মোদিকে আমন্ত্রণের প্রতিবাদে কর্মসূচি দেবে হেফাজতসহ ইসলামি দলগুলো

Send
সালমান তারেক শাকিল ও চৌধুরী আকবর হোসেন
প্রকাশিত : ২৩:২৫, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:৩২, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২০

নরেন্দ্র মোদিজাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রীয় সফরে বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। তবে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দিল্লিতে মুসলিমদের ওপর সহিংসতার কারণে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর এ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকে সহজভাবে নিচ্ছে না দেশের ধর্মভিত্তিক দল ও সংগঠনগুলো। এসব দল ও সংগঠনের নেতারা জানিয়েছেন, দিল্লিতে মুসলিম নির্যাতনের প্রতিবাদ যেমন চলছে, একইভাবে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা আগমন ঠেকাতেও কর্মসূচি দেওয়া হবে।

ইসলামি দল ও সংগঠনের নেতারা বলছেন, দিল্লিতে মুসলিম নির্যাতনের বিষয়টি দেশটির ক্ষমতাসীন বিজেপির মূলনীতিকেই সামনে এনেছে। এর আগে, বাবরি মসজিদ, গুজরাটে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গার নেপথ্যেও এই দলটির ভূমিকা ছিল। এসব কারণে মুজিববর্ষে বিতর্কিত এই রাজনীতিকের অংশগ্রহণ মেনে নিতে পারছেন না তারা।

দিল্লিতে মুসলিমদের ওপর সহিংসতার প্রতিবাদ ও মোদিকে ঢাকায় না আনার দাবিতে শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে বিক্ষোভ করেছে সমমনা ইসলামি দলগুলো। জুমার নামাজের পরে অনুষ্ঠিত এ বিক্ষোভে সহস্রাধিক মানুষ অংশ নেন। বিক্ষোভ সমাবেশে বিভিন্ন দলের নেতারা নরেন্দ্র মোদিকে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ বাতিলের দাবি তোলেন। মোদিবিরোধী প্ল্যাকার্ড বহন করেন বিক্ষোভকারীরা।

বিক্ষোভ শেষে আলাপকালে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব নূর হোসাইন কাসেমী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ভারতের মুসলমানদের গণহত্যার জন্য প্রধানতম দায়ী ব্যক্তি নরেন্দ্র মোদি। তাকে সরকার বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ মোদির সফর কোনও ভাবেই বরদাশত করবে না। দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট রাখতে তার বাংলাদেশ সফর বাতিল  করতে হবে। দেশের শান্তিকামী মানুষ মোদিকে বাংলাদেশের মাটিতে দেখতে চায় না।’

মু‌জিববর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে নরেন্দ্র মোদিকে দেওয়া রাষ্ট্রীয় আমন্ত্রণ বাতিল দাবি করেছে হেফাজতে ইসলাম। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে সংগঠনটির আমির শাহ আহমদ শফী বলেন, মুজিববর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে ইসলাম ও মুসলিমবিদ্বেষী ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বাংলাদেশের জনগণ দেখতে চায় না। মোদির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদতে গুজরাট, কাশ্মির, দিল্লিসহ অনেক রাজ্যে মুসলমানদের হত্যা করা হয়েছে। যার হাতে এখনও মুসলিম গণহত্যার দাগ লেগে আছে, তার উপস্থিতি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ বাংলাদেশের জনগণ মেনে নেবে না। অবিলম্বে মোদির রাষ্ট্রীয় আমন্ত্রণ বাতিল করা হোক।’

হেফাজতের একাধিক নেতা জানান, কওমি মাদ্রাসাগুলোতে কেন্দ্রীয় পরীক্ষা চলছে। সংগঠনের আমির ও মহাসচিব দেশব্যাপী সফরে আছেন। তাদের সফর শেষ হওয়ার পরই হেফাজত মোদির আগমন ঠেকাতে কর্মসূচির বিষয়ে বৈঠক করবে। আগামী ১৭ মার্চ মুজিববর্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আসার কথা রয়েছে।

এ বিষয়ে হেফাজতের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, ‘আহমদ শফী সাহেব ইতোমধ্যে বলেছেন, মোদি একজন খুনি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একজন মুসলমানও। তার জন্মশতবার্ষিকীতে এমন একজন খুনি নেতাকে আমরা চাই না। আনার কোনও সুযোগ নেই।’ এক প্রশ্নের উত্তরে ইসলামাবাদী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদানকে আমরা অস্বীকার করছি না। এক্ষেত্রে যেকোনও মুসলিম দেশের, সৌদি আরবের মতো দেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে এনে বঙ্গবন্ধুকে সম্মান জানানো হোক। মোদি নিজেই বিশ্বদরবারে বিতর্কিত, তাকে কেন আনা হবে। ভারতে অনেক স্কলার আছে, তাদের আনা হোক প্রয়োজনে।’

ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ জানিয়েছেন, আগামী সোমবার (২ মার্চ) ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমন ও দেশটিতে মুসলিমদের ওপর সহিংসতার প্রতিবাদ জানাবে।

তিনি বলেন, ‘ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ভারতের জন্য রক্ত দেওয়া মুসলমানদের নির্বিচারে হত্যা, তাদের দোকান, বাড়িঘর লুট, অগ্নিসংযোগ, মসজিদ ভাঙচুর এবং উগ্র, চরমপন্থী, হিংস্র সন্ত্রাসীদের বর্বরতায় মুসলিম উম্মাহ ক্ষুব্ধ, আতঙ্কিত, চিন্তিত ও উদ্বিগ্ন। বিশ্ব মুসলিম সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের এবং মানবতাবাদী সব রাষ্ট্রনেতাদের দিল্লিতে মুসলিম নিধন ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে।’

মুফতি ফয়জুল্লাহ আরও বলেন, ‘ধর্ম বিবেচনার বাইরেও মানবিক কারণেও প্রতিবাদ হওয়া উচিত। মানুষ হত্যার মতো নিকৃষ্ট কাজ আর কিছুই হতে পারে না। ফলে মুজিববর্ষের অনুষ্ঠানে মোদিকে আমন্ত্রণ প্রত্যাহার করা উচিত। মুজিববর্ষের সঙ্গে মোদি বেমানান।’

শুক্রবার মোদির ঢাকা আসার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করা ইসলামি দলগুলোর মধ্যে ছিল ২০ দলীয় জোটের শরিক খেলাফত মজলিসও। দলটির মহাসচিব অধ্যাপক আহমদ আবদুল কাদের বলেন, ‘ভারতে চলমান মুসলিম হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের একটা নৈতিক, ধর্মীয় ও সাংবিধানিক দায়িত্ব রয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ নরেন্দ্র মোদিকে কোনও ভাবেই স্বাগত জানাবে না। মোদির বাংলাদেশ সফর বাতিল করতে হবে। দল-মত-ধর্ম নির্বিশেষে সব মানুষ মোদির আগমনের প্রতিবাদ জানাচ্ছে, এটি অব্যাহত থাকবে।’

শুক্রবার বিক্ষোভ করা বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক বলেন, ‘ভারতের মুসলিম গণহত্যার বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান। ভারতে মুসলিম গণগত্যা ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। দেশের জনগণ রাজপথে নেমেছে। এমন পরিস্থিতিতে মোদির বাংলাদেশে আগমন কোনও ভাবেই প্রত্যাশিত নয়।’

 

 

 

/এমএএ/

লাইভ

টপ