৩৩ শতাংশ নারী কোটা পূরণে সময় বাড়াতে বললো আ.লীগ

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৭:২৯, জুলাই ২৯, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৩০, জুলাই ২৯, ২০২০

আওয়ামী লীগ

রাজনৈতিক দলের কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্ব নিশ্চিতকরণের সময়সীমা বাদ দেওয়ার প্রস্তাবে দ্বিমত পোষণ করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। চলতি ২০২০ সালের মধ্যে এ শর্ত পূরণের সময়সীমা উঠিয়ে দিয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) নতুন আইনে প্রস্তাব করলে আওয়ামী লীগ তাতে সংশোধনীর পরামর্শ দিয়েছে। এক্ষেত্রে দলটি নারী নেতৃত্ব পূরণের সময়সীমা আরও পাঁচ বছর বাড়াতে বলেছে। 

বুধবার (২৯ জুলাই) নির্বাচনে ভবনের নিজ দফতরে ইসি সচিব মো. আলমগীর সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। এর আগে আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশন প্রণীত রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন খসড়া আইনের বিষয়ে তাদের লিখিত অভিমত কমিশনে জমা দেয়।

আওয়ামী লীগের মতামত সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর বলেন, ‘তারা ২০২৫ সালের মধ্যে ৩৩ শতাংশ নারী পদ পূরণের বিধান প্রস্তাবিত নতুন আইনে রাখার জন্য মতামত দিয়েছে।’

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের শর্ত মোতাবেক ২০২০ সালের মধ্যে ৩৩ শতাংশ নারী পদ পূরণের বিধান রয়েছে।

বর্তমানে আরপিও থেকে দল নিবন্ধনের অধ্যায়টি তুলে দিয়ে 'রাজনৈতিক দল নিবন্ধন আইন-২০২০' নামে নতুন একটি আইন প্রণয়ন করছে ইসি। ওই খসড়া আইনে রাজনৈতিক দলের সব পর্যায়ের ৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্ব নিশ্চিত করা কথা বলা হলেও কবে নাগাদ তা করতে হবে, সে বিষয়টি তুলে দেওয়া হয়।

পরে নতুন এই  আইনের খসড়ার ওপর সবার কাছে মতামত চেয়েছিল ইসি।  এরই পরিপ্রেক্ষিতে আ.লীগসহ ১৬টি নিবন্ধিত দল, ১০টি অনিবন্ধিত দল এবং ১০ জন ব্যক্তি মতামত দিয়েছেন।

বিভিন্ন দলের মতামত সম্পর্কে জানতে চাইলে ইসি সচিব বলেন, ‘মতামতগুলো মিশ্র। কেউ বলেছে উপজেলা, জেলা ও কেন্দ্রে  আলাদা আলাদা সময় বেঁধে দেওয়ার জন্য। কেউ বলেছে নারী সদস্য পদ পূরণে সময় আর না বাড়াতে। এছাড়া অন্যান্য বিষয়েও তারা মতামত দিয়েছেন। আমরা এগুলো একীভূত করছি। তারপর কমিশনের কাছে দেওয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘৩১ জুলাই মতামত দেওয়ার সময় শেষ। আর  সময় বাড়ানো হবে না। এরপরই যৌক্তিক মতামতের ভিত্তিতে নতুন দল নিবন্ধন আইনের খসড়া চূড়ান্ত করে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।’

আ. লীগের প্রস্তাব ইসি সচিবের কাছে এর আগে জমা দিয়ে যান দলের প্রচার সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘৫০ শতাংশ নারী সদস্য পদ পূরণের পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। নারীর ক্ষমতায়নে প্রধানমন্ত্রীর যে দৃঢ় ভূমিকা রয়েছে, আমরা সেভাবেই আমাদের মতামত দিয়েছি।’

এদিকে নারী নেতৃত্ব ছাড়াও খসড়ায় নিবন্ধন পাওয়ার অন্যতম শর্ত হিসেবে আবেদন করার তারিখ থেকে পূর্ববর্তী দুটি সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে কমপক্ষে একটি আসন পাওয়ার বিষয়টিও রাখা হয়েছে। এবং ওই সংসদ নির্বাচনের যে কোনও একটিতে আবেদনকারী দলের অংশগ্রহণ করা আসনে প্রদত্ত মোট ভোটের ৫ শতাংশ পাওয়ার বিধানের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এছাড়াও পরপর দু'বছর সংসদ নির্বাচনে অংশ না নিলে নিবন্ধন বাতিলের বিষয়সহ প্রস্তাবিত আইনে একগুচ্ছ শর্ত রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, কোনও দল সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে চাইলে সেই দলকে বাধ্যতামূলকভাবে ইসি থেকে নিবন্ধন নিতে হয়। বর্তমানে ইসিতে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৪১টি।

 

/ইএইচএস/এপিএইচ/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ