নির্বাচন নিয়ে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা নির্বাচন নিয়ে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে আছি। নির্বাচন কীভাবে হবে, বিএনপিসহ বিরোধীরা দলগুলো নির্বাচন নিয়ে কি করছে। সব বিষয় বিবেচনা করে আমরা সিদ্ধান্ত নেবো।’
সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করলেও নির্বাচনের প্রস্তুতিও নিচ্ছে দলটি। মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘এরমধ্যে আমার কিছু কাজ এগিয়ে রাখছি, সারা দেশে নেতাদের চিঠি দিয়েছি। যারা নির্বাচন করতে চান, তাদের তথ্য সংগ্রহ করছি। আমরা নির্বাচন করার জন্য নির্বাচনে যাবো না, ভালো ভাবে মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি বিবেচনা করেই প্রার্থী ঠিক করে নির্বাচনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।’
দলটির মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক বিভিন্ন মামলায় কারাগারে আছেন। দীর্ঘ প্রায় ১০ মাস কারাভোগের পর ২০২২ সালের ৩ ফেব্রুয়ারিতে জামিনে মুক্তি পান বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ। পরবর্তী সময়ে ১২ ফেব্রুয়ারি দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে তাকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব পদে দায়িত্ব পান।
মাওলানা মামুনুল হক কারাগারে থাকায় দলীয় কার্যাক্রম স্থবির হয়েছে কিনা জানতে চাইলে জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘নেতা কর্মীদের মধ্যে মনবেদনা আছে, তবে কার্যক্রম বন্ধ নেই। রাজনীতি করলে জেল-জুলুমের মধ্য দিয়েই যেত হয়। মাওলানা মামুনুল হক এর আগেও কারাগারে গিয়েছেন। আমিসহ দলে অন্য নেতাদেরও কারাবরণ করতে হয়েছে বিভিন্ন সময়। ফলে এতে দলীয় কার্যক্রম বন্ধ করা যাবে না। আমরা সাংগঠনিকভাবে তৎপর আছি।’
ইসলামী দলগুলোর নির্বাচনি জোট প্রসঙ্গে মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘ইসলাম আন্দোলন জোট করতে চেষ্টা করেছিল কয়েক মাস আগে, আমাদের সাথে আলাপ হয়েছিল। তবে ফোনে ফোনে আলাপ হলেও সরাসরি কোন বৈঠক হয়নি।’
আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কোন প্রস্তাব আছে কিনা জানতে চাইলে জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের কাছে নির্বাচন নিয়ে কোনও চাপ নেই, কোনও অফারও নেই। আমাদের দলীয় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।’
প্রতি নির্বাচনের আগে আগে ইসলামী দলগুলোর জোট নিয়ে আলোচনা হলেও আলোর মুখে দেখে না কেন জানতে চাইলে জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘এখানে যারা জোট করতে উদ্যোগ নেন, তারা যদি অন্য কোনও দলের এজেন্ডা নিয়ে আসেন, তখন জোট সহজ হয় না। কেউ যদি মনে প্রাণে ইসলামি দলগুলোর জোটের চিন্তা করেন, কেউ যদি ইসলামি শক্তিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চিন্তা করেন; তাহলেই জোট সহজ হবে। কিন্তু কোনও দলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চাইলে জোট করা সহজ হবে না, এ কারণে জোটও হয়নি অতীতে।’









