বার্সেলোনার নানা সিদ্ধান্তে ত্যক্ত-বিরক্ত ছিলেন মেসি। এতদিন নানা জল্পনা-কল্পনা হলেও অবশেষে বার্সা ছাড়ার সিদ্ধান্ত ক্লাবটিকে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। এর ফলে বার্সার সঙ্গে ২০ বছরের মধুর সম্পর্কটা এক লহমাতেই শেষ হয়ে গেলো। এমন খবরের পর থেকেই দৃশ্যপটে এখন ম্যানচেস্টার সিটি। দল-বদলের জন্য ক্লাবটির সঙ্গে নাকি এরই মধ্যে যোগাযোগ করেছেন মেসি- এমনই খবর ইএসপিএনের। তাদের খবরে বলা হয়েছে, সাবেক কোচ পেপ গার্দিওলার সঙ্গে দল-বদলের ব্যাপারে আলোচনা করেছেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড।
এর আগেও শোনা গিয়েছিল, মেসিকে নিতে টাকা ঢালতে প্রস্তুত আছে ম্যানসিটি। সেটি অবশ্য তারা করতে চায় ফিনান্সিয়াল ফেয়ার প্লে আইনের ব্যত্যয় না ঘটিয়েই। তবে সিটি এটা ভালো করেই জানে, মেসিকে আনার ব্যাপারে যে কোনও ধরনের চুক্তি জটিলতর হবে। তার ওপর বার্সার সঙ্গে মেসির চুক্তিটা ২০২১ সাল পর্যন্ত। সেই চুক্তিতে একটি ধারায় বলা আছে, তিনি চাইলে ফ্রিতে যেতে পারবেন। আর সেটি সম্ভব হবে প্রতি বছর মৌসুম শেষ হওয়ার পরই। সেক্ষেত্রে বার্সাকে বিষয়টি জানাতে হবে জুন মাসে। সেই জুন পার হওয়ায় একটি ঝামেলা তৈরি হয়েছে ঠিকই। তবে মেসির আইনজীবী বলেছেন, করোনা কালে মৌসুম যেহেতু দীর্ঘ হয়েছে, তাই এই বিষয়টির আর বৈধতা নেই।
আরেকটি বিষয়ও এখানে উল্লেখযোগ্য। সর্বশেষ বার্সা বলেছিল, মেসি বিক্রির জন্য নয়। কেউ যদি তাকে কিনতেই চায় সেক্ষেত্রে মেসির বাই আউট ক্লজের ৭০০ মিলিয়ন ইউরো পরিশোধ করতে হবে। তবে ম্যানসিটি এক্ষেত্রে বার্সার কাছ থেকে যুক্তিসঙ্গত একটা মূল্যই আশা করছে। যে কারণে সিটি আপাতত খরচের বিষয় নিয়েই মাথা ঘামাচ্ছে। তবে ভুলে গেলে চলবে না অর্থের প্রয়োজন আছে বার্সেলোনারও। কয়েক সপ্তাহ আগেই যেমন খবর প্রকাশ পেয়েছিল, মেসি যদি চলে যাওয়ার কথা বলেই ফেলে, তাহলে তাকে বিক্রির পক্ষে রয়েছেন অনেক বোর্ড সদস্যই। যে অর্থটা তারা ব্যবহার করতে চান বার্সেলোনার পুনর্গঠনে। আর চূড়ান্ত সেই সিদ্ধান্তটা মেসি নিয়েও ফেলেছেন।
এর পর থেকেই সিটির নামটি খুব চর্চিত হচ্ছে। যার পেছনে রয়েছে বেশ কিছু কারণ। মেসিকে নেওয়ার মতো আর্থিক সামর্থ্য আছে প্রিমিয়ার লিগ ক্লাবটির। তার ওপর মেসি বার্সায় ক্যারিয়ারের সেরা মুহূর্তটা কাটিয়েছেন পেপ গার্দিওলার অধীনেই। এজন্যই ইতিহাদ স্টেডিয়ামে সাবেক কোচ পেপ গার্দিওলার ছায়াতলে আবার তার প্রিয় ছাত্রের উপস্থিতির সম্ভাবনাটা জোরালো হয়ে উঠছে।







