প্রিমিয়ার লিগে সুপার সিক্সের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের বিপক্ষে জয়ের বিকল্প ছিল না আবাহনীর সামনে। তবে জয়ের পথে কিছুটা শঙ্কা জমেছিল আবাহনী শিবিরে। কেননা ম্যাচটি জমিয়ে তুলেছিলেন শামসুর রহমান শুভ (১৩৬)। তার অবদানের পরও সবকিছু ছাপিয়ে ম্যাচের নায়ক ছিলেন তাসকিন আহমেদ। তার বোলিং দৃঢ়তায় টানা তিন ম্যাচ পর জয়ের দেখা পেলো ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি। এদিন তারা ৩২ রানে হারায় গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সকে। জয়ের ফলে আট ম্যাচে আবাহনীর পয়েন্ট সংখ্যা দাঁড়ালো আট।
মঙ্গলবার আবাহনীর করা ২৭৭ রানের জবাবে বুধবার ব্যাটিংয়ে নামে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স। বৃষ্টির কারণে মঙ্গলবার আবাহনীর ইনিংসের পর একটি বলও মাঠে গড়ায়নি। তাইতো ম্যাচটি রিজার্ভ ডে-তে গড়ায়।
দিনের শুরু থেকে একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে গাজী গ্রুপ। রানের খাতা না খোলার আগেই ফিরে যান ওপেনার এনামুল হক বিজয়। বুধবার গাজী গ্রুপের ভরসার প্রতীক হয়ে উঠেন শামসুর রহমান শুভ। তার ১৩৬ রানের পরও হারতে হয়েছে দলটিকে!
শেষ ১০ ওভারে গাজী গ্রুপের জয়ের জন্য প্রয়োজন ৭৫ রান। তখনও ক্রিজে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠা শামসুর রহমান ১৩৩ রান নিয়ে ব্যাটিং করছিলেন। কিন্তু ৪১তম ওভারে তাসকিন যখন তার দ্বিতীয় স্পেল করতে আসলেন; তখনই পাল্টে গেলো দৃশ্যপট। ১৩০ বলে ১৩ চার ও ৩ ছয়ে ১৩৬ রানের ইনিংস খেলে তাসকিনের এলবিডব্লিউর শিকারে পরিণত হন তিনি।
গাজী গ্রুপের ইনিংসে উল্লেখ করার মতো ব্যাটিং করেছেন ফারুক হোসেন (২৯)। তার যোগ্য সঙ্গে শামসুর ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরির দেখা পান। সেই সঙ্গে হারের ব্যবধান কমাতে সক্ষম হন। যদিও শেষ উইকেটে আশিকুজ্জামান (১০) ও মোহাম্মদ শরিফ (২৫) শেষ চেষ্টা করেছিলেন। তারা দুইজন মিলে ৩৩ রানের জুটি গড়েন। শেষ পর্যন্ত ৪৮.১ ওভারে ২৪৪ রানে থেমে যায় গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের ইনিংস।
আবাহনীর বোলারদের মধ্যে তাসকিন আহমেদ সর্বোচ্চ ৪টি উইকেট নিয়েছেন। এছাড়া এছাড়া আবুল হাসান রাজু ও রজত ভাটিয়া প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন।
এর আগে মঙ্গলবার সাভারের বিকেএসপিতে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামে আবাহনী। দলীয় ১৫ রানে অভিষেক মিত্রর বিদায়ের পর দলের হাল ধরেন তামিম ইকবাল ও লিটন দাস। এ দুই ব্যাটসম্যানের ৯২ রানের জুটির পর পঞ্চম উইকেট জুটিতে শতরানের জুটি করেন ভারতীয় ব্যাটসম্যান রজত ভাটিয়া ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। ৮৮ বলে ৯টি চার ও ২টি ছক্কায় দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৯০ রান করেন ভাটিয়া। এছাড়া তামিম ইকবাল ৫৫ ও সৈকত ৪৭ রান করেন। শেষ পর্যন্ত দলটি ৬ উইকেট হারিয়ে ২৭৬ রান সংগ্রহ করে।
গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের অধিনায়ক তার ৯ বোলারকে ব্যবহার করেন। দলের পক্ষে মেহেদী হাসান ৩২ রানে সর্বোচ্চ ২টি উইকেট নেন।
/আরআই/এফআইআর/







