খালেদা জিয়ার কারামুক্তি: আন্দোলন নিয়ে হিসাব কষছে বিএনপি

Send
সালমান তারেক শাকিল
প্রকাশিত : ২৩:১৪, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:৩৭, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৯

খালেদা-জিয়াদলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারামুক্তির ইস্যুতে আন্দোলন-কর্মসূচি নিয়ে হিসাব কষছে বিএনপি। দলটির নেতারা এখনই রাজপথে কোনও কঠোর আন্দোলনে না গিয়ে খালেদা জিয়ার জামিন ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আদেশ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চান। ১২ ডিসেম্বর আপিল বিভাগ কী আদেশ দেন, তা দেখেই পরবর্তী কর্মকৌশল ঠিক করতে চান তারা। দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য জানান, দলের মধ্যম সারি ও তৃণমূল নেতারা খালেদা জিয়ার কারামুক্তির জন্য রাজপথের আন্দোলনে নামতে চাইলেও দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিতে হচ্ছে। তাদের মতে, ক্ষমতাসীনদের ভেতরে নানা বিষয়ে ‘অস্পষ্টতা’ থাকায় বিএনপি এখনই কঠোর কোনও কর্মসূচিতে গেলে তাড়াহুড়োর ফাঁকে ‘নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের’ সুযোগ নিতে পারে স্বার্থান্বেষী মহল।

তবে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের একাধিক প্রভাবশালী নেতার মতে, বিএনপির সিনিয়র নেতারা কর্মসূচিতে যেতে ভয় পাচ্ছেন। দলটির নেতাদের মনে মামলা-গ্রেফতারের আতঙ্ক জেঁকে বসেছে। এ কারণে তারা আন্দোলন নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেও রয়েছেন।
বিষয়টি নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের এক নেতা বলেন, ‘গত ৩ ও ৪ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার জামিন শুনানিকে সামনে রেখে দুটি বৈঠক হলেও তাতে রাজনৈতিক কোনও অগ্রগতি হয়নি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘উচ্চ আদালতে খালেদা জিয়ার জামিন শুনানির বিষয়টি পেন্ডিং আছে। আগামী ১২ ডিসেম্বর শুনানি হবে। আমাদের নিশ্চয়ই কৌশল আছে, পরিকল্পনা আছে। যে যাই বলুক, বিষয়টি আমাদের সাংগঠনিক ব্যাপার। আদালতে ব্যাপারটি আছে, আদালতকে সম্মান দেখাতে চাই। শুনানির আগে কর্মসূচি দিলে জনমনে প্রশ্ন উঠতে পারে।’

বিএনপির দায়িত্বশীল একটি পক্ষ জানায়, খালেদা জিয়ার কারামুক্তির আন্দোলন প্রশ্নে সবার আগে সরকারের অবস্থান নিয়ে বিএনপিকে ভাবতে হচ্ছে। একইসঙ্গে একাধিক পশ্চিমা প্রভাবশালী রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ‘সহিংসতা’ বাদ দিতে কড়াকড়ি পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে কঠোর কোনও কর্মসূচিতে গেলে তা ‘স্যাবোটাজ’ হওয়ার আশঙ্কা আছে বলেও মনে করেন দলটির কয়েকজন সিনিয়র নেতা।

জানতে চাইলে বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক একজন প্রভাবশালী সম্পাদক বলেন, ‘খালেদা জিয়া কারাগার থেকে বারবার একই নির্দেশনা দিয়েছেন। খালেদা জিয়ার নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনোভাবেই হঠকারী কর্মসূচি দেওয়া যাবে না, যার খেসারত দিতে হয় খালেদা জিয়া ও তার দলকে।’  

দলের দায়িত্বশীল একটি সূত্রের ভাষ্য, উচ্চ আদালতের নির্দেশনার পরও ৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ খালেদা জিয়ার মেডিক্যাল প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়নি। এই প্রতিবেদন কেন আদালতে জমা দেওয়া হয়নি, তা দেশের মানুষ পরিষ্কারভাবেই বুঝতে পেরেছেন।

উল্লেখ্য, ৫ ডিসেম্বর আপিল বিভাগ শুনানির জন্য ১২ ডিসেম্বর পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেছেন। এ বিষয়টি নিয়ে ওইদিন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় দেওয়া বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় খালেদা জিয়ার মেডিক্যাল প্রতিবেদন জমা দেয়নি। তার অভিযোগ ছিল, ৪ ডিসেম্বর রাতে মেডিক্যাল প্রতিবেদন চিকিৎসকেরা জমা দিলেও তা আদালতে জমা দেওয়া হয়নি।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রভাবশালী এক নেতা বলেন, ‘খালেদা জিয়ার কারাবাসের দুই বছর পূর্ণ হবে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি।’ তার ধারণা, খালেদা জিয়ার জামিন ইস্যুতে বিএনপি কোনও শক্ত আন্দোলনে যেতে পারেনি। সে কারণেই ক্ষমতাসীন দলেরও এ নিয়ে কোনও দুশ্চিন্তা নেই। 

বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে অবশ্য কার্যকর কর্মসূচি নিয়ে বিভিন্ন মত রয়েছে। কারও কারও মতে, বিএনপির সিনিয়র নেতারাই কর্মসূচি থেকে বিরত রয়েছেন।

জানতে চাইলে শুক্রবার বিকালে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘কর্মসূচি বলতে আপনারা কী বোঝেন, আমি বুঝি না ঠিক। আমরা নিয়মিত কর্মসূচি করে যাচ্ছি। প্রতিদিন সংবাদ সম্মেলন করছি, রাজপথে আন্দোলন হচ্ছে। মিটিং হচ্ছে, সমাবেশ হচ্ছে। গতকালও অনেক কর্মসূচি ছিল। রাতে স্থায়ী কমিটির ইনফরমাল একটি মিটিং ছিল। এগুলো কী প্রোগ্রাম নয়?’  

এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘নেতাকর্মীরা কর্মসূচি নিয়ে যেসব অভিযোগ করেন তার পুরোটা ঠিক নয়।’ তাদের সামনে কেউ অভিযোগ করে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

/এমএনএইচ/এমওএফ/

লাইভ

টপ