বেসরকারি শিল্প-কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবি অবিলম্বে মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন (টাফ)।
রবিবার (১ নভেম্বর) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো যৌথ বিবৃতিতে এ কথা বলেছেন ফেডারেশনের সভাপতি ফয়জুল হাকিম ও সাধারণ সম্পাদক আমির আব্বাস।
নেতারা বলেন, চলমান গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি, বাসা ভাড়া বৃদ্ধি, যাতায়াত ভাড়া, চিকিৎসা ব্যয় বৃদ্ধি ও সন্তানদের শিক্ষা ব্যয় বৃদ্ধিসহ জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে গার্মেন্টস শ্রমিকসহ শ্রমজীবীদের জীবনে নাভিশ্বাস নেমে এসেছে।
তারা বলেন, মূল্যস্ফীতির কারণে ইতিমধ্যেই শ্রমিকদের প্রকৃত মজুরি হ্রাস পেয়ে ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে। অথচ সরকার ও মালিকপক্ষ এ সম্পর্কে অবহিত থাকলেও তা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ না নিয়ে সময়ক্ষেপণ করেছে। এরই মধ্যে গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণের জন্য মজুরি বোর্ড গঠন করলেও মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে রাজপথে বিক্ষোভরত শ্রমিকদের ওপর সরকারের পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ, লাঠিচার্জ ও গ্রেফতার করেছে। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই ও অবিলম্বে গ্রেফতারদের নিঃশর্ত মুক্তি ও মিথ্যা মামলা বাতিলের দাবি জানাই।
বিবৃতিতে নেতারা বলেন, গার্মেন্টস শিল্পে কর্মরত প্রত্যেক শ্রমিককে নিয়োগপত্র দেওয়া, ওভার টাইম করতে বাধ্য না করা ও দৈনিক ৮ ঘণ্টা কর্মদিবস কার্যকর করা এবং মনুষ্যোচিত মজুরি প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে। শিল্প কল-কারখানায় উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করতে শ্রমিকদের অবাধে ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার দিতে হবে। কথায় কথায় শ্রমিক ছাঁটাই ও অযৌক্তিক ব্ল্যাকলিস্টিং করা থেকে কর্তৃপক্ষকে বিরত থাকতে হবে। সাপ্তাহিক ছুটি বাস্তবিকভাবে কার্যকর করতে হবে।
বিবৃতিতে গার্মেন্টস শ্রমিকদের চলমান ন্যায় সঙ্গত আন্দোলনের পাশে অপরাপর পেশার শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, বাংলাদেশে চরম মজুরি শোষণের অবসান ঘটাতে হবে। মজুরি দাসত্বের শৃঙ্খল থেকে শ্রমজীবী জনগণকে মুক্ত করার সংগ্রাম জোরদার করতে হবে।