জাসদের ৫০ বছর, সাফল্য কামনা প্রধানমন্ত্রীর

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
৩১ অক্টোবর ২০২২, ১৩:৩৬আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০২২, ১৭:০৪

দেশের আলোচিত অন্যতম রাজনৈতিক দল বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ সোমবার (৩১ অক্টোবর)। প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন করেছে দলটি। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে হাসানুল হক ইনুর নেতৃত্বাধীন এ দলটির সাফল্য কামনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সোমবার (৩১ অক্টোবর) জাসদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশে অংশগ্রহণ করবেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

সোমবার সকালে জাসদের দফতর সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে সোমবার ভোর ৬টায় দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। সকাল সাড়ে ৬টায় শহীদ প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেছেন নেতারা। আজ বিকাল সাড়ে ৩টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ হবে।

সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ছাড়াও সমাবেশে বক্তব্য দেবেন ফজলে হোসেন বাদশা, দিলীপ বড়ুয়া, সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী, ইসমাইল হোসেন, ডা. শাহাদাত হোসেন, শেখ শহীদুল ইসলাম, ডা. অসিত বরণ ও রেজাউর রশিদ খান প্রমুখ।

সাজ্জাদ হোসেন জানান, কেন্দ্রীয় কমিটির পাশাপাশি দলের সকল জেলা-উপজেলা কমিটি ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনে কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

দলের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার দেশবাসী ও জাসদের সর্বস্তরের নেতাকর্মী-সমর্থক-শুভানুধ্যায়ীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

জাসদের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে যারা জাসদের সংগ্রাম এগিয়ে নিতে জীবন দিয়েছেন, আত্মত্যাগ করেছেন, ত্যাগ স্বীকার করেছেন, জেল-জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন ইনু ও শিরীন। বাণীতে তারা বলেন, ‘জাসদের ৫০ বছরের ইতিহাসে প্রমাণ হয়েছে, জাসদ নেতাদের দল নয়, কর্মীদের দল। দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বা দলের নেতারা দলের পাহারাদার মাত্র।’

প্রধানমন্ত্রীর সাফল্য কামনা

জাসদ নেতা সাজ্জাদ হোসেন জানান, দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাণীতে তিনি বলেন, ‘জাসদের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আমি এই দলের সকল নেতাকর্মী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ‘সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ২৩ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা অর্জন করেছি স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। জাতির পিতা যখন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন, তখনই স্বাধীনতাবিরোধী পরাজিত শক্তি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তাকে পরিবারের অধিকাংশ সদস্যসহ নির্মমভাবে হত্যা করে। তাকে হত্যার মধ্য দিয়ে দেশে শুরু হয় হত্যা, ক্যু, সংবিধান লঙ্ঘন, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ধ্যান-ধারণার পুনর্বাসন এবং তাদের রাজনীতি-সমাজে পুনঃপ্রতিষ্ঠার অপচেষ্টা। দেশবাসীর ওপর সামরিক শাসনের জগদ্দল পাথর চাপিয়ে দিয়ে কুচক্রী মহল তাদের উদ্দেশ্য অনেকটা চরিতার্থ করতে সক্ষম হয়। দেশ ধাবিত হয় এক অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে।’

শেখ হাসিনা বাণীতে উল্লেখ করেন, ‘দেশের এমনি এক ক্রান্তিলগ্নে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে আমি ১৯৮১ সালের ১৭ মে ৬ বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে দেশে ফিরে আসি ভোট ও ভাতের অধিকার আদায়ের সংকল্প নিয়ে। ততদিনে কুচক্রীমহল সমাজের রন্ধ্রে-রন্ধ্রে দুর্নীতি, অপরাজনীতি এবং সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্পের অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে ফেলেছে। শুরু হয় গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের লড়াই।’

‘তৎকালীন পাকিস্তানের ধর্মভিত্তিক বিভাজনের রাজনীতি এবং শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্তিলাভের উদ্দেশ্যেই এ দেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব এমন একটি বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, যে বাংলাদেশ হবে গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক এবং শোষণ ও বৈষম্যমুক্ত। আর সে জন্যই যে সংবিধান তিনি উপহার দিয়েছিলেন সেটি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং সমাজতন্ত্র- এই চারটি মূল স্তম্ভের উপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল’, যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

জাসদ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল বরাবরই মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার চেতনায় অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, শোষণ ও বৈষম্যমুক্ত রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে আমাদের সহযোগী হিসেবে জোরালো ভূমিকা পালন করে আসছে।’

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, অতীতের মতো ভবিষ্যতেও জাসদ মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা বিরোধীদের ক্ষমতা দখলের অপরাজনীতির বিরুদ্ধে এবং দেশে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ধারা, উন্নয়ন ও শান্তির রাজনীতি অব্যাহত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’ তিনি জাসদের সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

জাসদের কথা

জাসদ সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭২ সালের ৩১ অক্টোবর সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধে ৯ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার অবসরপ্রাপ্ত মেজর এম এ জলিল এবং ছাত্রলীগের এককালীন সাধারণ সম্পাদক, সরাসরি ভোটে নির্বাচিত ডাকসুর প্রথম ভিপি, স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের শীর্ষ নেতা ও মুক্তিযুদ্ধে বিএলএফ-মুজিব বাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের উপ-অধিনায়ক আ স ম আব্দুর রবকে যুগ্ম-আহ্বায়ক এবং আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার অন্যতম আসামি বিধান কৃষ্ণ সেন, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম নেতা শাহজাহান সিরাজ, সাবেক ছাত্রনেতা ও যুবনেতা নূর আলম জিকু, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার অন্যতম আসামি ক্যাপ্টেন সুলতান উদ্দিন আহমেদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট রহমত আলীকে সদস্য করে ৭ (সাত) সদস্যের কমিটি ঘোষণার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ যাত্রা শুরু করে। একই বছর ২২ ডিসেম্বর প্রথম জাতীয় সম্মেলনের মাধ্যমে অবসরপ্রাপ্ত মেজর এম এ জলিলকে সভাপতি এবং আ স ম আব্দুর রবকে সাধারণ সম্পাদক করে জাসদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়।

জাসদের দফতর বিভাগ জানায়, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ সমাজতান্ত্রিক গণআন্দোলনের ধারাতেই ১৯৭৩ সালে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গিয়ে জাসদ তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের চরমভাবে বহুমাত্রিক বাধার সম্মুখীন হয়। মেজর জলিল, ইঞ্জিনিয়ার আব্দুর রশীদসহ কয়েকজন প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণার পরও পরবর্তী সময়ে পরাজিত দেখানো হয়।

উল্লেখ্য, ইঞ্জিনিয়ার আব্দুর রশীদকে বিজয়ী ঘোষণা করেও পরবর্তী সময়ে ঢাকা থেকে খন্দকার মোশতাককে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। টাঙ্গাইল থেকে জাসদ প্রার্থী আব্দুস সাত্তার বিজয়ী হন।

আরও বলা হয়, স্বতন্ত্র বিজয়ী প্রার্থী আব্দুল্লাহ সরকার জাসদে যোগদান করেন। আওয়ামী লীগ নেতা এ এইচ এম কামরুজ্জামান রাজশাহীর দুটি আসনে বিজয়ী হয়ে একটি আসন ছেড়ে দিলে সেই আসনের উপনির্বাচনে জাসদ প্রার্থী মাইনউদ্দিন আহমেদ মানিক বিজয়ী হন। তিনটি আসন নিয়ে জাতীয় সংসদে জাসদ সোচ্চার বিরোধী দলের ভূমিকা পালনের পাশাপাশি দেশব্যাপী গণআন্দোলন গড়ে তোলে জাসদ।

সাজ্জাদ হোসেনের পাঠানো বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৭৫-এর ২৫ জানুয়ারি বাকশাল গঠন করা হলে জাসদ নিষিদ্ধ হয়ে যায়। খন্দকার মোশতাকের নেতৃত্বে ষড়যন্ত্রকারীরা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে ক্ষমতা দখল করে। খন্দকার মোশতাকের ৮৩ দিনের শাসনেও পুরোনো কায়দায় জাসদের নেতাকর্মীদের ওপর খুন-গুম-জেল-জুলুম অব্যাহত রাখা হয়, কারাবন্দি সকল জাসদ নেতাকর্মীকে কারাগারেই রাখা হয়।

সাজ্জাদ জানান, ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ক্ষমতালিপ্সু অফিসার খালেদ মোশাররফ কর্তৃক সেনাপ্রধান জিয়াকে অপসারণ ও বন্দি করে নিজেকে সেনাপ্রধান ঘোষণা করেন। ৭ নভেম্বর ঐতিহাসিক সিপাহী জনতার অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। বিশ্বের সকল সামরিক শাসকের মতো জিয়াও রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ন্ত্রণের জন্য ‘রাজনৈতিক দলবিধি’ ১৯৭৬ চালু করেন। জিয়া এই দলবিধির অধীনে জাসদ ও সিপিবিকে বাদ দিয়ে অন্যান্য দলকে রাজনীতি করার অনুমতি দেয়। জাসদ জিয়ার রাজনৈতিক দলবিধিকে তোয়াক্কা না করে গণআন্দোলনের পথে অগ্রসর হয়। গণআন্দোলন জোরদার হবার প্রেক্ষাপটে জাসদ বিপ্লবী গণবাহিনীর কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে স্থগিত করে। জাসদ ১৮ দফা কর্মসূচি প্রণয়ন করে।

‘১৯৭৯ সালে জলিল-রব-ইনুসহ জাসদের শীর্ষ নেতৃত্ব কারাবন্দি রেখেই জিয়া তার সামরিক শাসনকে বৈধতা দেওয়ার জন্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেন। আওয়ামী লীগসহ প্রায় সকল দল সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের পক্ষে অবস্থান নিলে অগত্যা জাসদও ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে অংশ নেয়। এ নির্বাচনে জাসদের ৯ জন প্রার্থী বিজয়ী হন।’

জাসদ জানায়, ‘জিয়ার সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে জাসদ সংসদ ও রাজপথে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তোলে। আওয়ামী লীগ ও সিপিবিসহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের অপরাপর শক্তির সাথে ১০ দলীয় ঐক্য জোট গড়ে তোলে।

১৯৮২ সালে এরশাদের অবৈধ ক্ষমতা দখল ও সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে জাসদ আন্দোলন গড়ে তোলে এবং ১৫ দলীয় জোট গড়ে তোলে। এরশাদ সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলন-কৌশল নিয়ে জাসদের অভ্যন্তরে বিতর্কের এক পর্যায়ে জাসদের প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম সিরাজুল আলম খান, জাসদের সাধারণ সম্পাদক আ স ম আবদুর রব প্রথমে রাজনীতি থেকে অবসর গ্রহণের ঘোষণা দেন কিন্তু পরে ভিন্ন দল গঠন করেন। সভাপতি মেজর এম এ জলিলও জাসদ ত্যাগ করে ভিন্ন দল গঠন করেন। ১৯৮৬ সালে এরশাদ সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলন কৌশল নিয়ে পরবর্তী সময়ে জাসদসহ আন্দোলনকারী শক্তিগুলোর মধ্যে বিভক্তি দেখা দেয়। পরবর্তীতে জাসদের উদ্যোগে ৫ দল, ৭ দল, ৮ দলের লিয়াজোঁ কমিটি গড়ে ওঠে এবং ঐক্যবদ্ধ গণআন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৯০ সালে ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সামরিক শাসনের অবসান ঘটে।

বলা হয়, ১৯৯১-৯৬ সালে বেগম জিয়ার দুঃশাসনের বিরুদ্ধে জাসদ বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট গঠন করে গণআন্দোলন সংগঠিত করে। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনের পর তৎকালীন জাসদ (রব) সংসদে সমর্থন দিয়ে আওয়ামী লীগকে সরকার গঠন করতে সহায়তা করে; পরে ১৯৯৭ সালে জাসদ ও বাসদের বিভিন্ন অংশ একত্রিত হয়ে সরকারে অবস্থানের পাশাপাশি সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে রাজপথে বলিষ্ঠ অবস্থান গ্রহণ করে। ২০০১ সালে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়। ২০০১ সালের পর নির্যাতন-দমনে বিপর্যস্ত আওয়ামী লীগের পাশে জাসদ দাঁড়ায়। জাসদের উদ্যোগী ভূমিকায় ২০০৪ সালে ১৪ দলীয় জোট গড়ে উঠে। ২০০৭ সালে মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দিন সরকার ক্ষমতা দখল করলে জাসদ অবিলম্বে ভোটার তালিকা প্রণয়ন করে নির্বাচন আয়োজন করে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে জাসদ ১৪ দলীয় জোটগতভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে তিনটি আসনে বিজয়ী হয়।

সাজ্জাদ হোসেন আরও উল্লেখ করেন, ২০১২ সালে জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্ত্রিসভায় যোগদানের আমন্ত্রণ জানান। জাসদ দলীয়ভাবে সম্মতি প্রদান করলে শেখ হাসিনা জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রদান করেন। ২০১৩ সালের গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনে যুক্ত হয়। ২০১৪ সালে ১৪ দলগতভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। এ নির্বাচনে জাসদ পাঁচটি আসনে বিজয়ী হয় এবং নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে পুনরায় তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রদান করেন। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাসদ ১৪ দলীয় জোটগতভাবে অংশগ্রহণ করে এবং দুটি আসনে বিজয়ী হয়।

/ইউএস/এমওএফ/
সম্পর্কিত
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ইনুর বিরুদ্ধে রায় যেকোনও দিন
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাহাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের নতুন তারিখ
মানবতাবিরোধী অপরাধমামলার পুনঃতদন্ত চাওয়া ইনুর আবেদন খারিজ
সর্বশেষ খবর
ফোনালাপ ফাঁসের পর বদলি করা হলো জেল সুপারকে
ফোনালাপ ফাঁসের পর বদলি করা হলো জেল সুপারকে
বিশ্বতারকাদের সঙ্গে ফিফা অ্যালবামে সানজয়, নোরা ফাতেহি-ভেজড্রিমের সঙ্গে ‘সির সির’
বিশ্বতারকাদের সঙ্গে ফিফা অ্যালবামে সানজয়, নোরা ফাতেহি-ভেজড্রিমের সঙ্গে ‘সির সির’
সৌদি থেকে ফিরেছেন ২৫৩৭৭ হাজি, মৃত্যু বেড়ে ৪৫
সৌদি থেকে ফিরেছেন ২৫৩৭৭ হাজি, মৃত্যু বেড়ে ৪৫
পশ্চিমবঙ্গে যেকারণে তৃণমূলের ‘অপ্রত্যাশিত রক্ষাকর্তা’ খোদ বিজেপি
কী, কেন, কীভাবেপশ্চিমবঙ্গে যেকারণে তৃণমূলের ‘অপ্রত্যাশিত রক্ষাকর্তা’ খোদ বিজেপি
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম