পুলিশ সময় দিলো আধা ঘণ্টা, রিজভী শেষ করলেন ৭ মিনিটে

Send
আদিত্য রিমন
প্রকাশিত : ১৩:৩৫, ফেব্রুয়ারি ০২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:০২, ফেব্রুয়ারি ০২, ২০২০

কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে রুহুল কবীর রিজভীসহ দলের নেতাকর্মীরাহরতাল সফল করতে দলের নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের ফুটপাতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে দলটির শতাধিক নেতাকর্মী রবিবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিল। বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে দলের নেতাকর্মীদের আধা ঘণ্টার মধ্যে সেখান থেকে সরে যেতে নির্দেশ দেন মতিঝিল জোনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার (এসি) জাহিদুল ইসলাম। তখন রিজভী পুলিশের কাছ থেকে ১০ মিনিট সময় চান। কিন্তু দুপুরে খাবার ও নামাজের কথা বলে ৭ মিনিটের মধ্যে কর্মসূচি শেষ করেন তিনি। রিজভীর এমন আচরণে দলের নেতাকর্মী, উপস্থিত পুলিশ ও সাংবাদিকদের মধ্যে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়।
উপস্থিত বিএনপির নেতাকর্মীরা বলেন, দলের সিনিয়র হয়ে রিজভীর এমন আচরণ দুঃখজনক। যেখানে পুলিশ আধা ঘণ্টা সময় দিচ্ছে, তখন তার ১০ মিনিট সময় চাওয়ার কারণ কী? আবার ১০ মিনিট সময় নিয়ে ৭ মিনিটে কেন কর্মসূচি শেষ করতে হবে? তার কোনও সমস্যা থাকলে চলে যেতে পারতেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির সম্পাদকমণ্ডলীর এক নেতা বলেন, একে তো হরতাল দিয়ে রাস্তায় নামতে পারিনি, এ নিয়ে মানুষ হাসাহাসি করছে, তার ওপর রিজভী সাহেবের এমন আচরণ বিএনপিকে নিয়ে মানুষের হাসার আরেকটি উপাদান হয়ে দাঁড়াবে।
বিএনপির নেতাকর্মীদের ফুটপাত থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে মতিঝিল জোনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার (এসি) জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘অতীতে আমরা দেখেছি এমন ক্ষুদ্র কর্মসূচি পরে সংহিসতায় রূপ নেয়। তাদের পূর্ব নির্ধারিত কোনও কর্মসূচি আছে কিনা জানতে চাইলে, সুনির্দিষ্ট কোনও জবাব তারা দিতে পারেনি। যেহেতু তাদের কোনও সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি নেই, তাই আমরা তাদের আধা ঘণ্টা সময় দিয়েছি চলে যাওয়ার জন্য। তারাও বলেছে দ্রুত চলে যাবে।’

অবস্থান কর্মসূচি শেষ করার সময় রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আমাদের এই কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইভিএমের মাধ্যমে যে ভোট জালিয়াতি হয়ে গেলো তার প্রতিবাদ জানাতেই আমাদের এই কর্মসূচি। এদেশের ১৬ কোটি মানুষের জনপ্রিয় নেত্রী খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে সরকার আটকে রেখেছে। আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি এই অন্যায়ের দুই বছর পূর্ণ হবে। আমরা এরও প্রতিবাদ করছি।’
রিজভী আরও বলেন, ‘আমরা সরকারের অন্যায়-অবিচারগুলো তুলে ধরতে এই অবস্থান নিয়েছি। ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন জায়গায় আমাদের নেতাকর্মীরা এরকম শান্তিপূর্ণ অবস্থান নিয়ে কর্মসূচি পালন করছে।’
এদিকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রবিবার সকাল সাড়ে ৯টায় উত্তরার বাসা থেকে মোটরসাইকেলে করে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আসেন। তারপর সাংবাদিকদের অনুরোধে তিনি ১০ মিনিটের মতো কার্যালয়ের সামনে বসেন। পরে সাংবাদিকরা তার ছবি তুললে তিনি কার্যালয়ের তিন তলায় চলে যান।
জানা গেছে, শনিবার রাত সাড়ে ৩টায় কাকরাইলের ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ভর্তি থাকা রুহুল কবির রিজভী দলীয় কার্যালয়ে আসেন এবং ভোর ৬টার দিকে ১৫-২০ জন নেতাকর্মী নিয়ে কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নেন। সেখানে কিছুক্ষণ পর পর কর্মীরা খালেদা জিয়ার মুক্তি, ভোট জালিয়াতির সিটি নির্বাচনের ফলাফল মানি না, মানবো না এবং সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেয়।
রবিবার সকাল থেকে বিএনপির কার্যালয়ের সামনে বিপুল সংখ্যক পুলিশকে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে অবস্থান নিতেও দেখা যায়।

পরে বেলা ১১টায় নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে যোগ দেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে ধানের শীষের প্রতীক নিয়ে মেয়র পদে নির্বাচন করা ইশরাক হোসেন।
ইশরাক এসে নেতাকর্মীদের মাঝে বসেন। কর্মীদের পাশে বসে নিজেই স্লোগানের নেতৃত্ব দেন। ‘মুক্তি মুক্তি মুক্তি চাই, খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই’, ‘আজকের হরতাল, চলছে, চলবে’, দাবি আদায়ের হরতাল চলছে চলবে’, ‘ভোট চোর ভোট চোর’, ‘সংগ্রাম, সংগ্রাম, রাজপথে সংগ্রাম চলছে, চলবে’, ‘প্রহসনের নির্বাচন মানি না, মানবো না’ ইত্যাদি স্লোগান দেন তিনি।
এর আগে ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোট জালিয়াতির প্রতিবাদে ঢাকা মহানগরীতে শনিবার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ঘোষণা দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বর্তমানে কার্যালয়ের ভেতরে মহাসচিব ছাড়া দলের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, তাইফুল ইসলাম টিপু, বেলাল আহমেদসহ অফিস কর্মীরা রয়েছেন। বিকাল ৪টায় সেখানে সংবাদ সম্মেলন করার কথা রয়েছে।
এর আগে ২০১৭ সালের ১৩ ডিসেম্বর দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির দাবিতে সর্বশেষ হরতাল করেছিল বিএনপি।

/এআর/এমএমজে/

লাইভ

টপ