একসঙ্গে লড়তে হবে: মোহাম্মদ নাসিমের স্মরণে ১৪ দল

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৩:৪১, জুলাই ১৬, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:২০, জুলাই ১৬, ২০২০

১৪ দলীয় জোটআওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও ১৪ দলের মুখপাত্র প্রয়াত মোহাম্মদ নাসিমের স্মরণ সভায় তার সতীর্থরা বলেছেন, ‘সামনের দিনগুলোতে রাজনীতির কঠিন পথ পাড়ি দিতে হবে। এ দেশ থেকে এখনও স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি নির্মূল হয়নি। অগণতান্ত্রিক শক্তিও বার বার সুযোগ খুঁজছে। স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র-বিরোধী ও সাম্প্রদায়িক শক্তি বার বার মাথা চাড়া দেওয়ার চেষ্টা করছে। ষড়যন্ত্র করছে। পাশাপাশি দুর্নীতি ও করোনা মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে হচ্ছে। দুর্নীতি পুষে রেখে দেশে এগোনো যাবে না। এমনকি করোনাকে পুষে রেখে অর্থনীতি সচল রাখা যাবে না। আর স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র-বিরোধী এবং সাম্প্রদায়িক শক্তিকে চিরতরে এ দেশ থেকে নির্মূল করতে হবে। আর এ জন্য আমাদের একসঙ্গে লড়ে যেতে হবে।’

১৪ দলের সাবেক মুখপাত্র ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য প্রয়াত মোহাম্মদ নাসিম এমপি’র স্মরণে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে আয়োজিত শোকসভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। বুধবার (১৫ জুলাই) রাতে ১৪ দলের উদ্যোগে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

১৪ দলের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র এবং আওয়ামী লীগ-এর উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমুর সভাপতিত্বে এই আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ১৪ দলের জাতীয় নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানটি সরাসরি প্রচারিত হয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ এবং অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে।

এতে আমির হোসেন আমু বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, নাসিম চলে যাওয়ায় আমি একজন বিশ্বস্ত সহযোদ্ধাকে হারিয়েছি। তার এই উক্তির মধ্যে দিয়েই নাসিমের সার্বিক রাজনীতিকর্মের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে তার পিতা যেরকম একনিষ্ঠ ছিলেন, অবিচল ছিলেন; মুহাম্মদ নাসিমও শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সেরকম অবিচল ও একনিষ্ঠ ছিলেন। আমরা একসঙ্গে কাজ করতাম, প্রত্যেকটি আন্দোলন সংগ্রামে নাসিম ছিল আমার সহযোদ্ধা। মোহাম্মাদ নাসিম ১৪ দলকে জাতীয় পর্যায়ে একটা বিরাট পরিচিতি দিয়ে গেছেন, অসুস্থ শরীর নিয়ে সংগঠন চালিয়ে গেছেন।’

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘একজন বর্ণাঢ্য রাজনীতিবিদ ছিলেন মোহাম্মাদ নাসিম। আমরা একসঙ্গে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি, রাজপথে মার খেয়েছি, বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় একসঙ্গে নির্যাতিত হয়েছি। তিনি দেশের জন্য, দলের জন্য মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন, বারবার কারাবরণ করেছেন।’

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘পৃথিবীতে খুব কম দেশে দেখা গেছে পিতা-পুত্র একসঙ্গে জেলে গেছেন। পাকিস্তানের আইয়ুব সাহেবের আমলে আন্দোলন করে পাবনায় পিতা জাতীয় নেতা ক্যাপ্টেন মনসুর আলীর সঙ্গে মোহাম্মাদ নাসিমও কারাবরণ করেছিলেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত নাসিম ছিলেন একজন সংগ্রামী ও প্রাণবন্ত রাজনীতিবিদ। অনেক আন্দোলন সংগ্রামে মোহাম্মাদ নাসিমকে আমি পাশে পেয়েছি। তার অভাব অপূরণীয়।’

আওয়ামী লীগের আরেক সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জনাব জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াতের সাম্প্রদায়িক অপরাজনীতির বিরুদ্ধে একটি অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি প্রতিষ্ঠা ও শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে আমৃত্যু কাজ করে গেছেন মোহাম্মদ নাসিম।’ 

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রহমান বলেন, ‘একজন প্রাণবন্ত মানুষকে প্রয়াত বলতে হবে এটা মেনে নেওয়া কষ্টকর। মোহাম্মদ নাসিম ছিলেন  আপদমস্তক একজন অসম্প্রদায়িক বর্ণাঢ্য রাজনীতিবিদ, ছিলেন সফল সংগঠক। ছিলেন রাজপথের আন্দোলন সংগ্রামের নায়ক।’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম বলেন, ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৪ দলের সৃষ্টির পর থেকে জননেতা মোহাম্মাদ নাসিম ১৪ দলকে ঐকবদ্ধ রাখতে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছেন। তার মৃত্যুতে ১৪ দল ও আওয়ামী লীগের যে ক্ষতি হয়েছে, তা কখনও পূরণীয় নয়।’ সংকটকালে যারা বিরাজনীতিকরণের রাজনীতি করছে, ষড়যন্ত্রের রাজনীতি করছে, অপপ্রচার চালাচ্ছে—এ সবের বিরুদ্ধে ১৪ দল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘১৪ দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখার দৃঢ়তা দেখেছি নাসিমে মধ্যে। আমরা একজন দক্ষ সংগঠক ও বিশ্বস্ত সহযোদ্ধাকে হারালাম।’

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘এই সময়ে করোনা জয় করলেও এর পরে মোকাবিলা করতে হলে ঐক্যের মাধ্যেমে এগিয়ে যেতে হবে। দুর্নীতি পুষে রেখে দেশে এগোনো যাবে না। এমনকি করোনাকে পুষে রেখে অর্থনীতি সচল রাখা যাবে না। সুতরাং একসঙ্গে লড়ে যেতে হবে।’

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)-এর একাংশের নেতা শরীফ নুরুল আম্বিয়া বলেন, ‘অপশক্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক এই রাজনীতিতে মোহাম্মদ নাসিমের খুব প্রয়োজন ছিল। আমরা তার দেখানো পথে এগিয়ে চলবো নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে।’

সভায় ন্যাপের পক্ষে বক্তব্য দেন ইসমাইল হোসাইন, গণ আজাদী লীগের সভাপতি এস কে শিকদার, তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান ‎সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী, গণতন্ত্রী পার্টির ডা. শাহাদাত হোসেন প্রমুখ।

 

/এমএইচবি/আইএ/

লাইভ

টপ