পোলিং এজেন্টদের ইভিএমের ওপর প্রশিক্ষণ দেবে বিএনপি

Send
আদিত্য রিমন
প্রকাশিত : ২৩:৪৯, জানুয়ারি ২০, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৮:২৬, জানুয়ারি ২১, ২০২০

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনঢাকার দুই সিটি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম)। এই নির্বাচনে দলীয় মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের পোলিং এজেন্ট হিসেবে যারা কাজ করবেন, তাদের ইভিএম পরিচালনার ওপর প্রশিক্ষণ দেবে বিএনপি। ইভিএমে ভোট দেওয়া, জালভোট শনাক্তকরণসহ বিভিন্ন বিষয় থাকবে প্রশিক্ষণে। ২২ জানুয়ারি থেকে এ প্রশিক্ষণ শুরু হবে। বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নেতার সঙ্গে আলোচনাকালে এমন তথ্য জানা গেছে।

বিএনপির নেতারা বলছেন, ভোটকেন্দ্রে যারা প্রার্থীর এজেন্ট হিসেবে কাজ করবেন, তাদের ইভিএম বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ইভিএমে ভোট দেওয়ার পদ্ধতি, জালভোট শনাক্তকরণ, নির্বাচনি প্রতীক বাছাই করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বিএনপির নেতা ও জাতীয়তাবাদী প্রকৌশলীদের সংগঠন ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এ্যাব) এই প্রশিক্ষণ দেবে। ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ সিটিতে আলাদাভাবে এই প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হবে। উত্তরে কিছু কিছু এলাকায় এজেন্টদের ইতোমধ্যে প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়ে গেছে। আর দক্ষিণ সিটিতে ২২ জানুয়ারি থেকে প্রশিক্ষণ শুরু হবে।

ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির নির্বাচন প্রচার কমিটির আহ্বায়ক দলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম বলেন, ‘২২ জানুয়ারি থেকে দক্ষিণ সিটির পোলিং এজেন্টদের ইভিএমের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। সেই অনুযায়ী আমাদের প্রস্তুতি চলছে।’

এদিকে, ঢাকা উত্তর সিটির নির্বাচনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব দলটির দলটির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ‘প্রথম দফায় সাড়ে ৭ হাজারের বেশি পোলিং এজেন্টকে ট্রেনিং দেওয়া হবে। এরপর দ্বিতীয় ধাপে আরও ট্রেনিং দেওয়া হবে।’

ইভিএমে নির্বাচন না করার দাবি থেকে বিএনপি সরে আসেনি উল্লেখ করে মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ‘এরপরও চোর যেন ভোট চুরি করতে না পারে এই জন্য পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। যেন তারা ইভিএমে ভোট দেওয়ার পদ্ধতি  জানার পাশাপাশি জালভোট শনাক্ত করতে পারেন।’ 

বিএনপির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘উত্তর সিটির  প্রার্থীদের পোলিং এজেন্টদের ইভিএমের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে।’ 

দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা বলছেন, ‘এবার ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে দুই স্তরে পোলিং এজেন্ট দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যেন কোনও এজেন্ট কেন্দ্রে যেতে না পারলে বিকল্প এজেন্ট দেওয়া যায়। পোলিং এজেন্টদের তালিকায় স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা আছেন। এছাড়া, কেন্দ্রীয় যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাও থাকবেন।’ 

প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী ২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর সিটিতে ভোটকক্ষ ৭ হাজার ৮৪৬টি। দক্ষিণ সিটিতে ভোটকক্ষ ৬ হাজার ৫৮৮টি। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি ভোটকক্ষে একজন প্রার্থী একজন করে পোলিং এজেন্ট দিতে পারবেন।

বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রধানত আমাদের এজেন্টরা যেন সাহসের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন, সেই বিষয়ে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। ইতোমধ্যে যারা নির্বাচনে এজেন্ট হবে তাদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।’

শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী আরও বলেন, ‘পোলিং এজেন্টদের দুই-তিন গ্রুপের ট্রেনিং হবে। আমাদের ডাবল পোলিং এজেন্টের সেট থাকবে। কেউ যদি কেন্দ্রে যেতে না পারেন, তার জায়গায় অন্যজনকে দেওয়া যেতে পারে।’

দলটির নেতারা বলছেন, সিটি নির্বাচনের ভোটদের দিন ভোটকেন্দ্রের বাইরে ৪-৫টি স্তরে বিএনপির নেতাকর্মীরা থাকবে। এরমধ্যে একটি গ্রুপ থাকবে, যারা কেন্দ্রে কোনও অনিয়ম হলে প্রথম প্রশাসন, সাংবাদিক ও দলের দায়িত্বশীল নেতাদের খবর দেবে। অন্য গ্রুপগুলো নেতাকর্মীরা ভোটারদের সহযোগিতা ও অনিয়ম প্রতিরোধে থাকবে। সেই ব্যাপারেও আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি।   

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক নেতা বলেন, ‘আমরা যখন প্রার্থীকে নিয়ে প্রচার-প্রচারণায় যেই তখন তারা খুব ঝামেলা করে না। কিন্তু প্রার্থী চলে আসার আগে-পরে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে স্থানীয় নেতাকর্মীরা। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ছাড়া সাদা পোশাকের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকরাও হুমকি দিচ্ছে যেন প্রচার-প্রচারণা না করে। নির্বাচনের দিন যেন কেন্দ্রে না আসে।’

দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনে আহ্বায়কের দায়িত্বে থাকা খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এখনও লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরি হয়নি। এখন পর্যন্ত সরকার ও নির্বাচন কমিশন লেভেল প্লেইং ফিল্ড করার জন্য কোনও পদক্ষেপ নেয়নি।’

বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম বলেন, ‘আমরা মূলত সরকারের কারচুপির ধরন ও তাদের ভোট ডাকাতির মুখোশ উন্মোচন করতেই সিটি নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। এরপর আমরা এই নির্বাচনের শেষ দেখতে চাই।’

২২ জানুয়ারি ইভিএমের ওপর বিএনপির সেমিনার

ইভিএম মেশিনে ভোট ‘কারচুপির’ বিভিন্ন দিক নিয়ে সেমিনার করবে বিএনপি। আগামী ২২ জানুয়ারি রাজধানীর একটি হোটেলে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের দাওয়াত দেওয়া হচ্ছে। তাদের সামনে ইভিএমের বিভিন্ন ত্রুটি তুলে ধরা হবে।

বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, ‘ইভিএম নিয়ে ২২ জানুয়ারি বিএনপি সেমিনারের আয়োজন করেছে।’ সেখানে নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও দেশি-বিদেশি সাংবাদিকরা উপস্থিত থাকবেন বলেও তিনি জানান।

/এমএনএইচ/এমওএফ/

লাইভ

টপ