প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দেবে বিএনপি

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২০:১১, নভেম্বর ০২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:০১, নভেম্বর ০২, ২০১৯

স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে বক্তব্য রাখছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সাম্প্রতিক ভারত সফরে দেশটির সঙ্গে করা চুক্তিগুলো সম্পর্কে জানতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিঠি দেবে বিএনপি। শনিবার (২ নভেম্বর) রাতে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে দলটির স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফর করে এসেছেন। সেখানে তিনি দেশটির সঙ্গে কয়েকটি চুক্তি করেছেন। সেই চুক্তিগুলো সম্পর্কে আমরা জানতে তাকে চিঠি দেবো।’

তবে কবে চিঠি দেওয়া হবে, সে ব্যাপারে জানাননি মির্জা ফখরুল।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘চুক্তিগুলো সম্পর্কে জানতে তথ্য অধিকার আইন সামনে রেখে তথ্য কমিশনেও চিঠি দেওয়া হবে।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফর নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, তার ভারত সফরে করা চুক্তিগুলো অবিলম্বে দেশবাসীর সামনে প্রকাশ করার আহ্বান জানাচ্ছি। কারণ, চুক্তিগুলো নিয়ে দেশবাসীর মধ্যে অনেক জিজ্ঞাসা আছে। দেশের স্বাধীনতার সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন এখানে জড়িত আছে।  অবিলম্বে চুক্তিগুলোর পুরো তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করা দাবি জানাচ্ছি।

ভারতের সঙ্গে ফেনী নদীর পানিবণ্টন চুক্তির প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, ভারতকে পানি দিতে আমাদের কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু আমাদের তিস্তা নদীর পানির যে দীর্ঘকালের সমস্যা সেটা সমাধান হচ্ছে না। বলা হচ্ছে এখন ভারতের সঙ্গে আমাদের সবচেয়ে বেশি সুসম্পর্ক আছে। কিন্তু আমাদের সমস্যার কোনও সমাধান হচ্ছে না।

মির্জা ফখরুল বলেন, কয়েকদিন আগে বিএসএমএমইউ হাসপাতালের পরিচালক বলেছেন খালেদা জিয়া ভালো আছেন। সভায় এর তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, হাসপাতাল পরিচালক সঠিক তথ্য দেননি, তিনি (খালেদা জিয়া) অত্যন্ত অসুস্থ, পঙ্গুত্বের পর্যায়ে যাচ্ছেন। অলমোস্ট তিনি ক্রিটিক্যাল অবস্থায় আছেন। এখন তিনি নিজে কিছুই করতে পারেন না। এ বিষয়টি হাসপাতালে পরিচালক কেন গোপন করছেন, আমরা জানি না। অবিলম্বে তার স্বাস্থ্যের সঠিক তথ্য জানানোর আহ্বান জানাচ্ছি।

জাতীয় দুর্নীতিকে আড়াল করতে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের ছোটখাটো কিছু বিষয়কে সামনে আনা হচ্ছে বলেও দাবি করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, সরকারি লোকেরা সরাসরি দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। আমার মনে করি দুদক সবসময় নিরপেক্ষ থাকে না। তাই নিরপেক্ষ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এর তদন্ত করা উচিত।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, গ্রামীণফোন ও রবিতে সরকারি প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। আমরা মনে করি এই ধরনের প্রক্রিয়া বিদেশি বিনিয়োগকে নিরুৎসাহিত করবে। সরকার যেভাবে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ছে, এটা সরকারের আরেকটা ক্ষেত্র হয়ে দাঁড়াবে। এতে এই দুই প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে হাইকোর্টে নিয়োগ দেওয়া ৯ বিচারককে সরকারদলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দিয়েছে বলেও দাবি করেন মির্জা ফখরুল।

একাদশ সংসদ নিয়ে ওয়ার্কাস পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের বক্তব্যের প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন,  সরকারের দলের শরিকরা বলছে, একাদশ সংসদ নির্বাচনে কোনও ভোট হয়নি। বিদেশি কূটনীতিকরা নির্বাচন নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে। কিন্তু, সরকার তা নিয়ে কিছু বলছে না। আমরা নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করছি। একইসঙ্গে নির্বাচন নিয়ে প্রার্থীদের করা মামলাগুলো এখন পড়ে আছে। এগুলো বিষয়ে উচ্চ আদালতকে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে পুনর্বাসন করা নিয়ে সরকারের উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, এ বিষয়টা পুরোপুরিভাবে বাংলাদেশের নীতির বিরোধী। যেখানে আমরা সব সময় বলছি রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে হবে। রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে পুনর্বাসনের মাধ্যমে আমরা প্রমাণ করছি যে তারা এখানে থাকবে। এর মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের নিয়ে মিয়ানমার সরকারের লক্ষ্যের দিকে যাচ্ছে আমাদের সরকার।

বিএনপি মহাসচিব জানান, বৈঠকে স্কাইপের মাধ্যমে লন্ডন থেকে যুক্ত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

স্থায়ী কমিটির বৈঠক উপস্থিত ছিলেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, গয়েশ্বর চন্দ্র, নজরুল ইসলাম খান,  আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও সেলিমা রহমান।

/এএইচআর/আইএ/ টিএন/এমএমজে/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ