মির্জা ফখরুলের জন্মদিন আজ

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০১:০২, জানুয়ারি ২৬, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০১:২৩, জানুয়ারি ২৬, ২০২০

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরবিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জন্মদিন আজ (২৬ জানুয়ারি)। ১৯৪৮ সালের এই দিনে ঠাকুরগাঁওয়ে জন্ম নেন তিনি। তার ৭৪তম জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন দলের সিনিয়র এবং তরুণ নেতারা।

বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন। মির্জা ফখরুল ২০১৬ সালে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে নির্বাচিত হন। এরআগে, তিনি দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন। ২০১১ সালের মার্চে দলের মহাসচিব খন্দকার দেলওয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর তিনি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হন।

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়ার একটি আসন থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হলেও সংসদে যোগ দেননি ফখরুল। তার দলের বাকি নির্বাচিতরা শপথ নিলেও বিএনপির মহাসচিব তা এড়িয়ে যান। বরাবরই তিনি জানিয়েছেন, রাজনৈতিক কৌশলগত কারণেই তিনি সংসদ সদস্যের শপথ নেননি।

মির্জা ফখরুলের জন্মদিন অনেকটা নীরবে পার হলেও দলের নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছায় সিক্ত হয়েছেন। এ বছরও তার উদযাপনের কোনও পরিকল্পনা বা ইচ্ছা নেই বলে জানান শায়রুল কবির খান। তিনি বলেন, ‘ম্যাডাম খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে জন্মদিন কেন, কোনও উদযাপনই এখন বিএনপির নেতাকর্মীদের স্পর্শ করে না।’

রবিবার (২৬ জানুয়ারি) প্রথম প্রহরে বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে কথা হয় মির্জা ফখরুলের। দিনের সব ধরনের ব্যস্ততা ও কাজ শেষে ঘুমানোর প্রস্তুতি হিসেবে শুয়ে পড়ার কথা জানান ঢাকা কলেজের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক এই শিক্ষক।

মির্জা ফখরুল কৃষি, পর্যটন ও বেসরকারি বিমান চলাচলবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক (সম্মান) মির্জা ফখরুল ছাত্র রাজনীতিতেো ছিলেন সক্রিয়। তৎকালীণ পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের (পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন) সদস্য ছিলেন এবং সংগঠনটির এসএম হল শাখার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ছিলেন। শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু মির্জা ফখরুলের। ১৯৮০-এর দশকে তিনি মূলধারার রাজনীতিতে আসেন।

রাজনীতিতে তার এই ফিরে আসা প্রসঙ্গে বাংলা ট্রিবিউনকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন, তার পরিবারের রাজনৈতিক ঐতিহ্যই এ ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা রেখেছে। তার দাদা, বাবা ও দুই চাচার সবাই রাজনীতি করেছেন। এ কারণেই তিনি ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় হন। পরে দেশের উত্তরাঞ্চলের সংগঠক হিসেবে মুক্তিযুদ্ধেও অংশ নেন তিনি।

তিনি আরও বলেছিলেন, ১৯৭০ সালে পাবলিক সার্ভিস কমিশনে শিক্ষকতার জন্য পরীক্ষা দিয়েছিলেন তিনি, তাতে উত্তীর্ণ হন।  দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে, এমন ধারণা করেছিলেন তিনি। সেই প্রেক্ষিতে শিক্ষকতাকেই উপযুক্ত পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। তবে দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের কারণে শেষ পর্যন্ত ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার নির্বাচনের মধ্য দিয়ে মূল ধারার রাজনীতিতে ফেরেন তিনি। এর পরের বছরই তিনি যোগ দেন বিএনপিতে।

ব্যক্তিগত জীবনে মির্জা ফখরুল বিবাহিত এবং দুই মেয়ের বাবা। বড় মেয়ে মির্জা শামারুহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা শেষে সেখানেই শিক্ষকতা করেছেন। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় পোস্ট ডক্টরাল ফেলো হিসেবে কর্মরত আছেন। ছোট মেয়ে মির্জা সাফারুহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা শেষে একটি স্কুলে শিক্ষকতা করছেন।

ব্যক্তিগত জীবনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিবাহিত এবং দুই মেয়ের জনক। তার স্ত্রী রাহাত আরা বেগম কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিধারী। বর্তমানে বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার বড় মেয়ে মির্জা শামারুহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা শেষে সেখানেই শিক্ষকতা করেছেন। বর্তমানে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় পোস্ট ডক্টরাল ফেলো হিসেবে কর্মরত আছেন। আর ছোট মেয়ে মির্জা সাফারুহও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেছেন। তিনি বর্তমানে ঢাকার একটি স্কুলে শিক্ষকতা করছেন।

আরও পড়ুন:
আমরা যুদ্ধ করতে চাই না

 

/এসটিএস/টিটি/

লাইভ

টপ