‘সৌম্য গত দেড় বছর তেমন রান করতে পারে নি। কোনও ফরম্যাটেই রান পায় নি তেমন। কিন্তু একটা ইনিংসই তাকে বদলে দেবে। হয়তো নিউজিল্যান্ড সিরিজেই ফর্মে ফিরবে সৌম্য’-কথাগুলো মাশরাফি বিন মুর্তজার। গত বছর বিপিএলে ব্যর্থ হওয়ার পর সৌম্য সরকারকে নিয়ে মাশরাফির বিশ্লেষণ ছিল এমন। বাংলাদেশের সফলতম অধিনায়কের ভবিষ্যদ্বাণী ভুল হয় নি। নিউজিল্যান্ড সফর থেকে সৌম্যর ঘুরে দাঁড়ানোর সূচনা।
২০১৪ সালের ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর আক্রমণাত্মক ব্যাটিং দিয়ে বাংলাদেশের মানুষের মন জয় করে নিয়েছিলেন সৌম্য। বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৪০ ও ৫১ রানের দুটো ভালো ইনিংস খেলা এই বাঁহাতির ব্যাট জ্বলে উঠেছিল বিশ্বকাপের ঠিক পরে টানা তিন সিরিজে। ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ ওয়ানডেতে অপরাজিত ১২৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংসের পর ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৬ ওয়ানডেতে করেছিলেন ৫৪, ৩৪, ৪০, ২৭, অপরাজিত ৮৮ ও ৯০ রান।
কিন্তু হঠাৎ যেন খেই হারিয়ে ফেলেছিলেন সৌম্য। দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের পর জাতীয় দলের হয়ে প্রায় দেড় বছর ভালো কোনও ইনিংস ছিল না। তবু তার ওপরে আস্থা রেখেছেন নির্বাচকরা। আস্থার প্রতিদান দিয়ে তিনি ছন্দে ফিরেছেন এ বছরের শুরুতে নিউজিল্যান্ড সফরে। নিউজিল্যান্ডে শেষ টেস্টে সুযোগ পেয়ে খেলেছিলেন ৮৬ ও ৩৬ রানের ইনিংস। শেষ দুটো টি-টোয়েন্টিতেও ৩৯ ও ৪২ রানের দুটো ভালো ইনিংস এসেছিল তার ব্যাট থেকে।
কিন্তু বাংলাদেশ যে ফরম্যাটে সবচেয়ে সফল, সেই ওয়ানডেতে কিছুতেই সাফল্য পাচ্ছিলেন না সৌম্য। টানা ৭ ওয়ানডেতে তার রান ছিল ০, ২০, ১১, ১, ১০, ৩৮ ও ৫। অবশেষে বুধবার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পেয়েছেন বহু আকাঙ্ক্ষিত হাফসেঞ্চুরি। ৬৭ বলে খেলা ৬১ রানের চমৎকার ইনিংসটি সাজানো ৫টি চারে। বিস্ময়করভাবে, প্রায় দুই বছর পর ওয়ানডেতে এটা তার প্রথম হাফসেঞ্চুরি! ওয়ানডে ক্যারিয়ারের পঞ্চম হাফসেঞ্চুরি নিশ্চয়ই আগামী দিনগুলোতে অনুপ্রাণিত করবে সৌম্য সরকারকে।
/আরআই/এএআর/








