে সম্পাদিত জাতীয় স্বার্থ বিরোধী সকল অসম গোপন উৎপাদন-বণ্টন চুক্তি বাতিল করা। ইউনোকল ও নাইকোর কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে।

প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ

জাসদ সরকার গঠনে ভূমিকা রাখলে দেশের প্রাণী ও জীববৈচিত্র সংরক্ষণে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করার প্রচেষ্টা চালাবে।

পানি সম্পদ

নদ-নদী, খাল-বিল, হাওড়-বাওড় সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া, হাওড়-বাওড় এলাকার উন্নয়নে সমন্বিত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সোচ্চার থাকবে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পদ্মা বহুমুখী বাধ, কালনী-কুশিয়ারা প্রকল্প ও উপকূলীয় বাধ পুনর্বাসন প্রকল্প চালু করা, ভারত থেকে বাংলাদেশের মধ্যে প্রবাহিত ৫৪টি আন্তর্জাতিক নদ-নদীর পানি প্রবাহ ও বণ্টনে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করা এবং ভারতের আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প ও টিপাইমুখ বাধ স্থগিত করতে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়াসহ দক্ষিণ হিমালয় অঞ্চলে যৌথ পানি সম্পদ ব্যবহার, পরিবেশ-প্রকৃতি রক্ষায় বহুপাক্ষিক উদ্যোগ গ্রহণ করবে। নদী দূষণ ও দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে সোচ্চার থাকবে।

পরিবেশ, প্রকৃতি ও জলবায়ু পরিবর্তন

প্রাণবৈচিত্র, পরিবেশ, প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াবিরোধী সকল কার্যক্রম কঠোরভাবে বন্ধ করা। অবকাঠামোসহ যে কোনও উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নে স্থানীয় ও লোকজ জ্ঞানের ব্যবহার এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় জাতীয় নীতি প্রণয়ন করার জন্য ভূমিকা রাখবে।

নিরাপদ সড়ক

সড়ক-মহাসড়কে অব্যাহত দুর্ঘটনা কমিয়ে আনা। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে পরিবহণ মালিক-শ্রমিক-ট্রাফিক পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিয়ে নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে সমন্বিত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে প্রচেষ্টা চালাবে।

বন্দর ও যোগাযোগ অবকাঠামো

চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্ষমতার সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ণ করা, মংলা বন্দরকে সচল ও সম্প্রসারিত করা, পায়রা সমুদ্র বন্দরের নির্মাণ কাজ তড়িৎ গতিতে সম্পূর্ণ করে পুরোদমে বন্দরের কাজ চালু করা। সোনাদিয়া গভীর সমুদ্র বন্দরের কাজ শুরু করা। ট্রান্স এশিয়ান সড়ক নেটওয়ার্কের সাথে বাংলাদেশকে যুক্ত করা, পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন করা। দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে।

ধর্মীয়, জাতিগত সংখ্যালঘু ও আদিবাসীদের অধিকার

ধর্মীয় ও জাতিগত কারণে নাগরিকদের মধ্যে সকল ধরনের বৈষম্যের অবসান করা, শত্রু সম্পত্তি আইন বাতিল করা, পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন করা, সমতলের আদিবাসী ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের ভূমির ওপর ঐতিহ্যবাহী অধিকার নিশ্চিত করার জন্য ভূমি কমিশন গঠন, ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বার সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান করার জোর প্রচেষ্টা চালাবে।

ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি

সকল নাগরিকের নির্ভয়ে শান্তিতে ধর্ম পালনের অধিকার নিশ্চিত করা। মসজিদ-মন্দির-গির্জা-প্যাগোডাসহ সকল ধর্মীয় স্থানে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করে ধর্মীয় উপসনালয়ের পবিত্রতা ও শান্তি নিশ্চিত করা, ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার বন্ধ করা, সকল ধর্মের মানুষদের মধ্যে সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহ-অবস্থান বজায় রাখা। ধর্মভিত্তিক রাজনীতি, সাম্প্রদায়িকতা, ফতোয়াবাজি নিষিদ্ধ করতে অব্যাহত ভূমিকা রাখবে।

রোহিঙ্গা ইস্যু

মিয়ানমার সরকার ও সেনাবাহিনীর জাতিগত নিপীড়ন ও নির্যাতনে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিঃশর্তভাবে মিয়ানমারে প্রত্যাবর্তনে মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বি-পাক্ষিক যোগাযোগের পাশাপাশি মিয়ানমার সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতা নিরবচ্ছিন্ন ও জোরদার করতে ভূমিকা রাখবে।

পররাষ্ট্র নীতি ও আন্তর্জাতিক-আঞ্চলিক-উপআঞ্চলিক সহযোগিতা

জাতীয় স্বার্থ, নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে সকল দেশের সঙ্গে সহযোগিতা ও বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তোলা, ভারতের সঙ্গে ঝুলে থাকা দ্বিপাক্ষিক সমস্যার সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা, সার্ক কার্যকর করা, উপমহাদেশীয় যৌথ আঞ্চলিক নিরাপত্তা-কাঠামো গঠনের উদ্যোগ নেয়া; এক দেশ কর্তৃক অন্য দেশের বিক্ষুব্ধ জনগোষ্ঠীকে পৃষ্ঠপোষকতা না করা, অগ্রযাত্রার পথে ঝুলে থাকা অতীতকে বিযুক্ত করা ও সাম্প্রদায়িকতা বর্জন করা, সমতা ও মর্যাদার ভিত্তিতে এবং সামরিক কাজে ব্যবহার না করার শর্তে আন্তর্জাতিক বিধান অনুসারে বহুপাক্ষিক যোগাযোগ ব্যবস্থা পরস্পরের জন্য উন্মুক্ত করা, পারমাণবিক প্রতিযোগিতা বন্ধ করা। বিশ্ব বাণিজ্য পরিসরে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর অভিন্ন স্বার্থে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ ও দরকষাকষি করার ক্ষেত্রে অবদান রাখবে।

/এসও/টিএন/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
একনজরে আজকের আলোচিত খবর
একনজরে আজকের আলোচিত খবর
জনআস্থা ও জবাবদিহিমূলক সংসদ গঠনে সাংবিধানিক জ্ঞান জরুরি: ডেপুটি স্পিকার
জনআস্থা ও জবাবদিহিমূলক সংসদ গঠনে সাংবিধানিক জ্ঞান জরুরি: ডেপুটি স্পিকার
প্রতিনিধি পরিষদের ইরান যুদ্ধ-বিরোধী ভোটের প্রতিক্রিয়ায় মুখ খুললেন ট্রাম্প
প্রতিনিধি পরিষদের ইরান যুদ্ধ-বিরোধী ভোটের প্রতিক্রিয়ায় মুখ খুললেন ট্রাম্প
জনগণের আস্থা অর্জনে কাজ করছে জাতীয় সংসদ: স্পিকার
জনগণের আস্থা অর্জনে কাজ করছে জাতীয় সংসদ: স্পিকার
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী