প্রয়োজনে কামাল হোসেনকেও বহিষ্কার!

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৪:৩৫, অক্টোবর ২১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:৫৭, অক্টোবর ২১, ২০২০

গণফোরাম ভেঙে গঠিত বিদ্রোহী অংশের নেতাদের সংবাদ সম্মেলন

‘গঠনতন্ত্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনকে শোকজ করা হবে। শোকজের জবাব সন্তোষজনক না হলে চূড়ান্ত বহিষ্কার করা হতে পারে।’ এমনটাই জানিয়েছেন গণফোরাম ভেঙে গঠিত বিদ্রোহী অংশের নির্বাহী সভাপতি ও মুখপাত্র সুব্রত চৌধুরী।

বুধবার (২১ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে গণফোরাম আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘আগামী সম্মেলনে যদি কামাল হোসেন আসেন তবে তাকে সঙ্গে নিয়ে আমরা গণফোরামকে সামনের দিকে এগিয়ে নেবো। এই সিদ্ধান্ত ড. কামাল হোসেনের। তবে উনি ড. রেজা কিবরিয়াকে নিয়ে এবং উনার আশীর্বাদ তুষ্ট হয়ে যদি দুষ্ট চক্রের মাধ্যমে গণতন্ত্রহীন এবং স্বেচ্ছাচারিতামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যান তাহলে আমাদের সিদ্ধান্ত, সম্মেলন এর আগেও হতে পারে।'

তিনি আরও বলেন, 'গঠনতন্ত্রবিরোধী যত কর্মকাণ্ড হয়েছে তা উনার (ড. কামাল হোসেন) সম্মতিক্রমেই হয়েছে। সুতরাং উনি সভাপতি হোক আর সদস্যই হোক উনি যদি গঠনতন্ত্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকেন তার ব্যাপারে যা ব্যবস্থা নিতে হয় তা আমাদের গঠনতন্ত্রে আছে। কেন্দ্রীয় কমিটির দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সম্মতিক্রমে তাকে বহিষ্কার করা যায়। তার আগে শোকজ দিতে হয়। আমরা ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করবো না। প্রয়োজনে তার আগেও যারা গঠনতন্ত্রবিরোধী কাজ করেছে তাদের শোকজ করবো। কামাল হোসেনের ব্যাপারেও এটার কোনও ব্যত্যয় হবে না।’

সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যরা যদি শোকজে সন্তুষ্ট না হন তাহলে বহিষ্কারটা কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় করতে হবে। দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের অনুমতি নিয়ে। যদি সদস্যরা সন্তুষ্ট হন তাহলে চূড়ান্ত বহিষ্কার হয় না, সেটা প্রত্যাহার হয়। যদি দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য মনে করে শোকজের জবাব সন্তুষ্ট নয়, তাহলে চূড়ান্ত বহিষ্কার করা যাবে।’

ড. কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'আমরা বলেছিলাম ২৬ ডিসেম্বর, কিন্তু যেহেতু উনি এখনও ড. রেজা কিবরিয়ার যোগসাজশে গঠনতন্ত্রবিরোধী কর্মকাণ্ড করে যাচ্ছেন তাই সিদ্ধান্ত আগেও হতে পারে। আমরা দেখবো আগামীকাল থেকে উনি কী ভূমিকা রাখেন।’

এর আগে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তিনি। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন গণফোরাম ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলন প্রস্তুতি পরিষদের আহ্বায়ক মোস্তফা মহসিন মন্টু, নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক ড. আবু সাইয়িদ প্রমুখ।

উল্লেখ্য, প্রতিষ্ঠার ২৭ বছর পর গত ২৬ সেপ্টেম্বর ভেঙে দুই ভাগ হয়ে যায় ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরাম। বেরিয়ে যাওয়া অংশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দলটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টুসহ তিন জন নেতা। আর এই অংশটি আগামী ২৬ ডিসেম্বর দলের কেন্দ্রীয় কাউন্সিলেরও ঘোষণা করেছে।

এরপর গত ১৭ অক্টোবর এক সভায় গণফোরাম সাধারণ সম্পাদক রেজা কিবরিয়া জানান, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে মোস্তফা মহসিন মন্টুসহ আট জনকে বহিষ্কার করেছে গণফোরামের ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন অংশ। বহিষ্কার হওয়া বাকি সাতজন হলেন আবু সাইয়িদ, সুব্রত চৌধুরী, জগলুল হায়দার আফ্রিক, হেলালউদ্দিন, লতিফুল বারী হামিম, খান সিদ্দিকুর রহমান ও আব্দুল হাসিব চৌধুরী। আগামী ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় এই অংশের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল করার ঘোষণা দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন- 

ভেঙে গেলো গণফোরাম

গণফোরাম থেকে মন্টুসহ ৮ জনকে বহিষ্কার

ভাঙছে গণফোরাম, ঠেকাতে পারছেন না ড. কামাল   

গণফোরামের কমিটি ভেঙে দিলেন ড. কামাল

গণফোরামে পাল্টাপাল্টি বহিষ্কার

 

/এইচএন/এফএস/এমএমজে/

লাইভ

টপ