মঈন আলীর তখনও ১ ওভার বাকি। কিন্তু দারুণ ছন্দে থাকা ইংলিশ স্পিনার সেসময় ডাগ আউটে। তাহলে ফরচুন বরিশালের হয়ে শেষ ওভার করবেন কে- আবু হায়দার রনি নাকি শহীদুল ইসলাম? অধিনায়ক ইমরুল কায়েস আস্থা রাখলেন শহীদুলের ওপর। সেই আস্থার প্রতিদান খুব ভালোভাবেই দেন এই পেসার। তার বুদ্ধিদীপ্ত বোলিংয়ে বরিশালকে ১ রানে হারিয়ে ২০২২ বিপিএলের শিরোপা ঘরে তোলে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স।
শেষ ওভারে বরিশালের প্রয়োজন ছিল ১০ রান। শহীদুলের প্রথম ৪ বলে মুজিব উর রহমান-তৌহিদ হৃদয় মিলে নিতে পারেন ৫। বাকি ২ বলে প্রয়োজন হয় ৫ রানের। টান টান উত্তেজনার এই সময়েই থার্ডম্যানে ক্যাচ তুলে দেন হৃদয়। কিন্তু কুমিল্লার ফিল্ডার তানভীর ইসলাম ক্যাচটা নিতে পারেননি। যে বলে হৃদয়ের আউট হওয়ার কথা, সেই বলে পেয়ে যান গুরুত্বপূর্ণ ২ রান! ফলে শেষ বলে প্রয়োজন দাঁড়ায় ৩ রানের। কিন্তু হৃদয় ২ রান নিতে গিয়ে রান আউট হলে কুমিল্লা তৃতীয় শিরোপার স্বাদ পেয়ে যায়।
শেষ ওভারের পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে ইমরুল জানিয়েছেন, শহিদুলের প্রতি তার অগাধ আস্থার কথা। এই পেসারের মধ্যে মধ্যে তখন আত্মবিশ্বাসের বীজ বুনে দিয়েছিলেন তিনি এভাবে, “মানুষের জীবনে হিরো হওয়ার সুযোগ সবসময় আসে না। আমি বিদেশিদের বিশ্বাস করতে চাই না! আমি চাই তুই এই ম্যাচ জিতাবি।’ আমি বলে দিয়েছিলাম কোন বলটা কীভাবে করতে হবে, সে সেটাই করেছে। যার জন্য আমারও ফিল্ডিং সেটআপ করতে সুবিধা হয়েছে।’
জয়ের আগ মুহূর্তে হৃদয়ের ক্যাচ ফেলেছিলেন তানভীর। ওই বলে ২ রান যোগ হয় বরিশালের স্কোরবোর্ডে। ক্যাচ মিস হওয়ার পর জয়ের আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন ইমরুল, ‘ওই অবস্থায় ক্যাচ ড্রপ হলে অবশ্যই ভেতরে নেগেটিভ চিন্তা কাজ করবে। ১ বলে যদি ৮ রান থাকে, সেটা ভিন্ন বিষয়। কিন্তু ১ বলে যদি ৩ রান হয়, যেকোনও ভাবে ম্যাচ বেরিয়ে যেতে পারে। আমি একটু আপসেট হয়ে গিয়েছিলাম। ফাইনালি শেষ বলটা ভালো জায়গায় করেছিল, যে কারণে সব সম্ভব হয়ে যায়।’








