সিটি নির্বাচনের কারচুপি প্রতিরোধ করা যায়নি সাংগঠনিক ব্যর্থতায়: বিএনপি

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৮:১৯, ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:১৬, ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২০

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন পরবর্তী বিএনপির মতবিনিময় সভায় অতিথিরা।সদ্য অনুষ্ঠিত ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নিজেদের সফলতা ও ব্যর্থতা নিয়ে আলোচনা করে সংগঠনকে শক্তিশালী করার দিকে মনোযোগ দেওয়ার বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা। দলটির নেতারা বলেছেন, সিটি নির্বাচনে সরকারের প্রশাসন প্রভাব বিস্তার করেছে। ইভিএমে ভোট কারচুপি হয়েছে। কিন্তু সাংগঠনিক ব্যর্থতার জন্য বিএনপি তা প্রতিরোধ করতে পারেনি।

রবিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এক মতবিনিময় সভায় বিএনপির সিনিয়র নেতাদের বক্তব্যে এসব কথা উঠে আসে। ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ২০২০ নির্বাচনে বিএনপির সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীদের নিয়ে মতবিনিময় সভার আয়োজন করে বিএনপি।

সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, সভায় কাউন্সিলর প্রার্থীরা ঢাকা মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থা নিয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেছেন। আমাদের এখন ঢাকা মহানগরের সব ওয়ার্ড, থানাসহ সব পর্যায়ে দলকে সংগঠিত এবং আরও শক্তিশালী করতে হবে। সবাই সংগঠনকে শক্তিশালী করে আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার শপথ নিয়েছেন।

৯০ শতাংশ মানুষ সিটি নির্বাচনে ভোট দিতে যায়নি দাবি করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই নেতা বলেন, সিটি নির্বাচনে ১০ শতাংশের ওপর যে ভোট দেখানো হয়েছে তা ইভিএমের কারচুপির মাধ্যমে। সরকারের প্রতি অনাস্থার কারণে ঢাকাবাসী ৯০ শতাংশ মানুষ ভোট দিতে যাননি।

মোশাররফ বলেন, সরকার ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন ইভিএমের মাধ্যমে করেছে এই জন্য যে, একাদশ সংসদ নির্বাচনে তারা ৩০ তারিখে ভোটারদের সম্মুখীন হতে না পেরে ২৯ তারিখ রাতে ভোট ডাকাতি করে নিয়ে গেছে। তারা বুঝতে পেরেছে আগের রাতের ভোট ডাকাতির কৌশল আমরা জেনে গেছি। এ কারণে তারা আগের কৌশলে না গিয়ে ইভিএমের মাধ্যমে ভোট করেছে।

সিটি নির্বাচনে ৭-৮ শতাংশ মানুষও উপস্থিত হয়নি দাবি করে মোশাররফ বলেন, তারপরও দক্ষিণে ২৯ শতাংশ আর উত্তর সিটিতে ২৫ শতাংশ ভোট দেখানো হয়েছে ইভিএমে কারচুপির মাধ্যমে। আর ইভিএম যে ত্রুটিপূর্ণ তা প্রমাণ হয়েছে সিটি নির্বাচনেই। প্রধান নির্বাচন কমিশনের আঙুলের ছাপও মেলেনি। তাকে প্রিসাইডিং অফিসারের ছাপে ভোট দিতে হয়েছে। এতে প্রমাণ হয় এই মেশিন কত ঝুঁকিপূর্ণ। প্রিসাইডিং অফিসারের আঙুলের ছাপে কতজন যে ভোট দিয়েছে তা ভোট গণনা থেকেই বোঝা যায়।

বিএনপির এই নেতা বলেন, ইভিএমের মাধ্যমে যে কারচুপি করা যায় তা এই নির্বাচনে আমরা অংশগ্রহণ করে প্রমাণ করেছি। নির্বাচনের দুই-তিন দিন আগে থেকেই সরকার প্রশাসন দিয়ে ভোটাররা যাতে ভোট দিতে না আসে সেজন্য বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল। নির্বাচনে ৯০ শতাংশ মানুষ ভোট দিতে না যাওয়ার অর্থ হচ্ছে, এই সরকার ও নির্বাচন কমিশন এবং ইভিএমে ভোটারদের মতামতের প্রতিফলন হবে না সেটা ভোটাররা আগেই বুঝতে পেরেছিলেন।

ভোটাররা বিএনপির প্রার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন দিয়েছিলেন মন্তব্য করে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, জনগণ ভোট দিলে আমাদের প্রার্থীরা বিপুল ভোটে জয়লাভ করতো। তারপরও এই নির্বাচনে আমাদের সফলতা হচ্ছে দেশে যে গণতন্ত্র নেই তা পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমরা সে জন্য আন্দোলন সংগ্রাম করছি। আর ইভিএম যে গ্রহণযোগ্য নয় তা জনগণ প্রমাণ করেছেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, আমাদের মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা জনগণের ম্যান্ডেট পেয়ে গেছেন। তারা রাস্তা দিয়ে হেঁটে গেলে মানুষ সালাম দেন আর সরকারের মেশিনের প্রার্থীরা হেঁটে গেলে ‘চোর’ বলে গালি দেন।

ঢাকা মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আব্বাস বলেন, আমি জানি ঢাকা সিটি নির্বাচনে র‌্যাব, পুলিশের সামনে আমাদের কাউন্সিলর প্রার্থীরা দাঁড়াতে পারেননি। কিন্তু আমাদের সংগঠনের অবস্থা এতই দুর্বল যে কোথাও কিছু করতে পারলাম না আমরা। আমাদের সংগঠনকে শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করতে হবে।

সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া ইশরাক হোসেন বলেন, নির্বাচনের দিন ভোট দেওয়ার পরে আমি নিজেই বিভিন্ন কেন্দ্রে গিয়েছি। কিছু কিছু ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থীরা নিজেদের জীবন বাজি রেখে নির্বাচন করার চেষ্টা করেছেন। আবার কোথাও কোথাও নির্বাচনের দিন কাউন্সিলর প্রার্থী ও স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। কেউ জীবন বাজি রাখবে আর কেউ ঘুমিয়ে থাকবে তা হয় না।

/এএইচআর/টিএন/এমওএফ/

লাইভ

টপ