একটা সময় মুখ দেখাদেখি পর্যন্ত বন্ধ ছিল। প্রশংসা করা তো দূরে থাক। মাঠের মতোই ছিল বাইরের অবস্থা। তবে সেই দৃশ্য বদলে ইদানীং পাকিস্তানি সাবেক ক্রিকেটারদের মুখে ভারতীয়দের প্রশংসা ঝরে। যার সবশেষ সংযুক্তি সাকলায়েন মুশতাক। এই কিংবদন্তি স্পিনারের মুখে ফুটেছে সাবেক ভারতীয় ওপেনার বীরেন্দর শেবাগের স্তুতি।
খেলোয়াড়ি জীবনে শেবাগের মুখোমুখি হয়েছেন সাকলায়েন। খুব ভালো করেই জানেন আগ্রাসী ব্যাটসম্যানের সামর্থ্য সম্পর্কে। সাবেক পাকিস্তানি অফ স্পিনারের মতে, বর্তমান ক্রিকেটে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের যে দাপট চলছে, তার বীজ বুনে দিয়েছিলেন এই শেবাগ। গতানুগতিক ধারায় না হেঁটে শুরু থেকেই বোলারদের শাসন করার ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদেন নতুন দিশা দেখিয়েছেন শেবাগ।
শেবাগ কতটা আগ্রাসী ছিলেন, সেটা তার স্ট্রাইকরেটে চোখ দিলেই স্পষ্ট হয়- টেস্টে ৮২.২, ওয়ানডেতে ১০৪.৩ ও টি-টোয়েন্টিতে ১৪৫.৩ স্ট্রাইকরেট। তার আক্রমণাত্মক ব্যাটিং ভারতের ব্যাটিংয়ের ধাঁচ পাল্টে দিয়েছে বলে মনে করেন সাকলায়েন। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে কিংবদন্তি স্পিনার বলেছেন, ‘মনে রাখবেন বীরেন্দর শেবাগ ক্রিকেট বিশ্বে যে প্রভাব ফেলেছিলেন, যেভাবে তিনি খেলেছেন, যে ধাঁচে তিনি ব্যাট করেছেন, ভারতের অনেক খেলোয়াড় তাতে লাভবান হয়েছেন। ব্যাটিংয়ে যে পদ্ধতি তিনি বিশ্বকে দেখিয়েছেন, ভারতীয় ক্রিকেটের মাইন্ডসেট ও তাদের ক্রিকেটারদের বদলে দিয়েছে।’
‘দুসরা’র জনক সাকলায়েন তুলনায় দাঁড় করিয়েছেন শেবাগ ও রোহিত শর্মাকে। রোহিতের রেকর্ড শেবাগের তুলনায় ভালো হলেও তার খেলার ‘দ্বার’ শেবাগই খুলে দিয়েছিলেন বলে তার বক্তব্য, ‘শেবাগ ডাবল সেঞ্চুরি করলো, তাতে খেলোয়াড়দের মধ্যে বিশ্বাস জন্মালো এটা সম্ভব। যেমন রোহিত শর্মা। আসলে শেবাগের ব্যাটিং দেখে রোহিত শিখেছে।’
সঙ্গে যোগ করলেন, ‘রোহিতের পরিসংখ্যান হয়তো শেবাগের চেয়ে ভালো। তবে তার এই অর্জনের নেপথ্যে আছে ভীরু। শেবাগের আগে মাত্র দুই-একজন ক্রিকেটার এভাবে ব্যাট করেছে, যার মধ্যে আছেন ভিভ রিচার্ডস এবং জহির আব্বাস।’








