ডলবি’র স্বীকৃতি পেলো ওয়ালটন

Send
বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক
প্রকাশিত : ০০:৫২, জুন ১৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০১:০১, জুন ১৫, ২০২০

ডলবি’র জ্যেষ্ঠ পরিচালক ভিভিয়ান ই ভাসাল্লো ও ওয়ালটন টেলিভিশনের সিইও প্রকৌশলী মোস্তফা নাহিদ হোসেনসহ অন্যরাডলবি’র ‘লাইসেন্সড ম্যানুফ্যাকচারার’ হিসেবে স্বীকৃতি পেলো দেশের শীর্ষস্থানীয় ইলেক্ট্রনিক্স ও প্রযুক্তিপণ্য প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন। প্রথমবারের মতো বাংলাদেশি টিভি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে এই গৌরব অর্জন করলো ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। এর ফলে ওয়ালটন এখন বাংলাদেশে ডলবি’র অফিসিয়াল সাউন্ড কোয়ালিটির টিভি তৈরিতে অংশীদার হলো। এতে বাংলাদেশে তৈরি বিশ্বমানের ওয়ালটন টেলিভিশন বহির্বিশ্বে আরও বেশি গ্রহণযোগ্যতা পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আমেরিকার বিশ্বখ্যাত কোম্পানি ডলবি ল্যাবরেটরিস শব্দ বা অডিওর বিভিন্ন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করে। ডলবি প্রযুক্তির বিশেষত্ব হচ্ছে অডিওর নয়েজ কমানো ও গুণগতমান বাড়ানো। সাউন্ড সিস্টেমের জগতে সারাবিশ্বে ডলবি অপ্রতিদ্বন্দ্বী। শুধু লাইসেন্সধারী উৎপাদনকারীরা তাদের প্রযুক্তি ব্যবহারের অনুমতি পায়।

জানা গেছে, গত জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোতে ডলবি’র প্রধান কার্যালয়ে প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন ওয়ালটন টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) প্রকৌশলী মোস্তফা নাহিদ হোসেন। বৈঠকে অন্যদের মধ্যে ছিলেন ডলবি ল্যাবরেটরিসের জ্যেষ্ঠ পরিচালক ভিভিয়ান ই ভাসাল্লো। ইতোমধ্যেই ডলবি তার নিজস্ব ওয়েবসাইটে (https://bit.ly/2zuVlSu) ‘লাইসেন্সড ডলবি ম্যানুফ্যাকচারার’ তালিকায় ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছে।

এ প্রসঙ্গে ওয়ালটন টেলিভিশনের সিইও বলেন, “ডলবি হলো শব্দ বা অডিও’র সর্বাধুনিক প্রযুক্তি। কোনও প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেওয়া এবং অংশীদার করে নেওয়ার ক্ষেত্রে ডলবি বেশকিছু বিষয় বিবেচনা করে। এর মধ্যে রয়েছে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সমৃদ্ধ সুসজ্জিত গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি) কেন্দ্র, আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী টিভি উৎপাদন, রফতানি বাজারে চাহিদা, স্থানীয় বাজারে উল্লেখযোগ্য মার্কেট শেয়ার ইত্যাদি। যেসব টিভি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এসব শর্ত পূরণ করতে সমর্থ হয়, তাদেরকেই ডলবি ‘লাইসেন্সড ম্যানুফ্যাকচারার’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে।”

টেলিভিশন উৎপাদনে ওয়ালটনের রয়েছে নিজস্ব গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি) কেন্দ্র। এতে একঝাঁক দক্ষ ও মেধাবী প্রকৌশলী প্রতিনিয়ত টিভির সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও ফিচার নিয়ে কাজ করছেন। গাজীপুরের চন্দ্রায় ওয়ালটনের নিজস্ব কারখানায় টিভির মাদারবোর্ডের হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার তৈরি হচ্ছে। ওয়ালটন টিভি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী। আন্তর্জাতিক মানের ওয়ালটন টিভি রফতানি হচ্ছে জার্মানিসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। এসব কিছু বিবেচনায় নিয়ে ওয়ালটনকে সনদ দিয়েছে ডলবি। বাংলাদেশে ওয়ালটনই ডলবি’র লাইসেন্স পাওয়া প্রথম ও একমাত্র প্রতিষ্ঠান।

ওয়ালটন টিভির কেন্দ্রীয় ল্যাব ম্যানেজার প্রকৌশলী রকিবুল হাসান জানান, ডলবি’র কাছ থেকে অ্যাটমসসহ এমএস১২ প্যাকেজ এবং ডলবিএসি-৪ কনজ্যুমার ডিকোর্ডার ব্যবহারের অনুমতি পেয়েছে ওয়ালটন। ফলে ডলবি ডিজিটাল, ডলবি ডিজিটাল প্লাস, ডলবি অ্যাটমসসহ ডলবি’র সব প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারবে ওয়ালটন।

ডলবি’র প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে উচ্চ মানের শব্দ উৎপন্ন করতে কম সময় ও ডেটা লাগবে। টিভির শব্দ হবে আরও জীবন্ত ও প্রান্তবন্ত। ব্লু-রে ডিস্ক ও অনলাইন স্ট্রিমিং সাইট যেমন নেটফ্লিক্স, ভিউডু, অ্যামাজন ফায়ার টিভি থেকে ভিডিও দেখার সময় এইচডি সাউন্ড কোয়ালিটি পাবেন দর্শক। অডিওর সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ডলবি অ্যাটমস ব্যবহারে শব্দের ক্রিমাত্রিক (থ্রিডি) অনুভূতি মিলবে।

ওয়ালটন টিভি গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগের প্রকৌশলীরা জানান, টিভির মানোন্নয়নের পাশাপাশি তারা যুক্ত করছেন লেটেস্ট প্রযুক্তি ও ফিচার। ইতোমধ্যে ওয়ালটন টিভিতে যুক্ত হয়েছে দ্রুতগতি সম্পন্ন গ্রাহকবান্ধব নিজস্ব উদ্ভাবিত আরওএস বা রেজভি অপারেটিং সিস্টেম। এছাড়া স্থানীয় গ্রাহকদের জন্য ওয়ালটনই প্রথম বাংলা ভয়েস সার্চ অপশন যুক্ত স্মার্ট টিভি বাজারে ছেড়েছে।

বর্তমানে বাজারে আছে ৬১০ মিলিমিটার থেকে ১.৩৯৭ মিটারের ২৪ মডেলের টিভি। এর মধ্যে রয়েছে ফোর-কে, ফুল এইচডি, এইচডি রেজোল্যুশনের স্মার্ট ও নন-স্মার্ট এলইডি টিভি। দাম ১০ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ৯৯ হাজার ৯০০ টাকার মধ্যে।

এদিকে ‘ঈদ সুপার সেভার ডিল’ অফারের আওতায় যেকোনও মডেলের ওয়ালটন টেলিভিশন কিনে ডিজিটাল নিবন্ধন করলেই মিলছে ১০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত নিশ্চিত মূল্যছাড়। এছাড়া টিভি এক্সচেঞ্জ মেলা’র আওতায় পুরনো যেকোনও ব্র্র্যান্ডের সচল বা অচল সিআরটি, এলসিডি কিংবা এলইডি টিভি বদলে আকর্ষণীয় ছাড়ে ওয়ালটনের নতুন এলইডি, স্মার্ট এলইডি ও স্মার্ট ভয়েস কন্ট্রোল টিভি কেনার সুযোগ রয়েছে।

ছয় মাসের রিপ্লেসমেন্টসহ ৮১৩ মিলিমিটার বা তদুর্ধ্ব সাইজের এলইডি ও স্মার্ট টিভির প্যানেলে চার বছর পর্যন্ত গ্যারান্টি দিচ্ছে ওয়ালটন। একইসঙ্গে দেশজুড়ে ৭৪টি সার্ভিস সেন্টারের মাধ্যমে দ্রুত ও সর্বোত্তম বিক্রয়োত্তর সেবা দেওয়া হচ্ছে।

 

/জেএইচ/
টপ