বিএনপি চেয়ারপারসন ও ২০ দলীয় জোটনেত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেছেন সদ্য বিভক্ত জমিয়তের উলামায়ে উভয় অংশের নেতারা। শনিবার রাত সাড়ে নয়টা থেকে সাড়ে এগারোটা পর্যন্ত উভয় অংশকেই আলাদাভাবে সময় দিয়েছেন জোটনেত্রী। বৈঠকে তিনি জমিয়ত নেতাদের অপেক্ষা করতে বলেছেন। পাশাপাশি বিএনপি মহাসচিব ও জোটের সমন্বয়ক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জমিয়ত নেতাদের আবারও এক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। বিভক্ত জমিয়তের উভয় অংশের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।
বিএনপির চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান সাক্ষাতের বিষয়টি স্বীকার বলেন, ‘শনিবার সাড়ে এগারোটার দিকে জমিয়তের কয়েকজন নেতা কার্যালয় থেকে বেরিয়ে গেছেন।’
জমিয়তের (ওয়াক্কাছ) প্রধান মুফতি ওয়াক্কাছ এ সম্পর্কে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জোটনেত্রীকে আমরা পুরো পরিস্থিতি তুলে ধরেছি। তিনি মনোযোগ দিয়ে আমাদের কথা শুনেছেন।’
(মোমিন-কাসেমী) অংশের সহ-সভাপতি আবদুর রব ইউসূফীও বাংলা ট্রিবিউনকে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও জমিয়তের ওয়াক্কাছ সাহেবের কথা বলেছি। তিনি মিটিংয়ে আসেন না, এ বিষয়টিও জানিয়েছি।’
শনিবার সকালে মজলিসে আমেলার বৈঠক ডেকে (মোমিন-কাসেমী) অংশ নির্বাহী সভাপতি মুফতি ওয়াক্কাছের সদস্য পদ স্থগিত করে। প্রতিক্রিয়ায় শনিবার রাতে ওয়াক্কাছ নেতৃত্বাধীন অংশটি জমিয়তের মহাসচিব নূর হোসাইন কাসেমী, আবদুর রব ইউসূফী ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুককে বহিষ্কার করে।
পাল্টাপাল্টি বহিষ্কারের পর রাতেই বিএনপির চেয়ারপারসনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গুলশানে যান উভয় অংশের নেতারা।
এই প্রসঙ্গে ওয়াক্কাছ অংশের নেতা মাওলানা রেজাউল করিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা দীর্ঘক্ষণ ধরে খালেদা জিয়ার কাছে পুরো বিষয়টি বলেছি। মাওলানা ইউসূফী যে খেলাফত মজলিসে থাকার সময় আওয়ামী লীগের সঙ্গে চুক্তি করেছেন, খেলাফত মজলিস ভেঙে দেওয়াসহ জমিয়তেও যে নেতিবাচকভাবে প্রভাববিস্তার করেছেন, সেই বিষয়টি বলেছি।’
রেজাউল করিম বলেন, ‘জোটনেত্রী আমাদের দুই দিন অপেক্ষা করতে বলেছেন। আমরা যেন আর পদক্ষেপ না নেই, সে বিষয়েও বলেছেন।’
গুলশানের কার্যালয়ে আলাদাভাবে খালেদা জিয়ার সঙ্গে জমিয়ত নেতাদের সাক্ষাতের সময় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও উপস্থিত ছিলেন। তিনি উভয় অংশকেই আবারও এক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানান জমিয়ত নেতারা।
এই প্রসঙ্গে আবদুর রব ইউসূফী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আমাদের এক হওয়ার কথা বলেছেন।’
বিষয়টি স্বীকার করেন মাওলানা রেজাউল করিমও। তিনি বলেন, ‘জোট সমন্বয়ক মির্জা ফখরুল ইসলাম আবারও আমাদের এক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে আমরা শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ এনে ইতোমধ্যেই তিন জনকে বহিষ্কার করেছি।’
বৈঠক সূত্র জানায়, খালেদা জিয়া জমিয়তের ওয়াক্কাছ অংশের অভিযোগ শুনে আবদুর রব ইউসূফীর বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি কিভাবে জমিয়তে এলেন, এ বিষয়েও কিছু কথা বলেন।
সূত্র আরও জানায়, খালেদা জিয়া দুই দিনের সময় চেয়েছেন ওয়াক্কাছ অংশের কাছে।
আবদুর রব ইউসূফী দাবি করেন, ‘তাদের তো সাক্ষাৎই দিতে চাননি জোটনেত্রী। অনেকক্ষণ বসে থেকে সময় পেয়েছেন।’ প্রতিক্রিয়ায় রেজাউল করিম বলেন, ‘রাত দশটায় আমরা যাই, সাড়ে দশটা থেকে প্রায় সাড়ে এগারোটা পর্যন্ত বৈঠক করি।’
যদিও এ বিষয়ে জানতে চেয়ে যোগাযোগ করলেও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মোবাইলফোন রিসিভ করেননি।
এদিকে সূত্র জানায়, এর আগে গত মাসে ২০ দলীয় বৈঠকের পর জমিয়তের মুফতি ওয়াক্কাছসহ কয়েকজন নেতা দলটির সম্ভাব্য চিত্র তুলে ধরেন। ওই সময় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উভয় অংশকেই তার চীন সফর শেষে ফিরে বসার কথা ছিল। রেজাউল করিম বলেন, ‘মির্জা ফখরুল বিস্মিত হয়েছেন, তার কথা তো রাখা হয়নি। তড়িঘড়ি করে মুফতি ওয়াক্কাছ সাহেবকে বাদ দেওয়া হলো।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুফতি ওয়াক্কাছ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জোটনেত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে। আমাদের বিষয়গুলো তাকে বলেছি। তিনি উদ্যোগ নেবেন বলে জানিয়েছেন। আমাদের অপেক্ষা করতে বলেছেন।’
বৈঠকে খালেদা জিয়ার অবস্থান কী ছিল, এমন প্রশ্নের উত্তরে জমিয়ত ওয়াক্কাছ অংশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মহিউদ্দিন ইকরাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জোটনেত্রী আমাদের দুই/ তিন দিন অপেক্ষা করতে বলেছেন। তিনি বলেছেন, আমরা যেন অপেক্ষা করি। এরপর উভয় অংশকে নিয়ে তিনি বসবেন। আমরাও বলেছি, ম্যাডাম, রাজনৈতিকভাবে জোটনেত্রী। আপনি যেভাবে বলবেন, সেভাবেই হবে। এখন আমরা অপেক্ষা করব।’






