করোনা মোকাবিলায় জাতীয় কমিটি গঠনের দাবি বিএনপির

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৫:৪৩, মার্চ ৩১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৩৫, মার্চ ৩১, ২০২০

করোনাভাইরাস সংক্রমণ মোকাবিলায় জাতীয় কমিটি গঠন করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ১৬ কোটি মানুষের দেশ। অর্থনীতিও শক্ত নয়, সেখানে এ ধরনের সংকট মোকাবিলার ক্ষেত্রে যদি একটা জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করা যায় সেটাই হবে দেশের জন্য ভালো কাজ।

সোমবার (৩১ মার্চ) দুপুরে উত্তরার নিজ বাসায় সাংবাদিকের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান।

তিনি বলেন, ‘এখনও সময় আছে জাতীয় কমিটি করা উচিত ও দরকার।’

কীভাবে জাতীয় কমিটি হতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রীকেই এ বিষয়ে উদ্যোগ নিতে হবে। সবাইকে নিয়ে বৈঠক করতে হবে এমন নয়, তিনি চাইলেই রাজনৈতিক দল ও সিভিল সোসাইটিকে যুক্ত করে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সম্মিলিত একটি সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এ ধরনের একটি উদ্যোগ নিলে দেশের জনগণের মধ্যে ধারণা আসবে যে ‘উই আর ওয়ান’ বা আমরা এক। আমরা পারবো এমন আত্মবিশ্বাসও আসবে। তিনি আরও বলেন, যদি যথাযথ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে সভার ডাক দেন প্রধানমন্ত্রী, সেটিও করা সম্ভব।

করোনাভাইরাসের মহামারি থেকে দলীয় নেতাকর্মীরা নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই ঘরবন্দি মানুষজন, বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষের জন্য খাবার পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছেন বলে জানান বিএনপি মহাসচিব।

দেশের অর্থনৈতিক সংকটের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, সবচেয়ে বড় যে সমস্যাটা দাঁড়াচ্ছে, সেটি হচ্ছে খেটে খাওয়া মানুষজনের অর্থনৈতিক সমস্যা। অর্থনীতিবিদ থেকে শুরু করে দেশের সর্বস্তরের মানুষেরই চিন্তা অর্থনৈতিক সংকট। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে বেশিভাগ মানুষই এখন দিন আনে দিন খায়। এই বিশাল একটা অংশ কয়েকদিন ধরে কোনও আয় করতে পারছেন না এবং সংকটের প্রান্তসীমায় পৌঁছে যাচ্ছেন তারা।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, এসব মানুষের জন্য যদি জরুরিভাবে উপযোগী ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না যায় তাহলে নিশ্চিতভাবে বড় বিপর্যয় দেখা দেবে। যেটি আমরা ১৯৭৪ সালে দেখেছি। এই বিপর্যয় ঠেকানোর দায়িত্ব সরকারের।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘ সেনাবাহিনীকে যদি কাজে লাগানো যায় তাহলে একটি সমাধান আসবে। একইসঙ্গে তৃণমূল থেকে মাঠ পর্যায়ের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি অর্থাৎ চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার থেকে এমপিদের যদি সম্পৃক্ত করে এই করোনা মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ করা যায় সেটি ফলপ্রসূ হবে। তবে সেটির জন্য উদ্যোগের পাশাপাশি বরাদ্দ ও পর্যাপ্ত সামগ্রী থাকতে হবে।’

হাসপাতালের বর্তমান চিকিৎসা সেবার প্রসঙ্গে টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ঢাকার হাসপাতালগুলোতে ডাক্তার পাওয়া যাচ্ছে না। আজকের পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে যে এপেনডিসাইটিসের রোগী ৮টা হাসপাতালে ঘুরে আল্ট্রাসনোগ্রাম করতে পারছেন না। এটি নিঃসন্দেহে বিপর্যয়ের লক্ষণ।

তিনি পুরো বিষয়টাকে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে জাতিকে রক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

মির্জা ফখরুল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ছুটি ঘোষণা করে দুইদিন পর পর্যন্ত পরিবহন চালু রাখাটা সরকারের ভুল ছিল। এতে সারাদেশে মানুষ ছড়িয়ে গেছে। তবে এটিও হতে পারে যে ঢাকাকে বিচ্ছিন্নকরণ করার উদ্দেশ্যে এটি করা হয়ে থাকতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, সমস্যাগুলো প্রথম থেকে সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখলে এত প্রকট আকার ধারণ করতো না। লকডাউন যেটাকে বলে সেটি সঠিকভাবে হয়নি। ফলে দেখা গেছে ছুটি পেয়ে মানুষ বেড়াতে চলে গেছেন বিভিন্ন টুরিস্ট স্পটে।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, আমরা সবাই সচেতন নই। হাজার হাজার মানুষ ট্রেনে, লঞ্চে একসঙ্গে বাড়ি গেছে। এটি ভয়ঙ্কর বিষয়।

সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী বলেন, পত্রিকায় দেখেছি সত্য-মিথ্যা জানি না, ৪০ হাজার বিদেশফেরত প্রবাসীকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এটি উদ্বেগের।

/এএইচআর/এফএএন/এমওএফ/

লাইভ

টপ