এলডিপি ভাঙার দিনে জামায়াতকে পেলেন না অলি!

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২০:০১, নভেম্বর ১৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:১৭, নভেম্বর ১৮, ২০১৯

আজকের সংবাদ সম্মেলন, অলির পাশে নেই জামায়াতের কেউ‘জাতীয় মুক্তিমঞ্চ’ গঠনের সময় থেকে জামায়াতের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ সহযোগিতা পেলেও সোমবার (১৮ নভেম্বর) সংবাদ সম্মেলনে দলটির কোনও প্রতিনিধিকে পাননি মঞ্চের আহ্বায়ক ও লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। একইসঙ্গে এদিন তার নেতৃত্ব ‘অস্বীকার’ করে দলটির নতুন একটি কমিটি ঘোষণা করেছেন শাহাদাত হোসেন সেলিমসহ কয়েকজন নেতা।

চলতি বছরের ২৭ জুন খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ ১৮ দফা দাবিতে ‘জাতীয় মুক্তি মঞ্চে’র সূচনা করেছিলেন অলি আহমদ। সেদিন জাতীয় প্রেসক্লাবের নিচতলার মিলনায়তন ছিল জনসমাগমে পরিপূর্ণ, মঞ্চের সামনে-পেছনে ছিলেন জামায়াত-অনুরাগীরা। ওই সংবাদ সম্মেলনে অলি আহমদের কণ্ঠে ছিল জামায়াতের প্রশংসা। বলেছিলেন, ‘১৯৭১ সালের জামায়াত আর ২০১৯ সালের জামায়াত এক নয়।’  এরপর চলতি বছরের শুরুতে অলি আহমদ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘জামায়াতের যেসব নেতা এদেশে আছেন, তারা এদেশের নাগরিক হলে তাদের রাজনীতি করারও অধিকার আছে। তাদের রাজনীতি করতে দিতে হবে।’

এই বক্তব্যের মাত্র পাঁচ মাস নয় দিন পর যখন জাতীয় প্রেসক্লাবেই পেঁয়াজসহ নিত্যপণ্যের মূল্য বাড়ার প্রতিবাদে অলি আহমদ সংবাদ সম্মেলন করলেন, তখন তিনি মঞ্চে পেলেন না তার মিত্র দল জামায়াতের কোনও প্রতিনিধিকেই। উপরন্তু এই দিনেই প্রেসক্লাবের একটি হলরুমে সংবাদ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে ভেঙে গেলো তার দলটিও। এলডিপির প্রতিষ্ঠাকালীন মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিমসহ কয়েকজন নেতা মিলে ঘোষণা দিলেন এলডিপির নতুন কমিটির।

মুক্তিমঞ্চের একাধিক নেতা জানান, গত ২৭ জুন মঞ্চের আত্মপ্রকাশের দিনে মূলমঞ্চে জামায়াতের প্রতিনিধিরা না থাকলেও পরবর্তী সময়ে সিলেট ও চট্টগ্রামের সভায় দলটির কর্মী-সমর্থকরা অংশ নেন। এর আগে, গত ১৫ মে এলডিপি আয়োজিত গোলটেবিলে আলোচনায় অংশ নেন  জামায়াতের নায়েবে আমির মিয়া গোলাম পরওয়ার। একদিন পর ১৭ মে অলি আহমদের ইফতারে অংশ নেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান ও নির্বাহী পরিষদের সদস্য মাওলানা আবদুল হালিম।

সর্বশেষ, গত ১০ অক্টোবর সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের প্রভাবশালী নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ার অংশ নিলেও সোমবার (১৮ নভেম্বর) দলের কোনও নেতাই ছিলেন না সংবাদ সম্মেলনে।

১০ অক্টোবরের সংবাদ সম্মেলনে অলি আহমদের পাশে জামায়াত-নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ার

এলডিপির প্রচার বিভাগ থেকে সোমবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে একটি প্রেস রিলিজ পাঠিয়ে জানানো হয়, জাতীয় মুক্তি মঞ্চের সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, এলডিপির মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ ও জাতীয় দলের চেয়ারম্যান এহসান হুদা, জাগপার সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান উপস্থিত ছিলেন। প্রথমদিকে খেলাফত মজলিসের দ্বিতীয় সারির কোনও-কোনও নেতা মঞ্চে গেলেও সোমবারের মজলিসে কেউ-ই ছিলেন না।

জানতে চাইলে এলডিপির সাংগঠনিক সম্পাদক সালাহ উদ্দীন রাজ্জাক বলেন, ‘জামায়াতের একজন এসেছিলেন, কিন্তু খুব স্বল্পসময়ে সংবাদ সম্মেলন শেষ হওয়ায় তিনি মঞ্চে বসার সুযোগ পাননি। আর মাহমুদুর রহমান মান্না সংবাদ সম্মেলনের সময় উপস্থিত ছিলেন।’

এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘আমি তো সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেইনি। শ্রোতাদের মধ্যে বসেছিলাম। আমাকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল, পাশের কক্ষেই ছিলাম। তাই দেখতে এসেছিলাম, দুই-তিন মিনিট ছিলাম। আমি যখন যাই, তখন অলি আহমদের বক্তব্যও শেষ হয়ে যায়।’

সোমবার (১৮ নভেম্বর) সকালে এলডিপির নতুন কমিটি ঘোষণা করে প্রতিষ্ঠাকালীন মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, ‘জামায়াতের প্রতি অলির অতি নির্ভরতা ও জামায়াতপ্রীতির কারণে তার সঙ্গে রাজনীতি করা সম্ভব নয়।’

এরপর প্রেস ক্লাবেই মুক্তিমঞ্চের ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন করে অলি আহমদ বলেন, ‘এলডিপি আমার নামে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল। যার নিবন্ধন নম্বর-১। অন্য কারও এলডিপি নামে দল করার অধিকার নেই। কেউ যদি নিজের বাবার নাম বাদ দিয়ে আমার নামে পরিচিত হতে চায়, তাহলে আমার কোনও আপত্তি নেই। যারা নতুন কমিটি করেছেন, তারা এমন কোনও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নন যে, তাদের নিয়ে আলোচনা করতে হবে।’

অলি আহমদ আরও বলেন, ‘জাতীয় মুক্তি মঞ্চ কোনও অবস্থাতেই প্রতিশোধ কিংবা প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়। কারও প্রতি অবিচার হোক, সেটা চাই না।’ বরং সবার প্রতি ন্যায় বিচার, সমান সুযোগ ও সমান অধিকারে তারা বিশ্বাসী বলেও তিনি দাবি করেন।

/এইচএন/এসটিএস/এমএনএইচ/

লাইভ

টপ