পিংক ডেতে গোলাপি আভা ছড়িয়ে সবসময় জয়ের হাসি হেসেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু পাকিস্তানের বিপক্ষে চতুর্থ ওয়ানডেতে ঘটলো অভূতপূর্ব ব্যাপার। গোলাপি জার্সিতে প্রথমবার হার নিয়ে মাঠ ছাড়লো প্রোটিয়ারা।
জোহানেসবার্গে স্বাগতিকদের বিপক্ষে ৮ উইকেটে জিতে ৫ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ২-২ এ সমতা ফেরালো পাকিস্তান।
উসমান শিনওয়ারির দুরন্ত পেসে সফরকারীরা দক্ষিণ আফ্রিকাকে গুটিয়ে দেয় ১৬৪ রানে। জবাবে ৩১.৩ ওভারে ২ উইকেটে ১৬৮ রান করে তারা।
স্তন ক্যান্সারের ব্যাপারে সচেতনতা বাড়াতে ও অর্থ সহযোগিতার জন্য ২০১৩ সাল থেকে জোহানেসবার্গে হয়ে আসছে ‘পিংক ডে’ ম্যাচ। এদিন স্বাগতিক ক্রিকেটাররা খেলেন গোলাপি জার্সি পরে। গত ৭ বছরে এমন আয়োজনের ৬টি ম্যাচই জিতেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু এবার বাধ সাধলো ম্যাচের ঠিক আগ মুহূর্তে নিয়মিত অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদকে হারানো পাকিস্তান।
বর্ণবাদী আচরণের দায়ে সরফরাজ চার ম্যাচ নিষিদ্ধ হওয়ায় পাকিস্তানের নেতৃত্ব পান শোয়েব মালিক, টস জিতে নেন ফিল্ডিং। শাহীন শাহ আফ্রিদির বোলিংয়ে শুরুতেই উইকেট উদযাপন। পাকিস্তানি পেসারের প্রথম ওভারে উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। নিজের শততম ওয়ানডেতে ৭ বল খেলে শূন্য রানে বিদায় নেন কুইন্টন ডি কক।
রিজা হেন্ড্রিকসও বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি ক্রিজে। মাত্র ২ রান করে শাহীন শাহের শিকার হন তিনি। ১৮ রানে ২ উইকেট হারানো দক্ষিণ আফ্রিকা স্বস্তি পায় হাশিম আমলা ও ফাফ দু প্লেসিসের একশ ছাড়ানো জুটিতে।
কিন্তু প্রোটিয়াদের ব্যাটিং অর্ডারে ধস নামে দু প্লেসিস আউট হলে। স্বাগতিক অধিনায়ককে মোহাম্মদ হাফিজের ক্যাচ বানিয়ে ১০১ রানে এই জুটি ভাঙেন শাদাব খান। দু প্লেসিস ৫৭ রানে আউট হন। ইনিংস সেরা ৫৯ রান করে ইমাদ ওয়াসিমের কাছে বোল্ড হন আমলা।
৪৫ রানের ব্যবধানে শেষ ৮ উইকেট হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা। নিজের দ্বিতীয় স্পেলে শিনওয়ারি এক ওভারে ৩ উইকেট নিয়ে এই ধসে মূল ভূমিকা রাখেন। ২৫ বছর বয়সী এই বাঁহাতি পেসার ৭ ওভারে ৩৫ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন। দুটি করে নেন শাহীন শাহ ও শাদাব।
লক্ষ্যে নেমে ইমাম উল হক ও ফখর জামানের ৭০ রানের উদ্বোধনী জুটি দারুণ শুরু এনে দেন পাকিস্তানকে। ৪৪ বলে ৪৪ রান করে ফখর বিদায় নেন। এরপর ইমাম ও বাবর আজমের ৯৪ রানের জুটি জয়কে তাদের হাতের নাগালে এনে দেয়।
লক্ষ্য থেকে মাত্র ১ রান দূরে থাকতে ইমাম আউট হন। পাকিস্তানি ওপেনার ৯১ বলে ৬ চার ও ১ ছয়ে ইনিংস সেরা ৭১ রান করেন। ক্রিজে নেমে প্রথম বলেই মোহাম্মদ রিজওয়ান বাউন্ডারিতে জয় নিশ্চিত করেন। ৪১ রানে অপরাজিত ছিলেন বাবর।
ম্যাচসেরা হয়েছেন শিনওয়ারি। আগামী ৩০ জানুয়ারি কেপটাউনে সিরিজের পঞ্চম ও শেষ ওয়ানডে হবে। ক্রিকইনফো








