ক্রিকেটের লম্বা সূচির কারণে বিশ্রামের খুব একটা সুযোগ হয় না সাকিব আল হাসানের। এ জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কাছে ৬ মাসের ছুটি চেয়েছিলেন তিনি। বিসিবি অবশ্য পুরো ছুটি মঞ্জুর না করলেও তিন মাসের ছুটি দিয়েছে তাকে। তাই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুই টেস্টের জন্য ঘোষণা করা স্কোয়াডে নেই সাকিব। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের এই সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানো উচিত বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু।
সাকিব প্রোটিয়াদের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের স্কোয়াডে না থাকলেও বিসিবি বিকল্প একটা পথ রেখে দিয়েছে তার জন্য। সামনের কয়েক দিনে ‘ক্লান্তি’ কাটিয়ে উঠতে পারলে দ্বিতীয় টেস্টে ফেরার দরজাটা খোলা আছে সাকিবের জন্য। এ ব্যাপারে প্রধান নির্বাচক বলেছেন, ‘সাকিব ছুটি চেয়েছে। এ জন্য দুই টেস্টে তাকে দলে রাখা হয়নি। তবে ও (সাকিব) যদি স্বস্তিবোধ করে, তাহলে দ্বিতীয় টেস্টে দলের সঙ্গে যোগ দিতে পারবে।’
কঠিন একটা সিরিজের আগে দলের সেরা ক্রিকেটারের ছুটি বেশ ভালোই ভোগাবে বাংলাদেশকে। দক্ষিণ আফ্রিকায় সবশেষ সফরে তার পরিসংখ্যান দেখলেই বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে। ২০০৮ সালে তরুণ সাকিব দুই টেস্টে ১১ উইকেট নিয়ে প্রোটিয়া ব্যাটসম্যানদের নিয়েছিলেন কঠিন পরীক্ষা। সেই সাকিব এখন আরও বেশি অভিজ্ঞ, আরও বেশি পরিণত। অথচ ৯ বছর পর দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাওয়া বাংলাদেশ বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডারের সেবা পাচ্ছে না। বিষয়টি দলের জন্য দূর্ভাগ্যজনক হলেও সাকিবের এই সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানো উচিত বলে মনে করেন নান্নু, ‘অবশ্যই সাকিবের না থাকাটা আমাদের জন্য চিন্তার বিষয়। দল নির্বাচন করার সময় তো ওর নামটা সবার আগে লিখতে হয়। কিন্তু ওর মানসিক ব্যাপারটাও ভাবতে হবে। আমি যেহেতু খেলোয়াড় ছিলাম, আমি জানি মানসিকভাবে শতভাগ ফিট না থাকলে কিন্তু পারফরম্যান্স শতভাগ ভালো হয় না। সে হিসেবে ওর সিদ্ধান্তটাকে সম্মান জানানো উচিত।’
বাংলাদেশের সবচেয়ে ব্যস্ত ক্রিকেটার সাকিব যে সাকিব, এ ব্যাপারে কারও কোনও সন্দেহ নেই। জাতীয় দলের বাইরে বিশ্বের প্রায় সব দেশের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টিতে নিয়মিত মুখ তিনি। সবমিলিয়ে সাকিবের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হওয়াটাই স্বাভাবিক। সাকিবকে হারিয়ে নিশ্চিতভাবেই অনেকটা পিছিয়ে থাকবে বাংলাদেশ। তবে প্রধান নির্বাচকের আশা সাকিবের অনুপস্থিতি কষ্ট করে হলেও পূরণ করতে হবে, ‘সে অনেক দিন ধরেই সব ফরম্যাটে খেলছে। তাই ওর বিশ্রামও দরকার। ও মানসিকভাবে শক্তিশালী নয় এই মুহূর্তে। ও তাই বিশ্রাম চেয়েছে। ওকে না পাওয়াতে আমরা তো ব্যাকফুটে থাকবই, তবে ম্যানেজ করতে হবে।’
গুরুত্বপূর্ণ একটি সিরিজ শুরু হওয়ার আগে সাকিবের এভাবে ছুটি চাওয়াটা কিভাবে দেখছেন, এমন প্রশ্নে প্রধান নির্বাচক বলেছেন, ‘ও তো সারা বিশ্বে সব জায়গায় খেলছে। লম্বা বিরতি কিন্তু পায় না। এ কারণেই ছুটি চেয়েছে। দুই টেস্টের জন্য তাই তাকে বিরতি দিয়েছি। হয়তো এরপরই বা একটা টেস্ট শেষেই দলের সঙ্গে যোগ দেবে। আমরা আশা করি সাকিব দ্রুতই ফিরবে।’







