করোনাভাইরাস: ২৪ ঘণ্টা বিশেষজ্ঞ সেবা কার্যক্রম নাগরিক ঐক্যের

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৩:৩৯, মার্চ ২৪, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:৪১, মার্চ ২৪, ২০২০





করোনাভাইরাসের বিশেষ এই পরিস্থিতিতে ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসাসেবা দিতে একটি টিম গঠন করেছে নাগরিক ঐক্য। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে সংগঠনের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান।
মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘নাগরিক ঐক্যের পক্ষ থেকে ২৪ ঘণ্টা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে করোনাভাইরাসের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য সনদপ্রাপ্ত গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে কর্মরত দুজন চিকিৎসক ডা. শোয়েব মোহাম্মদ এবং ডা. রুবাইয়া আনোয়ারের নেতৃত্বে চিকিৎসকদের একটি টিম কাজ করবে। নিম্নোক্ত নম্বর দুটিতে কল করে ২৪ ঘণ্টা সেবা পাওয়া যাবে - ডা. শোয়েব মোহাম্মদ (০১৭১৯-৪৩৫১৮৫) ডা. রুবাইয়া আনোয়ার (০১৭০৬-৩৪০২৫৭)।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের সমন্বয়ে একটি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হবে যারা প্রয়োজনে পার্সোনাল প্রটেকশন ইকুইপমেন্টসহ (পিপিই) রোগীদের কাছে গিয়ে সেবা প্রদান করবে।’
অনলাইন সংবাদ সম্মেলন মান্না জানান, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরি করে দরিদ্র মানুষদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। ক্রমান্বয়ে ঢাকা মহানগর থেকে শুরু করে জেলা এবং থানা পর্যায়ে এই কর্মসূচি বিস্তৃত করা হবে। নাগরিক ঐক্যের উদ্যোগে বিভিন্ন বাস টার্মিনাল, বাস ডিপো এবং বিভিন্ন পয়েন্টে গণপরিবহনের বাসগুলো জীবাণুমুক্ত করতে জীবাণুনাশক স্প্রে করা হবে।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আতিকুর রহমান স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মান্না আরও বলেন, আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার পর যাদের কোয়ারেন্টিন বা আইসোলেশনের পরামর্শ দেওয়া হবে, তারা তা পালন করছে কিনা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ পাচ্ছে কিনা - তা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে।
মান্না অভিযোগ করেন, সরকার ২৬ মার্চ থেকে টানা ১০ দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে এবং অনুমিতভাবেই বহু মানুষ ঢাকা ছেড়ে যেতে বাস এবং ট্রেনের টিকিট সংগ্রহে লেগে পড়েছেন। এতে সেসব স্থানে যেমন সংক্রমণ এড়ানোর জন্য নূন্যতম দূরত্ব বজায় রাখা অসম্ভব হচ্ছে, তেমনি এই সব মানুষ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে রোগটাকে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেবে।

তিনি বলেন, ‘সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এই মুহূর্তেই পুরো দেশ লকডাউন করার কোনও বিকল্প নেই বলে আমরা মনে করি। কেবল লকডাউনই পারে মানুষের ভিড়ে মিশে যাওয়া প্রবাসীদের এবং তাদের কাছে থেকে সংক্রমিত অন্য মানুষদের কাছ থেকে নতুন সংক্রমণকে রোধ করতে। লকডাউনই পারে এই সংক্রমণকে সারাদেশের প্রতিটি জায়গায় ছড়িয়ে পড়তে বাধা দিতে।
মান্না বলেন, ‘লকটাউনের সময় এই মানুষগুলোর জন্য নূন্যতম খাদ্যের ব্যবস্থা করা যেমন তাদের একটা নিশ্চিত জীবন দিতে পারে তেমনি এই রোগের ট্রান্সমিশন কমিয়ে রাখতে পারে অনেক খানি।
সংবাদ সম্মেলনে মান্না সংগঠনের পক্ষ থেকে কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য, সরকার আগামী তিন মাস দেশের দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাসকারী এবং কম আর্থিক সামর্থ্যের মোট ৮ কোটি মানুষকে চাল এবং ডাল সরবরাহ করবে বিনামূল্যে। ১০ হাজার কোটি টাকা হলেই এটার ব্যবস্থা করা যায়। গার্মেন্ট কারখানাগুলো বন্ধ করার সিদ্ধান্ত হলে গার্মেন্ট কর্মীদের তিন মাসের বেতন সরকারের পক্ষ থেকে ঋণ হিসাবে গার্মেন্ট মালিকদের দেওয়া, জুন পর্যন্ত ক্ষুদ্রঋণের কিস্তি পরিশোধ না করলে খেলাপি হবে না, এমন প্রজ্ঞাপন জারি করলেও এনজিওগুলো এই সময়ের মধ্যে কোন ঋণ গ্রহীতাকে ঋণের জন্য কোনোরকম চাপ দেবে না। সবচেয়ে প্রান্তিক মানুষগুলোর আগামী কয়েক মাসের কিস্তি মওকুফের ব্যবস্থা করতে হবে। নির্ধারিত আয়ের চাকরিজীবী মধ্যবিত্ত ছাড়া ব্যবসায়ী অনেক মধ্যবিত্ত এই সময়ে চরম বিপদে পড়তে যাচ্ছেন। তাদের জন্য আগামী তিন মাসের বিদ্যুৎ এবং গ্যাস বিলে ছাড় দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। ডাক্তারদের জন্য পার্সোনাল প্রটেক্টিভ ইকুইপমেন্ট, হাসপাতালে সঠিক মানদণ্ড অনুযায়ী আইসোলেশন ইউনিট, পর্যাপ্ত অক্সিজেন, আইসিইউ বেড বাড়ানো এই সব ক্ষেত্রেই এখনও সরকারের ত্বরিত পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। এই মুহূর্তেই এসবের ব্যবস্থা করা না হলে বিপর্যয় ঠেকিয়ে রাখা যাবে না।

/এসটিএস/এআর/

লাইভ

টপ