১৩৪ টেস্ট, ৪০৪ ওয়ানডে ও ৫৬ টি-টোয়েন্টি খেলা কুমার সাঙ্গাকারা দ্যুতি ছড়িয়েছেন ক্যারিয়ারে। যার দ্যুতিময় ক্যারিয়ারে রয়েছে ২৮ হাজার ১৬ রান। রয়েছে ৬৩টি সেঞ্চুরি ও ১৪৫টি হাফসেঞ্চুরি। সাবেক উইকেটরক্ষক শ্রীলঙ্কান এই ব্যাটসম্যান জিতেছেন ২০০২ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি। আর ২০১৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপতো রয়েছেই। সেই শ্রীলঙ্কান তারকাই লিখেছেন আইসিসির বিশেষ কলামে। পাঠকদের জন্য সংক্ষিপ্ত আকারে তা তুলে ধরা হলো-
আর একদিন পরেই পর্দা উঠবে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির। ওয়ানডের দ্বিতীয় নামজাদা এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশকে আসল ‘ডার্ক হর্স’ হিসেবেই দেখছেন শ্রীলঙ্কান কিংবদন্তি কুমার সাঙ্গাকারা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলে দিলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে তার রয়েছে সেই ক্ষুরধার পারফরম্যান্স। যার প্রমাণ সম্প্রতি কাউন্টি ক্রিকেটেই দেখা গেছে। সেই কুমার সাঙ্গাকারা বাংলাদেশকে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে দেখছেন এভাবেই, ‘বাংলাদেশ এবারের ডার্ক হর্স। ওরা অনেক আশা ও প্রতিজ্ঞা নিয়ে এখানে এসেছে। প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের অধীনে দ্রুততম উন্নতি করেছে। যা দু বছরেই দেখতে পেরেছি। বলতে গেলে হাথুরুসিংহে খুবই ভাগ্যবান যে তিনি কিছু ক্ষুধার্ত ও প্রতিভাবান খেলোয়াড় পেয়েছেন।’
বাংলাদেশের উন্নতি ও আত্মবিশ্বাসই তাদের ম্যাচ জেতাতে শিখিয়েছে বলে মনে করেন সাঙ্গাকারা, ‘ওরা শিখছে কীভাবে জিততে হয়। আর এটাই প্রতিপক্ষের জন্য অনেক ভয়াবহ।। আমি জানি না ওরা কতদূর যাবে, তবে আমি নিশ্চিত যে ওরা থাবা মারবেই।’
নিজ দেশ শ্রীলঙ্কা সম্পর্কে সাঙ্গাকারা অবশ্য আত্মবিশ্বাসী। তারা এমন বড় টুর্নামেন্টে ভালো কিছু করে দেখানোর ঐতিহ্য রাখে বলেই মনে করেন সাঙ্গাকারা, ‘শ্রীলঙ্কার এ ধরনের বড় টুর্নামেন্টে ভালো কিছু করার ঐতিহ্য আছে। আশা করছি ওরা এবারও সেই ধারাটা বজায় রাখবে। ওরা এখনও অনঅভিজ্ঞ ও তরুণ। আর তাতেই প্রত্যাশার চাপ থাকবে নিচুতে। আমার মনে হয় এটাই তাদের নির্ভার থাকতে সাহায্য করবে। যাকে দিয়ে ওরা নিজেদের মেলে ধরবে সহজেই।’
অবশ্য এক্ষেত্রে লাসিথ মালিঙ্গাকে আসল অস্ত্র হিসেবেই দেখছেন লঙ্কানদের জন্য, ‘২০১৫ সালের পর লাসিথ মালিঙ্গা ফিরেছে। আর এটা লঙ্কান শিবিরে আলাদা প্রেরণা যোগাচ্ছে। মনে হয়েছে আইপিএল দিয়ে ও আরও ধারালো হয়ে ফিরে এসেছে। ইংলিশ কন্ডিশনে নুয়ান কুলাসেকারার সঙ্গে ওর জুটি অনেক দক্ষতর হয়ে দেখা দেবে। আর এটাই মনে করি আত্মবিশ্বাস যোগাবে’
গতবারের চ্যাম্পিয়ন ভারত হলেও অস্ট্রেলিয়াকেই সবচেয়ে শক্তিশালী শিরোপার দাবিদার মনে করেন সাঙ্গাকারা। তার মতে, ‘অস্ট্রেলিয়াই সবচেয়ে শক্তিশালী ও শিরোপার দাবিদার। ওয়ানডেতে খুব দেরিতে নিজেদের তুলে ধরলেও ওরাই কিন্তু সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ দল। ওদের ব্যাটসম্যানরাও যেমন ফর্মে, তেমন বোলিং আক্রমণও শক্তিশালী।’
অবশ্য এক্ষেত্রে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারতকেও বিশেষভাবে মনে রেখেছেন সাঙ্গাকারা। কারণ এশিয়ান অঞ্চলে ওরাই একমাত্র ফুল প্যাকেজ নিয়ে টুর্নামেন্টে এসেছে। তাই তাদেরকে আলাদা করেই রাখলেন তিনি, ‘ওরা ২০১৩ সালের চ্যাম্পিয়ন। ওদের এবারও জেতার মতো শক্তি-সামর্থ আছে। ওরা সব বিভাগেই ভারসাম্যপূর্ণ।স্পিনার অশ্বিন ও জাদেজা ওয়ানডের জন্য আলাদাভাবেই নজরে থাকবে। আমি নিশ্চিত যে আইপিএলে নিজের ছায়া হয়ে থাকা বিরাট কোহলি এবার কিন্তু ঘুরে দাঁড়াবেই।’
বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কাকে শিরোপার দৌড়ে এগিয়ে রাখলেও পাকিস্তানকে সেভাবে দেখতে নারাজ সাঙ্গাকারা। সাম্প্রতিক ফর্মেই পাকিস্তানকে সেভাবে দেখেছেন না তিনি, ‘ওরা আসলে সেভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঝাঁজ তুলতে হয়তো পারবে না। তবে ওরা কিন্তু কোচ মিকি আর্থারের অধীনে ভালোই এগিয়েছে। ছেলেদের মাঝে খেলাটি নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে কাজ করে যাচ্ছে। যা তাদের প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের শক্তিশালী করে তুলছে। আর এটাই কিন্তু হুমকি হয়ে ধরা দিতে পারে।’
/এফআইআর/







