হারারেতে একমাত্র টেস্টে ৭৫ রানের ইনিংস খেলার পথে দারুণ এক জুটি উপহার দিয়েছেন তাসকিন আহমেদ। মাত্র চার রানের জন্য যা বিশ্বরেকর্ড হয়নি। ১৯৯৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার দুই ব্যাটসম্যান মার্ক বাউচার ও প্যাট সিমকক্স মিলে নবম উইকেটে ১৯৫ রানের জুটি গড়েছিলেন। কিন্তু মাহমুদউল্লাহ-তাসকিন পেরেছেন ১৯১ রানের জুটি গড়তে।
এটি বিশ্বরেকর্ড না হলেও বাংলাদেশের জন্য রেকর্ড। নবম উইকেটে আবুল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ ২০১২ সালে খুলনায় ১৮৪ রান করেছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বৃহস্পতিবার ওটাকে টপকে গেছে মাহমুদউল্লাহ-তাসকিনের জুটি।
মূলত মাহমুদউল্লাহ-তাসকিন জুটির আলো ছড়ানো ব্যাটিংয়ে সাড়ে চারশ’ ছাড়াতে পেরেছে বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম দিনের শেষ বিকালে মেহেদী হাসান মিরাজের বিদায়ের পর ছিলেন না আর কোনও বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যান। মাহমুদউল্লাহ থাকলেও সঙ্গীর অভাবে তিনি হয়তো স্কোর বেশি দূর নিতে পারবেন না- এই ভাবনা ছিল দিন শেষে। কিন্তু দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনে ভাবনা পুরো পাল্টে দিয়েছিলেন তাসকিন। ১৩ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শুরু করে অসাধারণ সব শট খেলেছেন।
টপ অর্ডারে থাকা সাইফ হাসান-নাজমুল হোসেন-সাদমান ইসলামরা যা পারলেন না, সেটিই করে দেখালেন এই পেসার। দুই দিন মিলিয়ে প্রায় তিনঘণ্টার বেশি সময় জিম্বাবুয়ে বোলারদের নিয়ে তিনি ছেলেখেলায় মেতে উঠেছিলেন। তিনি দেখালেন কীভাবে টেস্ট উইকেট আঁকড়ে পড়ে থাকতে হয়। যেটি করতে পারেননি সাইফদের মতো প্রতিষ্ঠিত ব্যাটসম্যানরা। বৃহস্পতিবার ব্যাটিং সত্তা জানান দিতে গিয়ে তাসকিন খেলেছেন ৭৫ রানের দারুণ এক ইনিংস।
অথচ তাসকিনের আসল কাজ বোলিং। ফিটনেস সমস্যা ও চোট কাটিয়ে শ্রীলঙ্কা সিরিজেই নিজেকে নতুন করে চিনিয়েছিলেন। এবার ব্যাটসম্যান হিসেবে নিজেকে নতুন করে চেনালেন। জিম্বাবুয়ে সফরে বোলিং পরীক্ষায় নামার আগে পুরোদস্তুর ব্যাটসম্যানশিপের পরিচয় দিয়েছেন। দেখে বোঝার উপায় নেই যে তিনি আসলে একজন বিশেষজ্ঞ বোলার!
এই ব্যাটিং দিয়েই তুলে নিয়েছেন ক্যারিয়ারের প্রথম হাফসেঞ্চুরি। ২০১৭ সালে ক্রাইস্টচার্চে এর আগে করেছিলেন ৩৩ রান, সেটিই ছিল টেস্টে তার সর্বোচ্চ স্কোর। আজ সেটিকেও ছাড়িয়ে গেছেন। আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেটে যেকোনও ফরম্যাটে এটাই তার প্রথম হাফসেঞ্চুরি। ৬৮ বলে ৮টি চারে ৫০ পূর্ণ করেন তাসকিন। শেষ পর্যন্ত ১৩৪ বল খেলে ৭৫ রানে থেমেছেন। অবশ্য ৭৫ রানের ইনিংস খেলার পথে দুইবার জীবনও পেয়েছেন। রিচার্ড এনগারাভার বলে দ্বিতীয় স্লিপে পড়েছে তার ক্যাচ। এছাড়া হাফসেঞ্চুরির পর রান আউট মিস হয়েছে।
টেস্টে নবম উইকেটে বিশ্বসেরা পাঁচ জুটি
১) মার্ক বাউচার-প্যাট সিমকক্স- ১৯৫ রান (দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম পাকিস্তান, জোহেন্সবার্গ, ১৯৯৮)
২) মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ-তাসকিন আহমেদ- ১৯১ রান (বাংলাদেশ বনাম জিম্বাবুয়ে, হারারে, ২০২১)
৩) আসিফ ইকবাল-ইন্তিখাব আলম- ১৯০ রান (পাকিস্তান বনাম ইংল্যান্ড, দ্য ওভাল, ১৯৬৭)
৪) মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ-আবুল হাসান রাজু- ১৮৪ রান (বাংলাদেশ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ, খুলনা, ২০১২)
৫) জেপি ডুমিনি- ডেল স্টেইন- ১৮০ রান (দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম অস্ট্রেলিয়া, মেলবোর্ন, ২০০৮)।









