দলীয় নির্দেশ উপেক্ষা করে হাসপাতাল চত্বরে বিএনপির নেতাকর্মীদের ভিড়

Send
আদিত্য রিমন
প্রকাশিত : ১৫:৪১, মার্চ ২৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:০০, মার্চ ২৫, ২০২০

বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে বিএনপির নেতাকর্মীরাদুই শর্তে ৬ মাসের জন্য সাজা স্থগিত করে কারাবন্দি চিকিৎসাধীন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিচ্ছে সরকার। তাই দলীয় নির্দেশ উপেক্ষা করে নেত্রীকে দেখতে হাসপাতাল চত্বরে জড়ো হয়েছেন দলটির নেতাকর্মীরা। দুই বছর যাবৎ বন্দি খালেদা জিয়াকে একনজর দেখার জন্যই ভিড় জমিয়েছেন তারা।

খালেদা জিয়ার মুক্তির ঘোষণা আসার পরপরই করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে হাসপাতাল বা গুলশানের বাসভবনের সামনে ভিড় না করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে এই নির্দেশ দেন তিনি। তবে এই মুহূর্তে হাসপাতাল চত্বরে অগণিত নেতাকর্মী অবস্থান করছেন।

বুধবার (২৫ মার্চ) বেলা ১২টার দিক থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল চত্বরে বিএনপির পেশাজীবী ডাক্তারদের সংগঠন ড্যাব,  আইনজীবীরা আসতে শুরু করেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এদের পাশাপাশি ঢাকা মহানগর বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলসহ অন্যান্য সংগঠনের নেতাকর্মী হাসপাতালে চত্বরে সমবেত হন।

ঢাকা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,  নেত্রীকে দেখতেই এখানে এসেছি। হাসপাতাল চত্বরে ভিড় না করতে দলের নির্দেশনার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিলে বাশার খালেদা জিয়াকে দেখেই চলে যাওয়ার কথা জানান।

স্বেচ্ছাসেবক দলের পল্লবী থানার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী মোহাম্মদ সাব্বির হোসেন জানান, একটি কাজে এই এলাকাতেই এসেছিলেন, তাই নেত্রীকে দেখে যেতেই এসেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন শিগগিরই খালেদা জিয়া দলের নেতৃত্ব হাতে তুলে নেবেন।

এদিকে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা বিএনপির নেতাকর্মীদের হাসপাতাল চত্বর ত্যাগ করার আহ্বান জানান বারবার। পুলিশ করোনাভাইরাসের সংক্রমণের সতর্কতা উল্লেখ করলেও নেতাকর্মীরা সেখানেই অবস্থান করছেন।বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে বিএনপির নেতাকর্মীরা

এদিকে মির্জা ফখরুলও নেতাকর্মীদের হাসপাতাল চত্বর ত্যাগ করতে বলেছেন বেশ কয়েকবার। তবে নেতাকর্মীদের সেদিকে লক্ষ নেই।

শেষ পর্যন্ত খালেদা জিয়ার মুক্তির সময় বিকাল সোয়া চারটায় তাদের ভিড় এতটাই বাড়ে যে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী এবং গণমাধ্যম কর্মীরাও তাদের স্বাভাবিক কাজ করতে হিমশিম খান। বিকাল সোয়া চারটায় খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়া হলেও বিএসএমএমইউ থেকে তাকে বের করতেই প্রায় বিশ মিনিট লেগে যায়। পরে ফার্মগেট পর্যন্ত তারা খালেদা জিয়ার গাড়িবহরের সঙ্গে দৌড়াতে দৌড়াতে আসে।তবে ফার্মগেট এলাকা থেকে তাদের সরিয়ে দিয়ে এরপর খালেদা জিয়ার গাড়িবহরকে দ্রুত বাসার পথে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেয় পুলিশ। পরে নেতা-কর্মীরা তার বাসার সামনে এসেও ভিড় করে।
প্রসঙ্গত, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন খালেদা জিয়া। সেখানে তার সঙ্গে রয়েছেন গৃহকর্মী ফাতেমা। ওই বছরের ১ এপ্রিল খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য গঠিত বিশেষ মেডিক্যাল বোর্ড কারাগারে গিয়ে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে। এরপর ৭ এপ্রিল বেলা ১১টা ২০ মিনিটে নাজিম উদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বের করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) নেওয়া হয়। ওইদিন কেবিন ব্লকের ৫১২ নম্বর কক্ষে অবস্থান করেন খালেদা জিয়া। ফের ফিরিয়ে নেওয়া হয় কারাগারে। এরপর ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউতে ভর্তি করতে ও চিকিৎসা সেবা শুরু করতে পাঁচ সদস্যের একটি বোর্ড গঠন করার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। দুইদিন পর ২০১৮ সালের ৬ অক্টোবর বিকাল পৌনে চারটার দিকে বিএসএমএমইউতে আনা হয় তাকে।

চূড়ান্তভাবে ২০১৯ সালের ১ এপ্রিল দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন কারাগার থেকে বিএসএমএমইউতে ভর্তি করানো হয় তাকে। খালেদা জিয়ার মেডিক্যাল বোর্ডে চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. জিলন মিয়া সরকার। তিনি জানান, খালেদা জিয়া ১ এপ্রিল বিএসএমএমইউতে ৬২১ নম্বর কেবিনে চিকিৎসাধীন আছেন। সেদিন দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে তিনি ভর্তি হন। আর তার পাশের ৬২২ নম্বর কেবিনটিতে কারা কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীলরা অবস্থান করেছেন।

বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে বিএনপির নেতাকর্মীরাউল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রথমে পাঁচ বছরের এবং পরবর্তী সময়ে তা বাড়িয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। অন্যদিকে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৭ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে তার। এই দুই মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মোট ১৭ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

ছবি: নাসির হোসেন।

/এএইচআর/এফএএন/এমওএফ/

লাইভ

টপ