‘লোকসানের’ অজুহাতে ৪৪টি রাষ্ট্রীয় শিল্প লুটেরা ব্যবসায়ীদের কাছে ইজারা দেওয়ার ষড়যন্ত্র প্রতিহতের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের (জামুকা) নেতারা।মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ৪৪টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ব্যক্তিমালিকদের কাছে ইজারা দেওয়া বা বিক্রির নীতিমালা নির্ধারণে আমলা ও কতিপয় ব্যবসায়ীকে নিয়ে সরকারের সভা করার প্রতিবাদে বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ সমাবেশে এ হুঁশিয়ারি দেন তারা।
জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী ফয়জুল হাকিমের সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন হেমন্ত দাশ, দীপা মল্লিক ও সাইফুর রুদ্র।
সভাপতির বক্তব্যে ফয়জুল হাকিম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান জনগণের ঘাড়ের ওপর চেপে থাকা ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারকে উচ্ছেদ করলেও দেশকে লুণ্ঠনজীবী ব্যবসায়ী শ্রেণির শাসন-শোষণ থেকে মুক্ত করতে পারেনি।
তিনি বলেন, সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের বাজারি শোষণে জনজীবন আজ বিপর্যস্ত। উপযুক্ত কাজের অভাবে ছাত্র, তরুণ ও যুবকদের জীবন সংকটময়। তাই দেশে শিল্প ও কৃষির বিকাশের মাধ্যমে কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা এখন সময়ের দাবি। এ জন্য রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে ভারী শিল্প ও শিল্পের জাতীয় ভিত্তি গড়ে তুলতে হবে।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ না নিয়ে সরকার ৪৪টি রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প বা প্রতিষ্ঠান ব্যক্তিগত মালিকানায় লিজ দেওয়া বা বিক্রির নীতি খুঁজে বেড়াচ্ছে। চিনিকল, পাটকলসহ জনগণের মালিকানাধীন ৪৪টি শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সরকারি উদ্যোগে পরিচালনা না করে লুটেরা ধনিক ব্যবসায়ীদের হাতে তুলে দিতে চাচ্ছে। কিন্তু কেন, কাদের স্বার্থে এগুলো তুলে দেওয়া হবে? সরকার ব্যবসায়ীদের খেদমত করতেই এসব করছে। বিএনপি সরকারের এই গণবিরোধী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে শ্রমিক, কৃষক, ছাত্র ও জনতাকে এগিয়ে আসতে হবে।
হেমন্ত দাশ দেশের শিল্প ও কৃষি বিকাশের পথে বাধা হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ড. মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের আমলে সম্পাদিত পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানিয়ে বলেন, ‘মার্কিনের নির্দেশে বাংলাদেশ চলবে না।’
দীপা মল্লিক বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার করোনাকালে ২০২০ সালে ২৫টি পাটকল ও ছয়টি চিনিকল বন্ধ করেছিল। এতে লাখ লাখ শ্রমিক কাজ হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েছিলেন।
তিনি অভিযোগ করেন, লোকসানের অজুহাতে পাটকল, চিনিকল ও বস্ত্রকল বিক্রি বা ইজারা দেওয়ার আগে কোনও সরকারই লোকসানের প্রকৃত কারণ তদন্তে কমিশন গঠন করেনি। রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প রুগ্ন হওয়ার প্রধান কারণ দুর্নীতি, শিল্প আধুনিকায়ন না করা এবং শিল্প বিকাশে পুঁজি বিনিয়োগ না করা হলেও অতীতে কোনও সরকারই এসব সমস্যার সমাধান করেনি।
সাইফুর রুদ্র বলেন, গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের নামে এশিয়ার বৃহত্তম পাটকল আদমজী জুট মিল ২০০২ সালে বন্ধ করেছিল খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন তৎকালীন বিএনপি সরকার। সে সময় বিরোধী দল আওয়ামী লীগও এ সিদ্ধান্তে বিএনপি সরকারকে সমর্থন জানিয়েছিল। একইভাবে বর্তমানে ৪৪টি রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প ব্যক্তিগত মালিকানায় ইজারা দেওয়া বা বিক্রি করতে বিএনপি সরকারের উদ্যোগে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি নীরবতার মাধ্যমে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়টি শ্রমিক-কৃষকদের লক্ষ্য রাখতে হবে।








