রংপুর-৩: নির্বাচনি আমেজ নেই ভোটের মাঠে

Send
মাহবুব হাসান, রংপুর থেকে
প্রকাশিত : ০৭:৪৫, অক্টোবর ০৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:১৯, অক্টোবর ০৩, ২০১৯

নির্বাচনের আর মাত্র এক দিন বাকি। তবু জমজমাট প্রচারণা নেই, সাধার‌ণ মানুষের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে আলোচনা নেই। রংপুর শহর ও তিনটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত রংপুর-৩ আসনের এই উপনির্বাচন নিয়ে তৈরি হয়নি কোনও আমেজ।

প্রার্থীদের গণসংযোগেও জমেনি দেশের উত্তর জনপদের প্রাণকেন্দ্রের এই নির্বাচন। জনজীবন একদম স্বাভাবিক। যে যার মতো করে তার কাজ করে যাচ্ছেন। নির্বাচন মানেই যে মুহুর্মুহু মিছিল-স্লোগান, কোথাও সেই আওয়াজও নেই।

আগামী শনিবার (৫ অক্টোবর) এই উপনির্বাচনে ভোট নেওয়া হবে। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে আসনটি শূন্য হয়। 

বুধবার (২ অক্টোবর) শহরের পৌরবাজার, পায়রাচত্বর, শাপলাচত্বর, লালবাগ, খামার, আদর্শপাড়া, সেনপাড়া, মুলাটোল, চেকপোস্টসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নির্বাচন প্রশ্নে সবাই নীরব।

পৌরবাজারের ফোন-ফ্যাক্সের ব্যবসায়ী শাহেদ রহমানের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। নির্বাচনের কী অবস্থা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মাইকিং করে প্রার্থীদের পক্ষে ভোট চাওয়া হচ্ছে। কিন্তু মাইক বেজেই যাচ্ছে, মানুষ যার যার কাজ করছে। কারও সেদিকে মনোযোগ নেই।’

ভোট নিয়ে কেন আগ্রহ নেই, প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন দল। তারা নির্বাচনে নেই, তাই তাদের নেতাকর্মীরাও নেই। জাতীয় পার্টির প্রার্থী রাহগীর আলমাহি সাদ এরশাদের পক্ষে দলের নেতাকর্মীরা নামে নাই। আবার জাতীয় পার্টির বিদ্রোহী প্রার্থী আসিফ শাহরিয়ার রংপুরের অধিবাসী হলেও দল পাশে না থাকায় তার পক্ষেও লোকজন খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। আর বিএনপি প্রার্থী রিটা রহমানকে সাদ এরশাদের মতোই আগন্তুক মনে করছে এই শহরের মানুষ।’

এসব কারণেই এই তিন প্রার্থীর কারও পক্ষেই স্থানীয় বড় নেতাদের দেখা যায়নি এবং কারও কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি। 

বুধবার দিনের প্রথম ভাগে পৌরবাজারে গণসংযোগ করেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী সাদ এরশাদ। আর বিকালে শহরের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র শাপলাচত্বরে পথসভা ছিল তার। সেখানে জাতীয় পার্টির নেতাদের পাশাপাশি রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মণ্ডল অংশ নেন। কিন্তু এখানেও একই দৃশ্য। মাত্র শ’তিনেক মানুষ এ পথসভায় অংশ নেন। দুপুরের দিকে মাহীগঞ্জ-সাতমাথা এলাকায় গণসংযোগ করেন বিএনপি প্রার্থী রিটা রহমান। মাত্র ২০-২৫ জন নেতাকর্মী নিয়ে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যান তিনি।

স্থানীয় বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গণসংযোগে পিছিয়ে আছেন আসিফ শাহরিয়ার। তিনি দুপুরের আগে গণসংযোগ বা প্রচারণায় বের হন না। তার প্রমাণও মিললো মাঠে গিয়ে। সারাদিন দেখা নেই তার কোনো নেতাকর্মী বা প্রচারণা টিমের। তবে সন্ধ্যায় তার পক্ষে গঙ্গাচড়ার খলেয়ায় একটি পথসভা করা হয়।

সুশাসনের জন্য নাগরিক—সুজনের রংপুর শাখার সভাপতি অধ্যক্ষ খন্দকার ফখরুল আনাম বেনজুর কাছে সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্থানীয় প্রার্থী না থাকায় মানুষের আগ্রহে ভাটা পড়েছে।

এর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘যদি কারও একটা ডিও লেটারই প্রয়োজন হয়, সেটা নেওয়ার জন্য নির্বাচনের পর তারা কোথায় যাবে? কারণ, একজন রংপুরে এই প্রথম এসেছেন। আরেকজন জেলহত্যার খুনির স্ত্রী এবং বিতর্কিত ব্যক্তির মেয়ে। আর আরেকজন রংপুরের হলেও মূলস্রোতের নন। স্বাভাবিকভাবে এখানে মাঝারি ও মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরা নিষ্ক্রিয়।’ তাই জনমনেও নির্বাচন নিয়ে সাড়া নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অবশ্য নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের একজন শীর্ষ নেতা এ বিষয়ে দিয়েছেন কৌশলী উত্তর। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সভা এবং সব উপজেলায় বর্ধিত সভা করে নেতাকর্মীদের জাতীয় পার্টির প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু জাতীয় পার্টির চারপাশে জামায়াত-শিবির এবং অরাজনৈতিক ব্যক্তির ভিড়। তাই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মাঠে নেমেও পিছিয়ে আসছেন।

/এইচআই/এমএমজে/

লাইভ

টপ