ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একাদশে ফিরেই নিজের কারিশমা দেখালেন ইমরুল কায়েস। শুক্রবার শুরু থেকেই বিস্ফোরক ব্যাটিং করছেন তিনি। যার আভ্যাস অবশ্য দিয়ে রেখেছিলেন ইংলিশদের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে। ফতুল্লায় ১২১ রানের বিধ্বংসী এক ইনিংস খেলে নিজের প্রস্তুতিটা ভালোভাবেই করে রেখেছিলেন ইমরুল। অপেক্ষায় ছিলেন ইংলিশদের বিপক্ষে মাঠে নামার।
এদিন ৫৫ বলে ক্যারিয়ারের ১৩তম হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেছেন। হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করতে তার বাউন্ডারি ছিল ৭টি এবং ওভার বাউন্ডারি ছিল ২টি। জেক বলের ওভারের পঞ্চম বলটি ছিল ফ্রি হিট। ওই বলটি এগিয়ে এসে খেলতে গিয়ে ব্যাটে-বলে ভালো সংযোগ ঘটাতে পারেননি ইমরুল। আর তাতেই উইকেট কিপার বাটলারের মাথার উপর দিয়ে সীমান পাড় হলে ইমরুলের ১৩তম হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ হয়। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২০১১ বিশ্বকাপে জয়ের নায়ক ছিলেন এই ইমরুলই।
শুক্রবার সুযোগ পেয়ে জবাবটা খুব ভালোভাবেই দিচ্ছিলেন। সর্বশেষ জিম্বাবুয়ে সিরিজে ব্যাক টু ব্যাক হাফসেঞ্চুরি করা ইমরুল আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ৩৭ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। তারপরও দ্বিতীয় ও তৃতীয় ম্যাচে ডাগআউটে বসে থাকতে হয়েছে অভিজ্ঞ এই ওপেনারকে। কারণ তিনি ‘স্লো’ খেলেন। অথচ এই ইমরুলই বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) তৃতীয় আসরে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের হয়ে ৩১২ রান তুলেছিলেন। যা গত আসরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহ।
এদিন সৌম্যকে বসিয়ে একাদশে সুযোগ দেওয়া হয় ইমরুলকে। ফর্মহীনতায় ভোগা সৌম্যকে সরিয়ে ইমরুলের অন্তর্ভুক্তি যে ভুল ছিল না। সে বিষয়টি ইনিংসের শুরু থেকেই বুঝিয়ে দেন তিনি। তামিম যখন থিতু হতে ব্যস্ত, ইমরুল তখন ব্যস্ত স্কোর বোর্ডে রান তোলার চেষ্টায়। স্কোর বোর্ডে দ্রুত রান তোলার কাজটা শুরু করেন ইমরুল। ইনিংসে দ্বিতীয় বলে ক্রিস ওয়কসের বলে স্কয়ার লেগের উপর দিয়ে বিশাল এক ছক্কা মারেন। বলটি কিছুক্ষণের জন্য আটকে ছিল স্টেডিয়ামের দ্বিতীয় তলাতে!
ওয়ানডে ক্রিকেটে ইমরুলের একটি সেঞ্চুরিও রয়েছে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২০১০ সালে তার ব্যাট থেকে এসেছিল ক্যারিয়ার সেরা ১০১ রানের ইনিংস।
ইমরুলের ব্যাটিং বদলে দেওয়ার পেছনের কারিগত মূলত দুইজন। মাশরাফি ও হাথুরুসিংহে। সুযোগ পেলেই মাশরাফির কাছ থেকে অনুপ্রেরণার গল্প শোনেন ইমরুল। অন্যদিকে তার ব্যাটিং করার পরিকল্পনার ধরনটাই পরিবর্তন করে দিয়েছেন হাথুরুসিংহে।
/আরআই/এফআইআর/








