উপনির্বাচন বাতিলের দাবি বিএনপির

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০৪:২৭, মার্চ ২২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৪:৩৩, মার্চ ২২, ২০২০

 

ব্যাপকভাবে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকির মধ্যেও উপনির্বাচন আয়োজনের ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কঠোর সমালোচনা করেছে বিএনপি। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঢাকা-১০, গাইবান্ধা-৩ ও বাগেরগাট-৪ আসনের উপনির্বাচনের ফলাফল বাতিল করে পুনরায় নির্বাচন আয়োজনে দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, 'আমরা এত করে বললাম, নির্বাচনগুলো বন্ধ করুন। আজকে গেছে যে, নট ইভেন টু পারসেন্ট কাস্টিং হয়নি, একেবারেই ভোটার নেই। তারপর আবার আমাদের দলের এজেন্টদেরকেও বের করে দেওয়া হয়েছে।'

শনিবার (২১ মার্চ) রাতে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান।

এসময় নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, এই কমিশন আসলে একটা ক্লাউনে পরিণত হয়েছে এবং তারা নিজেদের যে জায়গাটা কোথায়, সাংবিধানিকভাবে তাদের অবস্থানটা কোথায় সেটা তারা বুঝে না বলে এসব কাজ করে। জাতীয় দুযোর্গের মধ্যে এমন নির্বাচন আয়োজন করে।

এরআগে, নির্বাচন আয়োজন নিয়ে কমিশনের সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর হোসেন বলেছিলেন, ‌'আইন অনুযায়ী কোনও নির্বাচনে যদি একজন ভোটারও ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন, তাহলে নির্বাচন বৈধ হবে এবং যে প্রার্থী ভোট পাবেন তাকে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে।'

এসময় করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সরকারের প্রাক-প্রস্তুতি ছিল না বলে অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি করোনা নিয়ে ‘সরকারের ইচ্ছাকৃত উদাসীনতা ও ব্যর্থতা’কে দায়ী করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি করোনা দুর্যোগের সময় ব্যবসায়ীদের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির দাম না বাড়ানোর অনুরোধ জানান।

করোনা ভাইরাস শনাক্তকরণ কিট, চিকিৎসকদের বিশেষ পোশাক সরবরাহ ও প্রশিক্ষণসহ হাসপাতালে এই রোগের আক্রান্তদের স্বাস্থ্য সেবার বিষয়ে সরকারের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান মির্জা ফখরুল।

স্থায়ী কমিটির বৈঠকে লন্ডন থেকে স্কাইপের মাধ্যমে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান অংশ নেন ও সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়. নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, শনিবার অনুষ্ঠিত তিনটি আসনের উপনির্বাচনের প্রতিটিতেই আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। ঢাকা-১০ (ধানমন্ডি-কলাবাগান-নিউ মার্কেট-হাজারীবাগ) আসনের উপনির্বাচনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী মো. শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন (নৌকা)। তিনি ১১৭টি কেন্দ্রে পেয়েছেন ১৫ হাজার ৯৫৫টি ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির শেখ রবিউল আলম (ধানের শীষ) মোট ৮১৭টি ভোট পেয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্যমতে নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৫.২৮ শতাংশ।

বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা) আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আমিরুল আলম মিলন নৌকা প্রতীক নিয়ে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। ১৪৩টি কেন্দ্রে সবকটির ফলে আওয়ামী লীগের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আমিরুল আলম মিলন নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন এক লাখ ৮২ হাজার ৭৪৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির সাজন কুমার মিস্ত্রী লাঙ্গল প্রতীক পেয়েছেন তিন হাজার ৭৪৪ ভোট।

গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্যাপুর-পলাশবাড়ী) আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম স্মৃতি বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। নৌকা প্রতীক নিয়ে তিনি পেয়েছেন দুই লাখ ১৪ হাজার ৮৮২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী অধ্যাপক ডা. মইনুল হাসান সাদিক ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৪১ হাজার ৪০৮ ভোট। উম্মে কুলসুম স্মৃতি বাংলাদেশ কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক।

 

/এএইচআর/টিটি/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ