কোভিড-১৯: বিকাশ অ্যাকাউন্টে রেমিটেন্স আসার পরিমাণ বেড়েছে

Send
বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক
প্রকাশিত : ২২:২৬, এপ্রিল ২১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:২৬, এপ্রিল ২১, ২০২০

করোনাভাইরাস মহামারিতে বিকাশ অ্যাকাউন্টে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে রেমিটেন্স আসার পরিমাণ অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে দেশের ছয়টি বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে রেমিটেন্স গ্রহণের সেবা দিয়ে যাচ্ছে বিকাশ।
পৃথিবীব্যাপী কোভিড-১৯ রোগের বিস্তার প্রতিরোধে ‘লকডাউন’ পরিস্থিতিতে প্রবাসী ও দেশে অবস্থানকারী স্বজন সবাই নিজের ও অন্যের সুরক্ষায় ঘরে থাকছেন। তাই স্বজনদের কাছে রেমিটেন্স পাঠাতে অনলাইন-টু-ওয়ালেট সেবার ওপর ভরসা রাখছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। অর্থ প্রেরণকারী নিজের মোবাইল থেকে অনলাইন অথবা ওয়ালেট ভিত্তিক মানি ট্রান্সফার সেবায় নির্ধারিত ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে স্বজনের বিকাশ অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাচ্ছেন।
সূত্রে জানা যায়, এ বছরের জানুয়ারি থেকে গত ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত বিকাশে প্রায় ১৩৮ কোটি টাকা রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অনলাইন ও ওয়ালেট ভিত্তিক মানি ট্রান্সফার প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে এ বছরের প্রথম তিন মাসের তুলনায় এপ্রিলে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।
বিকাশে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও যুক্তরাজ্য থেকে সবচেয়ে বেশি রেমিটেন্স আসে। ভ্যালইউ, হানপাস, জিমানি’র মতো ওয়ালেট ভিত্তিক সেবা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিকাশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব রয়েছে। ফলে করোনার সময়ে প্রবাসীরা তাদের মোবাইল ওয়ালেট থেকে কয়েক মুহূর্তেই দেশে স্বজনদের বিকাশ অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতে পারছেন।
ওয়ার্ল্ড রেমিট, ট্রান্সফারওয়াইজ, রিয়া, গালফ এক্সচেঞ্জ, বাহরাইন ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিএফসি), ব্র্যাক সাজন, সিবিএল মানি ট্রান্সফার, অগ্রণী এক্সচেঞ্জ, এনবিএল এক্সচেঞ্জসহ বিশ্বের শীর্ষ ৩৪টি মানি ট্রান্সফার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিকাশের অংশীদারিত্বের সুবাদে ৮০টির বেশি দেশ থেকে বাংলাদেশে অর্থ পাঠানোর পথ উন্মুক্ত রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানি ট্রান্সফার প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ড রেমিট ও ট্রান্সফারওয়াইজের মাধ্যমে যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্রসহ পুরো ইউরোপ থেকে বিকাশে টাকা পাঠানোর সেবা গ্রহণের মাত্রা আগের চেয়ে বেড়েছে।
অন্যদিকে দেশে প্রবাসীদের স্বজনরা ব্যাংকে না গিয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে রেমিটেন্সের অর্থ প্রয়োজন অনুযায়ী ক্যাশআউট ও সেন্ড মানি করা, পেমেন্ট ও বিল দেওয়া, মোবাইল রিচার্জ করাসহ অনেক প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারছেন।

এদিকে প্রেরিত অর্থের ওপর সরকার ঘোষিত ২ শতাংশ আর্থিক প্রণোদনা চলমান কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে প্রবাসীদের মোবাইল ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিটেন্স পাঠানোতে আরও বেশি উদ্বুদ্ধ করছে।

এছাড়া যেসব প্রবাসী বিকাশের মাধ্যমে রেমিটেন্স পাঠাচ্ছেন তাদের জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবার উদ্যোগ নিয়েছে বিকাশ ও ডিজিটাল হেলথকেয়ার। প্রবাসীর পরিবারের সদস্যরা ঘরে থেকেই জরুরি প্রয়োজনে তিন মাসে ৯০ মিনিট পর্যন্ত ফোনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সেবা নিতে পারবেন। যাদের হাসপাতালে ভর্তি হতেই হবে তারা পরবর্তী সময়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর সর্বোচ্চ ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত নগদ সহায়তা পাবেন।

কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগী যারা বাড়িতে অবস্থান করে সেবা নিচ্ছেন তারা ২ হাজার টাকা প্যাকেজের আওতায় সহায়তা চাইতে পারবেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে মৃত্যু হলে অ্যাকাউন্টধারী ব্যক্তির মনোনীতকে ১০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।

প্রবাসীদের স্বজনদের নিরাপদ রাখতে বিকাশ অ্যাকাউন্টে যেসব গ্রাহক রেমিটেন্স পান তাদের কাছ থেকে আইভিআর কলের মাধ্যমে এই ইন্স্যুরেন্স সেবা গ্রহণের সম্মতি নিয়ে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সেবাগুলো দেওয়া হচ্ছে। গ্রাহক সম্মতি দিয়ে নিবন্ধনের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেবা নিতে পারবেন।

/জেএইচ/
টপ