এবারের সম্মেলনে শাজাহান খানই চমক!

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২০:২১, ডিসেম্বর ২১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:০৪, ডিসেম্বর ২১, ২০১৯

একসময়ের জাসদ নেতা শাজাহান খান এর আগে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কোনও পর্যায়ের দায়িত্বে ছিলেন না। (ছবি: ফোকাস বাংলা)আওয়ামী লীগের দুদিনব্যাপী ২১তম জাতীয় সম্মেলন শনিবার (২১ ডিসেম্বর) শেষ হলো নতুন কমিটি ঘোষণার মধ্য দিয়ে। এতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় শেখ হাসিনা টানা নবমবারের মতো সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। দলীয় সর্বোচ্চ এ পদটি নির্ধারিত থাকলেও সাধারণ সম্পাদক কে হবেন, তা নিয়ে অবশ্য জল্পনা-কল্পনা ছিল। এ পদে চমক থাকার আলোচনাও ছিল নেতাকর্মীদের মধ্যে। তবে শেষ পর্যন্ত সেই চমক হয়ে দাঁড়ালো শ্রমিক নেতা ও সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খানের কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি।

এর আগে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির কোনও পর্যায়ে দায়িত্বে ছিলেন না একসময়ের এই জাসদ নেতা। সরাসরি দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হলেন তিনি।
এদিকে সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্বের আভাস দেওয়া হলেও পুরনোদের সঙ্গে নিয়েই আওয়ামী লীগের নতুন যাত্রা শুরু হলো। এ যাত্রায় দলের সভাপতি শেখ হাসিনা সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও সংগঠিত করার অঙ্গীকার করেছেন। তবে এই সম্মেলনে দল ও সরকার আলাদা করার যে আওয়াজ ছিল, পাঁচ জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীকে কমিটি থেকে বাদ দিয়ে তার বহিঃপ্রকাশ ঘটালেন নবমবারের মতো নির্বাচিত সভাপতি শেখ হাসিনা। মন্ত্রিত্বে থেকে দলীয় পদ হারানো নেতাদের মধ্যে আছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। তিনি গত কমিটিতে আইন বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। গত কমিটির সাংগঠনিক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, এনামুল হক শামীম, মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ও মহিলা সম্পাদক ফজিলাতুন্নেসা ইন্দিরাও দলীয় কোনও পদ পাননি। এছাড়া ধর্ম ও শিল্প-বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক পদে এখনও কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। তবে এই দুই পদের দুই নেতা টিপু মুনশি ও শেখ আবদুল্লাহ মন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন। এদের পদ দেওয়া না হলে বাদ পড়া মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর সংখ্যা হবে সাত জন। এদিকে শেখ হাসিনাসহ পাঁচ জন মন্ত্রী কেন্দ্রীয় কমিটিতে রয়েছেন। বাকিরা হলেন ওবায়দুল কাদের, ড. আবদুর রাজ্জাক, ডা. দীপু মনি ও ড. হাছান মাহমুদ।
নতুন কমিটি ঘোষণার পর শনিবার বিকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্মার্টার আওয়ামী লীগ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী টিমওয়ার্ক গড়ে তুলতে হবে। টিমওয়ার্ক আমরা গড়ে তুলবো, স্মার্টার আওয়ামী লীগ আমরা গড়ে তুলবো। ট্রেডিশনের সঙ্গে টেকনোলজি, আইডিয়ালিজমের সঙ্গে রিয়ালিজম, ফেইথের সঙ্গে মোরালিটি—এগুলো সমন্বয় করে ভিশন-২১ বাস্তবায়নই আমাদের আপাতত লক্ষ্য।
এক-দুদিনের মধ্যে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে আওয়ামী লীগ সভাপতি পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করবেন বলে জানান তিনি।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, এবারের সম্মেলন ঐতিহাসিক ও নির্ঝঞ্ঝাট সম্মেলন। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থীদের নাম তিনবার করে নির্বাচন কমিশন জানতে চেয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় আমাদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচিত করার জন্য শেখ হাসিনার কাছে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। শেখ রেহানাকেও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।


আওয়ামী লীগের দুই দিনব্যাপী ২১তম জাতীয় সম্মেলন শেষ হলো নতুন কমিটি ঘোষণার মধ্য দিয়ে। (ছবি: ফোকাস বাংলা) আওয়ামী লীগের ৮১ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটির মধ্যে সম্মেলন থেকে ৪২ জনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এদের মধ্যে দুজন নতুন মুখ। সভাপতিমণ্ডলীর ১৭টি পদের সবার নাম ঘোষণা করা হয়। বিদায়ী কমিটিতে সভাপতিমণ্ডলীর তিনটি পদ শূন্য ছিল। নতুন কমিটিতে বিদায়ী কমিটির সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি নতুন করে শাজাহান খান ও বিদায়ী কমিটির যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আব্দুর রহমান সভাপতিমণ্ডলীতে নতুন করে জায়গা পেয়েছেন। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে মাহাবুব-উল আলম হানিফ ও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি স্বপদে বহাল থাকার পাশাপাশি বিদায়ী কমিটির প্রচার সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ নতুন করে জায়গা করে নিয়েছেন।

সভাপতিমণ্ডলীর মধ্যে যেসব পদে নাম ঘোষণা হয়েছে তাদের মধ্যে আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সাম্মী আক্তার, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক পদে বহাল আছেন ফরিদুন্নাহার লাইলী, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সবুর, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক হারুন অর রশীদ, শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক শামসুন নাহার চাঁপা, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক পদে অসীম কুমার উকিল এবং স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা স্বপদে বহাল রয়েছেন। বিদায়ী কমিটির উপ-দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া হয়েছেন দফতর সম্পাদক, নতুন প্রচার সম্পাদক হয়েছেন ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ। বিদায়ী কমিটির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন্নেসা ইন্দিরার স্থলে মহিলা সম্পাদক হয়েছেন মেহের আফরোজ চুমকী। বিদায়ী কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক এবং গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিমের স্থলে আইন বিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন অ্যাডভোকেট নজিবুল্লাহ হিরু। তিনি বিদায়ী কমিটির কেন্দ্রীয় সদস্য ছিলেন।
সম্পাদকমণ্ডলীর পদগুলোর মধ্যে অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পাদক, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক এবং শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক পদ এখনও শূন্য রয়েছে। শূন্য রয়েছে উপ-প্রচার ও উপ-দফতর সম্পাদকের পদও। এছাড়া কোষাধ্যক্ষের পদটিতে কাউকে নির্বাচিত করা হয়নি।
এছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদকের ৮টি পদের মধ্যে ৫টি পদে নির্বাচন করা হয়েছে। এদের মধ্যে আহম্মদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক ও আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন স্বপদে বহাল রয়েছেন। বিদায়ী কমিটির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এস এম কামাল হোসেন ও মির্জা আজম নতুন করে সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন। সাংগঠনিক সম্পাদক থেকে মন্ত্রিসভার চার সদস্য ছাড়াও বাদ পড়েছেন মেজবাহ উদ্দিন সিরাজ।
আওয়ামী লীগ এবারের সম্মেলনে উপদেষ্টা পরিষদের পদ ৪১টি থেকে বাড়িয়ে ৫১ করা হয়েছে। নতুন কমিটিতে বিদায়ী কমিটির সব উপদেষ্টাকে পুনর্নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নতুন পদগুলোতে পরবর্তীদের নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে আওয়ামী লীগ তাদের গঠনতন্ত্রে সামান্য কিছু সংশোধনী এনেছে। দলের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদকের পদ বিলুপ্ত করা হয়েছে। এক্ষেত্রে পদটিকে বিভাগীয় উপ-কমিটির সদস্য করা হয়েছে। এছাড়া মৎস্যজীবী লীগকে দলের সহযোগী সংগঠনের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। দলের ঘোষণাপত্রে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী পালনের বিষয়টি সন্নিবেশ করা হয়েছে।

/ইএইচএস/এইচআই/এমওএফ/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ