মুজিববর্ষ: বিএনপিসহ অধিকাংশ দলের নীরবতা, ব্যতিক্রম কয়েকটি দল

Send
আদিত্য রিমন
প্রকাশিত : ০০:১৮, মার্চ ১৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:০৬, মার্চ ১৮, ২০২০

 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (ছবি: সংগৃহীত)

স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে ‘মুজিববর্ষ’ পালন।  করোনা ভাইরাসের কারণে মুজিববর্ষের উদ্বোধন হয়েছে সীমিত আয়োজনে। মুজিববর্ষ ঘিরে বিএনপিসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দলই থেকেছে নীরব।  মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দিনব্যাপী দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেলো, বেশিরভাগ দলই এই আয়োজনে যুক্ত হয়নি। তবে, এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী নেতৃত্বাধীন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, দলটি বিরোধী রাজনৈতিক-শিবিরে থাকলেও দলীয়ভাবে মুজিববর্ষের কর্মসূচি প্রণয়ন করেছে।

মুজিববর্ষের উদ্বোধনী দিনে (মঙ্গলবার) সকালে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা এবং গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতার সমাধি সৌধের বেদিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ, ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাত করে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ, জিএম কাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি, রাশেদ খান মেনন নেতৃত্বাধীন ওয়ার্কাস পার্টিসহ ১৪ দলীয় জোটের কয়েকটি দল। মহান এই নেতার জন্মশতবর্ষে বছরব্যাপী কর্মসূচি পালন করবে সরকারঘনিষ্ঠ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। আগামী ২৪ মার্চ মুজিববর্ষ উপলক্ষে সেমিনার করবে এম এ আউয়াল নেতৃত্বাধীন ইসলামী গণতান্ত্রিক পার্টি।

কিন্তু স্বাধীনতার স্থপতির জন্মশতবর্ষে বিএনপি ও দলটির দুই জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোট, বি. চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট, মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম নেতৃত্বাধীন সিপিবি, খালেকুজ্জামান নেতৃত্বাধীন বাসদ, সাইফুল হক বিপ্লবী ওয়ার্কাস পার্টি, আন্দালিভ রহমানের বিজেপিসহ অধিকাংশ দল মুজিববর্ষ উপলক্ষে দলীয় কোনও কর্মসূচি রাখেনি।

বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, জাতীয় নেতাদের বিষয়ে ২০১৫ সাল থেকেই দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বিএনপির অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। দলের সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় নেতাদের বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখতে নেতাকর্মীদের নির্দেশনা ছিল তার। এর আগে, ১৯৯১ সালে প্রথমবার ক্ষমতায় এসে টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধি জিয়ারত করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।

দায়িত্বশীলদের ভাষ্য, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা অর্জনের জনমত গঠনে বঙ্গবন্ধুর রাজনীতি অতুলনীয়। ব্যক্তিগতভাবে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সুসম্পর্ক ছিল। এরপর ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসার পর তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও বঙ্গবন্ধুর মাজার জিয়ারত করেন। কিন্তু রাজনৈতিকভাবে একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার পর এই সহনশীলতা কমে যায়। যদিও ২০১৫ সালের পর থেকে আবারও পরিবর্তনের ডাক আসে খালেদা জিয়ার তরফে।

২০১৪ সালের ১৫ অগাস্ট ৫০ পাউন্ডের কেক কেটে জন্মদিন পালন করলেও  ২০১৫ সালের ১৫ অগাস্ট প্রথম প্রহরে কেক না কেটে সেদিন সন্ধ্যার পরে কেক কেটে জন্মদিন উদযাপন করেন খালেদা জিয়া। ২০১৬ সালে বন্যা, গুম-খুনকে কারণে দেখিয়ে কেক কাটার কর্মসূচি বাতিল করেন তিনি। ২০১৭ সালে জন্মদিনে লন্ডনে ছিলেন খালেদা জিয়া। এরপর ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে দুর্নীতির মামলা সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে আছেন তিনি। এরমধ্যে ৭৪তম জন্মদিনে দিনে তিনি ছিলেন নাজিম উদ্দিন রোড়ের কেন্দ্রীয় কারাগারে। আর গত বছরের ১৫ আগস্ট ৭৫তম জন্মদিন কেটেছে কারাবন্দি অবস্থায় চিকিৎসার জন্য থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে।

সরকারের বাইরে থাকা দলগুলোর প্রধান নেতারা

সূত্রের দাবি, এ বছরও মুজিববর্ষ পালন নিয়ে স্থায়ী কমিটিতে আলোচনা হয়। যদিও খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে এ বিষয়ে আলোচনা বেশি দূর এগোয়নি। বিশেষ করে, গত কয়েক মাসে দফায়-দফায় তার মুক্তির বিষয়ে আলোচনা হলেও শেষ মুহূর্তে এসে বাতিল হয়। স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য জানান, খালেদা জিয়ার মুক্তি হলে তারা অন্তত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে যেতেন। কিন্তু দলীয় প্রধানের মুক্তির বিষয়টি আটকে থাকায় প্রকাশ্যেই এ বর্ষ উদযাপন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদসহ অনেকে। তারা জানিয়েছেন, খালেদা জিয়াকে আটকে রেখে কোনও বর্ষপূর্তি সফল হবে না।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা শ্রদ্ধা জানাতে যাইনি। মুজিববর্ষ উপলক্ষে দলের কোনও কর্মসূচি থাকবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আমাদের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম দলের মুখপাত্র। এ বিষয়ে তিনি ভালো বলতে পারবেন।’ যদিও মির্জা ফখরুলকে একাধিকবার যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি। 

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক জেএসডির একাংশের সভাপতি আ স ম আব্দুর রব বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের যে চেতনা ছিল তা আজও  কার্যকর হয়নি। দেশে মানুষের নাগরিক, মৌলিক, সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার নেই। এই নিয়ে বর্তমান সরকারের সঙ্গে আমাদের মত পার্থক্য থাকতে পারে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতার প্রশ্নে স্বাধীনতাবিরোধীদের সঙ্গে আমাদের কোনও সম্পর্ক নেই।’

আ স ম রব আরও বলেন,‘জনগণ ভোট দিয়ে এই সরকার গঠন করে নাই। ২০১৪ সাল থেকে তারা বিনা ভোটে ক্ষমতায় আছে।  আজকে আওয়ামী লীগের নেতাদের ঘরে ঘরে আজকের টাকার বস্তা পাওয়া যাচ্ছে। তারা দুর্নীতি করে বিদেশে টাকা প্রচার করছে। ফলে যারা গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে তাদের মুজিববর্ষ পালনের কোনও অধিকার নেই। তারা বঙ্গবন্ধুর আত্মার ওপর অত্যাচার করছে। তিনি বেঁচে থাকলে আজকে বলতেন দেশ আমি একা স্বাধীন করি নাই। তাকে দলের বা পরিবারের সম্পদ করার অধিকার এই সরকারের আছে বলে আমি মনে করি না।’

মুজিববর্ষ উপলক্ষে সিপিবির কোনও কর্মসূচি নেই বলেও জানান দলটির সভাপতি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে তার প্রতিকৃতিতে আমরা শ্রদ্ধা জানাতে যাইনি।’কেন যাননি জানতে চাইলে তিনি কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মুজিববর্ষ তো রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন হচ্ছে। সেখানে দলগত কর্মসূচির দরকার কি?’

রাষ্ট্রীয় প্রোগ্রামগুলোতে বাসদ অংশগ্রহণ করবে কিনা, এমন প্রশ্নে খালেকুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের অংশগ্রহণ করা বা না করা বিষয় না। কিন্তু মুজিববর্ষ উপলক্ষে যে রাষ্ট্রীয় অর্থ খরচ হচ্ছে সেটার স্বচ্ছতা থাকবে কিনা সেটাই এখন দেখার বিষয়। কারণ, আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই একদিন বলেছিলেন, ১৫ আগস্ট যখন শেখ মুজিবের লাশ সিঁড়িতে পড়েছিল তখন কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। আর আজকে হাজার হাজার তাকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছে। আসলে এসব সুবিধাবাদী, চাটুকার গোষ্ঠী যে মুজিববর্ষের নামে নিজের স্বার্থ হাসিল করতে না পারে সেটা খেয়াল রাখতে হবে।’

বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে ফেসবুকে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে স্ট্যাস্ট্যাস দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন বিপ্লবী ওয়ার্কাস পার্টির সভাপতি সাইফুল হক। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমাদের দলের পক্ষ থেকে মুজিববর্ষের আপাতত কোনও কর্মসূচি নেই। সামনে দলের বৈঠক করে তখন এই নিয়ে চিন্তাভাবনা করা হবে।’

বঙ্গবন্ধুর সততা, আদর্শ, আত্মত্যাগের কারণে দেশ স্বাধীন হয়েছে উল্লেখ করেন বিজেপির সভাপতি আন্দালিব রহমান পার্থ। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,  ‘আমরা দোয়া করি আল্লাহ যেন তাকে বেহেশত দান করেন। তার জন্মদিন উপলক্ষে প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে যাইনি এবং মুজিববর্ষেরও কোনও কর্মসূচি নেই।’

২০ দলীয় জোটের শরিক কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বাংলা ট্রিবিউন বলেন, ‘মুজিববর্ষ উপলক্ষে আমাদের দলের কোনও কর্মসূচি নেই। আজকে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতেও আমরা শ্রদ্ধা জানাতে যাইনি। তবে দলের চেয়ারম্যান হিসেবে আমি ফেসবুকে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছি।’

তবে, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ মুজিববর্ষ উপলক্ষে নানা আয়োজন রেখেছে বলে জানান দলটির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদার। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মুজিববর্ষ উপলক্ষে আমাদের দলের আলোচনা সভা, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল আছে। আজকে থেকে সেটা শুরু হয়েছে। তবে আজকে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে তার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে যাইনি।’

অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর দল বিকল্পধারার নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটগতভাবে একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়। নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন দলটির মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান ও বি চৌধুরীর ছেলে মাহি বি চৌধুরী। আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটগতভাবে নির্বাচনে করলেও মুজিববর্ষ উপলক্ষে এই জোটের কোনও কর্মসূচি নেই। এমনকি আজকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিনে তার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতেও যাননি তারা। জানতে চাইলে বিকল্পধারার প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রেসিডিয়াম সদস্য শমসের মবিন চৌধুরী বলেন, আমি দেশের বাইরে আছি। এ বিষয়ে কিছু জানি না। আপনি দলের মহাসচিবকে জিজ্ঞাসা করেন। তবে দলটির চেয়ারম্যান বি.চৌধুরী, মহাসচিব মেজর (অব.)আবদুল মান্নান ও মাহি বি চৌধুরীকে একাধিকবার ফোনও করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে বি.চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আজকে কেউ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জনাতে যাননি। মুজিববর্ষ উপলক্ষে আমাদের কোনও কর্মসূচি নেই। আসলে করোনা ভাইরাসের কারণে সব কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে।

যুক্তফ্রন্টের শরিক জেবেল রহমান গাণির নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ন্যাপেরও কোনও কর্মসূচি নেই মুজিববর্ষ উপলক্ষে। দলটির মহাসচিব  গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘দলের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে যাইনি। মুজিববর্ষ উপলক্ষে আমাদের কর্মসূচিও নেই। তবে সরকারি কর্মসূচিগুলোতে আমরা অংশগ্রহণ করবো।’

ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে জোটবদ্ধ না থাকলেও মুজিববর্ষের সকল আয়োজনে দলীয় নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ থাকবে বলে জানান ইসলামী গণতান্ত্রিক পার্টির চেয়ারম্যান এম এ আউয়াল। তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে অস্বীকার করে এই দেশে রাজনীতি করা অসম্ভব। আমরা আগামী ২৪ মার্চ আলোচনা সভা ডেকেছি। এতে ১৪ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ থাকবেন। পর্যায়ক্রমে আমরা বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেবো।’

 

/এসটিএস/এমআর/টিএন/

লাইভ

টপ