করোনা মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর পাশে ‘নগদ’ পরিবার

Send
বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক
প্রকাশিত : ০০:৪৩, মে ১২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০১:০০, মে ১২, ২০২০

গণভবনে নগদ-এর প্রতিনিধিরাপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে ৬০ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের আর্থিক লেনদেন সেবা ‘নগদ’ এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ। গত ১০ মে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুদানের চেক গ্রহণ করেন তার মুখ্যসচিব আহমদ কায়কাউস। এ সময় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত ছিলেন শেখ হাসিনা।

অনুদান প্রসঙ্গে ‘নগদ’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর এ মিশুক বলেন, ‘করোনাভাইরাস মহামারিতে দেশের সব মানুষের সেবা নিশ্চিত করার জন্য ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের নেতৃত্বে ‘নগদ’ এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের এই ক্ষুদ্র অনুদান গ্রহণ করায় আমরা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশের বিজয় নিশ্চিত করতে যেকোনও প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা পালন করতে আমরা সবসময় প্রস্তুত আছি। আমাদের সব কর্মী করোনার বিরুদ্ধে একসঙ্গে লড়ছে। নগদ শুরু থেকেই করোনা মোকাবিলায় দেশের প্রান্তিক মানুষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।’

করোনার বিস্তার ঠেকাতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণার প্রথম দিন থেকে করোনা মোকাবিলায় সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে রাষ্ট্রীয় সেবা ‘নগদ’। রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবা হিসেবে ‘নগদ’ একদিনের জন্যও কার্যক্রম বন্ধ রাখেনি। এছাড়া প্রত্যেক কর্মীর ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) নিশ্চিত করেছে এবং সব উদ্যোক্তা, ডিস্ট্রিবিউটর, বিক্রয়কর্মীসহ প্রায় ২ লাখ সদস্যের চিকিৎসার জন্য ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তার দায়িত্ব নিয়েছে।

করোনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে স্বল্প আয়ের ৫০ লাখ পরিবারকে ২৫০০ টাকা করে সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগের সহায়ক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ১৭ লাখ পরিবারের কাছে টাকা পৌঁছে দেবে ‘নগদ’। এর মাধ্যমে সরকারের ৪২৫ কোটি টাকা উপকারভোগীদের কাছে মুহূর্তে পৌঁছে দেবে রাষ্ট্রীয় সেবা সংস্থাটি। টাকা উত্তোলনে কোনও খরচ করতে হবে না কাউকে।

‘স্বাধীন মার্চেন্ট’ উদ্যোগের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের লেনদেন খরচ প্রতি হাজারে মাত্র ৬ টাকায় নামিয়ে এনেছে ‘নগদ’, যা বাংলাদেশের মোবাইল ব্যাংকিং ইতিহাসে সর্বনিম্ন রেট। বর্তমানে একই সেবার জন্য অন্যান্য অপারেটরে প্রতি হাজারে খরচ হয় ২০ টাকা।

জমি থেকে কৃষকের ফসল সরাসরি ক্রেতার কাছে পৌঁছে দিতে ডাক বিভাগের সহযোগিতায় ‘কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে’ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর আওতায় কৃষক বিনা খরচে ডাক বিভাগের গাড়িতে পণ্য শহরে পাঠাতে পারবেন এবং ‘নগদ’-এর ‘স্বাধীন মার্চেন্ট’-এর মাধ্যমে পণ্যের মূল্য গ্রহণ করতে পারবেন। ‘নগদ’ দেশের সব স্বনামধন্য ই-কমার্স ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রেতাদের একটি প্ল্যাটফর্মে এনে কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করছে।

কৃষকদের সহায়তায় গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির (জিডিআইসি) সঙ্গে ‘নগদ’ যৌথভাবে ‘আমরা করবো জয়’ নামের একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে। এর মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ করে সেই টাকা ঈদুল ফিতরের আগে অসহায় কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

‘নগদ’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, “কোভিড-১৯ রোগের প্রাদুর্ভাবে বাংলাদেশ এখন মহাসংকটে। তাই নগদ মনে করে, এখনই একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর সময়। মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সব উদ্যোগে ‘নগদ’ সবসময় পাশে থাকবে, কারণ ‘নগদ’ বিশ্বাস করে, মানুষ বাঁচলে দেশ বাঁচবে।”

/জেএইচ/
টপ