জীবনকে হুমকিতে ফেলে জীবিকা হতে পারে না: সাকি

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৯:২২, মে ০৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:২৪, মে ০৫, ২০২০

‘সবাই চায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চলবে, কিন্তু সেটা জীবনের বিনিময়ে নয়। জীবনকে হুমকিতে ফেলে দিয়ে জীবিকা হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি।

মঙ্গলবার (৫ মে) বিকালে দলের পক্ষ থেকে আয়োজিত অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘গার্মেন্টস ও কারাখানা খুলে দেওয়া হলেও কোয়ারেন্টিনের কোনও ব্যবস্থাপনা সরকার গ্রহণ করেনি। রোগ শনাক্ত করা, ব্যাপকভাবে চিকিৎসকদের সুরক্ষার ব্যবস্থা করার মতো পূর্ব শর্তগুলো না করে এই সিদ্ধান্ত মহামারিকে ছড়িয়ে দেওয়ার নামান্তর।’ এই পূর্বশর্ত না মেনে সবকিছু খুলে দেওয়া হলে জনগণকে বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়া হবে বলেও মনে করেন তিনি।

৪৯ দিনের কার্যকর লকডাউন হলে করোনার সংক্রমণ অনেক কমে আসে। কিন্তু আমাদের দেশের সরকার তা করতে ব্যর্থ হয়েছে, বলে দাবি করেন গণসংহতি আন্দোলনের এই নেতা।

জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘করোনাভাইরাসের এই বিশেষ পরিস্থিতি উন্নতির জন্য যখন ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন ছিল, তখনই সরকার দোকানপাট খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর এই সিদ্ধান্ত দেওয়ার জন্য ঈদকে সামনে আনা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ জানেন, এই মহামারি ছড়িয়ে পড়লে প্রত্যেক মানুষের জীবন বিপন্ন হবে।’

সাকির অভিযোগ, বাংলাদেশে করোনাভাইরাস ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও টেস্ট খুব কম হওয়ার কারণে প্রকৃত চিত্র পাওয়া যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, ‘করোনাভাইরাস মোকাবিলায় নাগরিক সমাজ ও রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে যে বিষয়গুলো উঠে এসেছে, বর্তমান সরকার সে বিষয়ে যথাযথ উপায় গ্রহণ করেনি। আবার কোনোটি গ্রহণ করলেও কার্যকর করার ক্ষেত্রে তাদের অনীহা দেখা গেছে।’

লকডাউন যেভাবে বিশেষ পরিস্থিতি বুঝায়, সরকারের ছুটি ঘোষণার কারণে মানুষের কাছে সেই বার্তাটিই পৌঁছায়নি— অভিযোগ করেন সাকি। সরকারের শৈথিল্যের কারণেই লকডাউন কার্যকর হয়নি বলে জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে গণসংহতি আন্দোলনের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী সমন্বয়ক আবুল হাসান দলের পক্ষ থেকে কয়েকটি প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘করোনার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সতর্ক পরিকল্পনা ও কৌশল গ্রহণে প্রয়োজন দীর্ঘ মেয়াদে আমাদের টেকসই উন্নয়নকে সামনে রেখে। প্রয়োজন স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো।’

প্রস্তাবগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য— আমদানি নির্ভর ভোক্তা ও রফতানিমুখী শিল্পে প্রধান গুরুত্ব না দিয়ে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর উপযোগী ভারী ও হালকা শিল্পের বিকাশ ঘটাতে হবে। বাজারের ওপর খোদ কৃষকের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য কৃষি সমবায় গড়ে তুলতে হবে। গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিগত খাতে দেশীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। এ জন্য একটি পর্ষদ গঠন করতে হবে। চিকিৎসক, নার্স,  স্বাস্থ্যকর্মী,  চিকিৎসা গবেষকদের জন্য বিশেষ বেতন স্কেল তৈরি এবং পাঠ্যপুস্তকে স্বাস্থ্যকর খাবার ও স্বাস্থ্যবিধি ও সংক্রামক রোগে সাধারণ করণীয় যুক্ত করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে গণসংহতি আন্দোলনের নেতা দেওয়ান নিলু, তাসলিমা আখতার, হাসান মারুফ, জুলহাস নাইন বাবু ও সৈকত মল্লিক বক্তব্য রাখেন।

 

/এসটিএস/এপিএইচ/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ